যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলে ইরান যুদ্ধ অবসানের সম্ভাবনা জোরালো হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমেছে। এর প্রভাবে ভারতের শেয়ারবাজার ও বন্ডবাজারে বড় ধরনের উত্থান দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছে দেশটির মুদ্রা রুপি।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ভারতের মুদ্রাবাজারে ডলারের বিপরীতে রুপির বিনিময়মূল্য দাঁড়ায় ৯৪ দশমিক ৫২। আগের দিনের তুলনায় রুপির মান বেড়েছে ০ দশমিক ১ শতাংশ। তবে বড় বিদেশি ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর ডলারের চাহিদা বাড়ায় রুপির আরও শক্তিশালী হওয়ার পথে বাধা তৈরি হয়েছে।
এর আগে বুধবার বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ৯ শতাংশ কমে যায়। বৃহস্পতিবার এশিয়ার বাজারেও দরপতন অব্যাহত থাকে। অক্টোবরের শেষ দিকে প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ১২০ ডলারে উঠেছিল। সেখান থেকে কমে সর্বশেষ ৯৩ দশমিক ৯৩ ডলারে নেমে আসে।
তেলের দাম কমার ইতিবাচক প্রভাব পড়ে ভারতের শেয়ারবাজারেও। দেশটির প্রধান শেয়ারসূচকগুলো প্রায় ২ শতাংশ বেড়েছে। একই সঙ্গে সরকারি বন্ডের বেঞ্চমার্ক মুনাফার হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
যুদ্ধের ধাক্কায় দুর্বল হয়েছিল রুপি
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান যুদ্ধ শুরুর পর মার্চের প্রথম দিক থেকেই চাপের মুখে রয়েছে ভারতীয় মুদ্রা। গত মে মাসে ডলারের বিপরীতে রুপির বিনিময়মূল্য নেমে গিয়েছিল ৯৬ দশমিক ৯৬-এ, যা ছিল এ যাবৎকালের সর্বনিম্ন।
পরিস্থিতি সামাল দিতে ভারত সরকার বেশ কিছু পদক্ষেপ নেয়। এর মধ্যে রয়েছে বিদেশে বসবাসকারী তিন কোটির বেশি ভারতীয়ের কাছ থেকে ডলার প্রবাহ বাড়ানোর উদ্যোগ এবং রুপির দরপতনের ঝুঁকি মোকাবিলায় আগাম মুদ্রা লেনদেনের চাহিদা সীমিত করার ব্যবস্থা। এসব পদক্ষেপে মুদ্রাবাজার কিছুটা স্থিতিশীল হয়েছে। তারপরও চলতি বছরে ডলারের বিপরীতে রুপির মূল্য প্রায় ৫ শতাংশ কম রয়েছে।
ভারতের জন্য জ্বালানি তেলের দাম বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। দেশটির মোট চাহিদার প্রায় ৯০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল আমদানি করতে হয়। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লে ভারতের আমদানি ব্যয় এবং অর্থনীতির ওপর চাপ তৈরি হয়।
বৈশ্বিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান এমইউএফজি এক বিশ্লেষণে জানিয়েছে, তেলের দাম কমায় জ্বালানি আমদানিনির্ভর এশীয় অর্থনীতিগুলোর বাণিজ্যিক শর্তের ওপর চাপ কমবে। উচ্চ জ্বালানি দামের কারণে যেসব বিনিয়োগ কৌশল তৈরি হয়েছিল, সেগুলো পুনর্বিবেচনার সুযোগও তৈরি হতে পারে।
এদিকে বৈশ্বিক বাজারে ডলার সূচকও ০ দশমিক ২ শতাংশ কমেছে। অধিকাংশ এশীয় মুদ্রার মান বেড়েছে। তবে দক্ষিণ কোরিয়া ও তাইওয়ানের প্রযুক্তিনির্ভর প্রধান শেয়ারসূচকগুলোতে দরপতন দেখা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের নতুন আইনপ্রণেতারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে পারেন—এমন আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিশ্ববাজারে তেলের দাম আরও কমলে ভারতের মতো জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলো স্বস্তি পেতে পারে। তবে রুপির স্থায়ী পুনরুদ্ধার নির্ভর করবে তেলের বাজারের গতিপথ, ডলারের চাহিদা এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির ওপর।












