মালয়েশিয়ায় কাজ করতে যেতে চাইলে কত টাকা লাগবে, তা নিয়ে প্রাথমিক হিসাব সামনে এসেছে। সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল) দিয়ে যেতে আনুমানিক খরচ ১ লাখ ৫৫ হাজার থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা। প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক নুর জানিয়েছেন, নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে কর্মীরা যাত্রা শুরু করতে পারেন। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলে এই যাত্রা শুরু হবে। তবে চূড়ান্ত খরচ এখনো নির্ধারিত হয়নি।
সরকার শুরুতে বোয়েসেলের মাধ্যমে ১০ হাজার কর্মীকে বিনা অভিবাসন ব্যয়ে পাঠানোর পরিকল্পনা করেছিল। প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, অভিবাসন পুরোপুরি বিনা খরচে হবে না। কর্মীদের বিমান ভাড়া, স্বাস্থ্য পরীক্ষার খরচ এবং সরকারি সেবামূল্য দিতে হবে। ১ লাখ ৫৫ হাজার থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকার হিসাবে প্রথম ১০ হাজার কর্মী ধরা হয়নি। বেসরকারি এজেন্সির মাধ্যমে যেতে কত লাগবে, তা সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে ঠিক করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
মালয়েশিয়া এ পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিতে ৩৩৮টি প্রতিষ্ঠানকে অনুমোদন দিয়েছে। এর মধ্যে ২৫টি প্রধান এজেন্সি, ৩১২টি সহযোগী এজেন্সি এবং বোয়েসেল। মালয়েশিয়ার নিয়োগকর্তারা কর্মী চাওয়ার চিঠি অনলাইন ব্যবস্থার মাধ্যমে এবং বাংলাদেশ হাইকমিশনে জমা দেন। হাইকমিশন সত্যায়ন না করলে কোনো চাহিদাপত্র গ্রহণ করা হবে না বলে মন্ত্রণালয়ের সূত্রগুলো জানিয়েছে। অর্থাৎ সত্যায়ন ছাড়া কোনো এজেন্সি বা দালালের দেওয়া কাজের প্রতিশ্রুতি বিশ্বাসযোগ্য নয়।
স্বাস্থ্য পরীক্ষা শুরু হবে ৩১ অক্টোবর, অনুমোদিত কেন্দ্রে। এর আগে করা কোনো পরীক্ষা অভিবাসন ছাড়পত্রের জন্য গ্রহণযোগ্য হবে না। অনুমোদিত স্বাস্থ্য কেন্দ্রের তালিকা শিগগির মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে দেওয়া হবে। মন্ত্রণালয় চাকরিপ্রার্থীদের অনানুষ্ঠানিক তথ্যের ভিত্তিতে কোনো পদক্ষেপ না নিতে বলেছে। আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত কারও হাতে পাসপোর্ট বা টাকা তুলে দেওয়া ঠিক নয়। এই সতর্কতা সবার জন্য জরুরি, বিশেষ করে গ্রামের কর্মপ্রত্যাশীদের জন্য।
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার আবার খোলায় অনেকেই আশায় আছেন। তবে সরকারি হিসাব পাওয়ার আগে বড় অঙ্কের টাকা দেওয়া ঝুঁকির কাজ হতে পারে। যেকোনো লেনদেনের রসিদ রাখা এবং এজেন্সির অনুমোদন যাচাই করে নেওয়া সবচেয়ে নিরাপদ পথ। মালয়েশিয়ায় বোয়েসেলের মাধ্যমে যাওয়ার খরচ যদি এই হিসাবের কাছাকাছি থাকে, তাহলে তা অনেকের জন্য তুলনামূলক সাশ্রয়ী হবে। চূড়ান্ত ঘোষণার জন্য মন্ত্রণালয়ের পরবর্তী বিজ্ঞপ্তির দিকে নজর রাখুন।
সব মিলিয়ে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। স্বাস্থ্য পরীক্ষা, চাহিদাপত্রের সত্যায়ন ও খরচের চূড়ান্ত হিসাব, এই তিনটি ধাপ এখন সবচেয়ে বড় বিষয়। মন্ত্রণালয়ের ঘোষণা আসার আগে কারও ওপর ভরসা করে টাকা দেওয়া ঠিক হবে না।












