শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, পোশাক শ্রমিকদের মজুরি বোর্ড গঠনের প্রজ্ঞাপন শিগগিরই জারি হবে। শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধিদের নাম হাতে পাওয়ার দুই দিনের মধ্যেই প্রজ্ঞাপন দেওয়া হবে বলে তিনি জানান। মঙ্গলবার ঢাকার সিরডাপ আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে শ্রম পরিস্থিতি নিয়ে এক বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রীর ভাষায়, সরকার এখন শুধু শ্রমিকদের মনোনীত প্রতিনিধিদের নামের অপেক্ষায় আছে। অনুষ্ঠানে শ্রম মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুর রহমান তরফদারও উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রী জানান, মালিকপক্ষ এরই মধ্যে তাদের প্রতিনিধিদের নাম জমা দিয়েছে। এখন বাকি শুধু শ্রমিকপক্ষের তালিকা। এই তালিকা এলেই পোশাক শ্রমিকদের মজুরি বোর্ড আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করতে পারবে। মজুরি বোর্ড মালিক, শ্রমিক ও নিরপেক্ষ সদস্যদের নিয়ে গঠিত হয়। বোর্ডই আলোচনা করে খাতের নতুন ন্যূনতম মজুরির সুপারিশ তৈরি করে। সর্বশেষ ২০২৩ সালে পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এরপর তিন বছরে সংসারের খরচ অনেক বেড়েছে। তাই শ্রমিকেরা দীর্ঘদিন ধরে মজুরি বাড়ানোর দাবি জানিয়ে আসছেন। মজুরি বোর্ডের বৈঠকেই সেই দাবির আনুষ্ঠানিক শুনানি হবে।
বৈঠকে মন্ত্রী মালিকদের প্রতি শ্রমিকদের বকেয়া বেতন দ্রুত পরিশোধের আহ্বান জানান। সময়মতো বেতন পেলে শ্রমিকদের রাস্তায় নামার প্রয়োজনও কমে আসে। একই সঙ্গে তিনি শ্রমিকদের আন্দোলনের নামে সড়ক অবরোধ না করার অনুরোধ করেন। তাঁর মতে, রাস্তা আটকে দিলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ে। মন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, শিল্পাঞ্চলে বাইরের কোনো পক্ষকে বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে দেওয়া হবে না। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে গাজীপুরসহ কয়েকটি শিল্প এলাকায় বেতন ও বোনাসের দাবিতে শ্রমিকেরা রাস্তায় নেমেছেন। সেই প্রেক্ষাপটেই এই বৈঠক ডাকা হয়।
বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তৈরি পোশাক খাত দেশের রপ্তানি আয়ের সবচেয়ে বড় উৎস। এই খাতে লাখ লাখ মানুষ কাজ করেন, যাদের বড় অংশ নারী। মজুরি নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলে কারখানায় অসন্তোষ বাড়ে। তাতে উৎপাদন ব্যাহত হয়, সময়মতো চালান পাঠানো কঠিন হয়ে পড়ে। বিদেশি ক্রেতারাও স্থিতিশীল কারখানা দেখতে চান। তাই পোশাক শ্রমিকদের মজুরি বোর্ড দ্রুত গঠিত হলে মালিক ও শ্রমিক দুই পক্ষের জন্যই আলোচনার একটি আনুষ্ঠানিক পথ খুলবে। রাস্তার বদলে টেবিলে বসে সমাধান খোঁজার সুযোগ তৈরি হবে। শ্রমিকদের ক্ষোভও তখন একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মধ্যে আসবে। আর মালিকেরাও আগাম জানতে পারবেন, সামনে খরচের হিসাব কেমন দাঁড়াতে পারে।
এখন নজর শ্রমিক সংগঠনগুলোর দিকে। তারা কত দ্রুত প্রতিনিধির নাম চূড়ান্ত করে, তার ওপরই নির্ভর করছে প্রজ্ঞাপনের সময়। প্রজ্ঞাপন জারির পর বোর্ড বৈঠকে বসবে এবং দুই পক্ষের প্রস্তাব শুনবে। নতুন মজুরি কত হবে, তা নিয়েই শুরু হবে আসল দর-কষাকষি। মালিকেরা চাইবেন খরচের চাপ সামলানোর মতো একটি অঙ্ক। শ্রমিকেরা চাইবেন এমন মজুরি, যাতে বাড়িভাড়া, খাবার আর সন্তানের পড়ার খরচ চালানো যায়। দুই দিকের হিসাব মিলিয়ে একটি ন্যায্য অঙ্কে পৌঁছানোই পোশাক শ্রমিকদের মজুরি বোর্ডের সামনে বড় পরীক্ষা।












