যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বড় জয়ের পর ডলারের দরপতন এবং মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের সুদহার কমে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম বেড়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) মূল্যবান এই ধাতুর দাম প্রায় ২ শতাংশ বেড়ে দুই সপ্তাহের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময়ের হিসাবে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স স্পট স্বর্ণের দাম ১ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ১৩৪ ডলার ৮৩ সেন্টে দাঁড়ায়। গত ২২ অক্টোবরের পর এটিই স্বর্ণের সর্বোচ্চ দাম। এর আগের দিন বুধবার স্বর্ণের দাম বেড়েছিল প্রায় ৩ দশমিক ৪ শতাংশ। গত ১৯ আগস্টের পর এক দিনে এটিই ছিল সবচেয়ে বড় দরবৃদ্ধি।
যুক্তরাষ্ট্রে ডিসেম্বর মাসে সরবরাহের জন্য স্বর্ণের ফিউচার মূল্যও ১ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৪৪ ডলার ২০ সেন্টে পৌঁছেছে।
ডলারের দুর্বলতায় চাঙা স্বর্ণের বাজার
মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বড় জয়ের পর মার্কিন রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা কিছুটা কমেছে। এর প্রভাবে আন্তর্জাতিক শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রবণতা তৈরি হয়েছে এবং ডলারের দর কমেছে।
ডলারের দাম কমলে অন্য মুদ্রার ব্যবহারকারীদের জন্য ডলারে নির্ধারিত স্বর্ণ কেনা তুলনামূলক সস্তা হয়ে যায়। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের চাহিদা ও দামের ওপর ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।
একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি বন্ডের সুদহারও কমেছে। ১০ বছর মেয়াদি মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের সুদহার আগের রাতে ৬ ভিত্তি পয়েন্ট কমে যায়। টোকিওর লেনদেন শুরুর দিকে তা আরও ১ ভিত্তি পয়েন্ট কমে ৪ দশমিক ৮৭ শতাংশে নেমে আসে।
বাজার বিশ্লেষক লিন ট্রান মনে করেন, ডলারের দুর্বলতা এবং বন্ডের সুদহার কম থাকার কারণে স্বর্ণের দাম আবার ৪ হাজার ডলারের গুরুত্বপূর্ণ সীমার ওপরে উঠেছে। বিনিয়োগের প্রবাহ ও সুদহারের পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে দাম এই সীমার ওপরে স্থিতিশীল হতে পারে। সে ক্ষেত্রে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ২০০ ডলার এবং পরবর্তী সময়ে ৪ হাজার ৪০০ ডলারেও পৌঁছাতে পারে।
সুদের হার নিয়ে ফেডের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা
এখন বিনিয়োগকারীদের নজর শুক্রবার প্রকাশিত হতে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্থান প্রতিবেদনের দিকে। দেশটির কৃষি খাতের বাইরে নতুন কর্মসংস্থানের এই পরিসংখ্যান থেকে অর্থনীতির অবস্থা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের ভবিষ্যৎ সুদের নীতি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে।
বাজারে বর্তমানে ধারণা করা হচ্ছে, ডিসেম্বরের বৈঠকে ফেড সুদের হার বাড়াতে পারে। এ সম্ভাবনা ৮২ শতাংশ হিসেবে মূল্যায়ন করছেন লেনদেনকারীরা।
সুদের হার বাড়লে স্বর্ণের মতো কোনো সুদ বা মুনাফা না দেওয়া সম্পদে বিনিয়োগের সুযোগব্যয় বেড়ে যায়। ফলে বিনিয়োগকারীদের কাছে স্বর্ণের আকর্ষণ কমতে পারে। এ কারণে ভবিষ্যতে ফেডের সিদ্ধান্ত স্বর্ণের দামের গতিপথে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।
এদিকে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ব্যাংক সিটি বুধবার জানিয়েছে, আগামী তিন মাসে স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে। তাদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়া এবং ইয়েমেন-সৌদি আরব সংঘাত বছরের শেষ নাগাদ কমে এলে স্বর্ণের দামে উল্লেখযোগ্য উত্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও বেড়েছে
স্বর্ণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও বেড়েছে। বৃহস্পতিবার স্পট রুপার দাম ১ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৫৩ ডলার ১২ সেন্টে দাঁড়িয়েছে।
প্লাটিনামের দাম বেড়েছে ২ দশমিক ১ শতাংশ, প্রতি আউন্স ১ হাজার ৫২৭ ডলার ৬৫ সেন্টে। অন্যদিকে প্যালাডিয়ামের দাম ২ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৩০ ডলারে পৌঁছেছে।












