বাংলাদেশ ব্যাংক পেমেন্ট প্রতিষ্ঠান ডিজিপেকে ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশ বা এনপিএসবি থেকে বিচ্ছিন্ন করেছে। ২৯ অক্টোবর থেকে এই বিচ্ছিন্নতা কার্যকর হয়েছে। ব্যাংকের ভাষ্য, পরিদর্শনে সেবা ভারত থেকে দেওয়ার মতো নিরাপত্তা ঝুঁকি ধরা পড়েছে। ডিজিপে এনপিএসবি থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ায় এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির লেনদেন ব্যাহত হয়েছে।
এনপিএসবি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মালিকানাধীন ও পরিচালিত আন্তঃব্যাংক ডিজিটাল পেমেন্ট নেটওয়ার্ক। সহজ ভাষায়, এটি এমন একটি সংযোগ ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে এক ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট থেকে অন্য ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে ডিজিটাল লেনদেন চলে। এই নেটওয়ার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান সেই পথে লেনদেন করতে পারে না।
পেমেন্ট সিস্টেম অপারেটর বা পিএসও হলো এমন প্রতিষ্ঠান, যারা বাংলাদেশ ব্যাংকের লাইসেন্স নিয়ে ডিজিটাল লেনদেনের সেবা দেয়। ডিজিপে কার্ড প্রসেসিং ও পেমেন্ট গ্রহণের সেবা দেয়। দোকান ও অনলাইন প্রতিষ্ঠান, অর্থাৎ মার্চেন্টরা এই সেবা নিয়ে পিওএস মেশিন, কিউআর কোড ও ই-কমার্সে টাকা গ্রহণ করে। প্রতিষ্ঠানটির মার্চেন্ট সংখ্যা ৬০০ থেকে ১ হাজারের মধ্যে। ২০২৩ সালের আগস্টে প্রতিষ্ঠানটি পেমেন্ট সিস্টেম অপারেটরের লাইসেন্স পায়। অর্থাৎ বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি নিয়েই তারা কাজ করছিল।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, ডিজিপে লাইসেন্সের আওতায় পেমেন্ট সেবা দিচ্ছিল। পরিদর্শনে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটি ভারত থেকে সেবা দিচ্ছিল। বিষয়টি ধরা পড়ার সঙ্গে সঙ্গে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। তবে লাইসেন্স বাতিল করা হয়নি। পর্যবেক্ষণ ও আরও প্রক্রিয়া শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ব্যাংকের ভাষ্য, তদন্তে সময় লাগবে, তাই এই বিচ্ছিন্নতা প্রাথমিক পদক্ষেপ।
ব্যাংকের আরও বক্তব্য, দেশের বাইরে থেকে পরিচালিত প্রতিষ্ঠান ডেটার গোপনীয়তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক নাগরিকদের তথ্যের নিরাপত্তাকে সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
ডিজিপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী রাশেদ মাহমুদ বলেন, তিনি বিষয়টি জানতে পারেন ১ নভেম্বর। তাঁর দাবি, সিস্টেম তৈরি করেছে ভারতভিত্তিক একটি গবেষণা দল। তাদের শুধু উন্নয়নের কাজের জন্য প্রবেশাধিকার আছে। এখন পর্যন্ত কোনো নিরাপত্তা লঙ্ঘন ঘটেনি বলেও তিনি জানান। তাঁর ভাষ্য, শুধু এনপিএসবির লেনদেন ব্যাহত হয়েছে, বাকি সেবা চালু আছে।
দুই পক্ষের মতভেদ জনবল নিয়েও। ব্যাংকের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটিতে আলাদা কোনো ডেটাবেজ অ্যাডমিনিস্ট্রেটর নেই। একজন কর্মী অন্য দায়িত্বের পাশাপাশি এ কাজ করেন। ব্যাংক চায় প্রতিটি পদের জন্য আলাদা কর্মী থাকুক। রাশেদ মাহমুদ বলেন, এই শর্ত বাস্তবসম্মত নয়, কারণ এখন একজন কর্মী তিন-চারজনের কাজ করেন। তিনি আরও জানান, ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং সমস্যা মেটানোর চেষ্টা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে ডিজিপে এনপিএসবি থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনার ক্রম এমন। ২৯ অক্টোবর সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়। ১ নভেম্বর প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী বিষয়টি জানতে পারেন। ৪ নভেম্বর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
আপাতত ডিজিপের লাইসেন্স বহাল আছে। এখন দেখার বিষয়, পর্যবেক্ষণ শেষে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কী সিদ্ধান্ত নেয়। ডিজিপে এনপিএসবি থেকে বিচ্ছিন্ন থাকবে, নাকি শর্ত মেনে ফিরবে, তা নির্ভর করছে সেই সিদ্ধান্তের ওপর। মার্চেন্ট ও গ্রাহকদের জন্য এই সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তাঁদের লেনদেন এই ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে।









