বিদেশে চাকরির জন্য টাকা দেওয়ার আগে কোনো রিক্রুটিং এজেন্সি কতটা বিশ্বাসযোগ্য, তা যাচাইয়ের সরকারি কোনো উপায় এখনো নেই। প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক নুর নিজেই বিষয়টি স্বীকার করেছেন। বুধবার ঢাকায় এক অভিবাসন সংলাপে তিনি বলেন, নিজের নির্বাচনী এলাকার মানুষকেও তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে কোনো এজেন্সির নাম বলতে পারেন না। রিক্রুটিং এজেন্সির গ্রেডিং চালুর বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর কাছেও তোলা হয়েছিল। তবে এজেন্সিগুলোকে শ্রেণিবদ্ধ করার কাজে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি বলে জানান তিনি।
সংলাপের আয়োজক উইটনেস ফাউন্ডেশন। সেখানে বক্তারা বলেন, গ্রেডিং না থাকায় সাধারণ মানুষ কোন এজেন্সি নির্ভরযোগ্য, তা বুঝতে পারেন না। মন্ত্রণালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব কাজী আবুল কালাম জানান, ২০২০ সালে এজেন্সির শ্রেণিবিভাগ চালু করা হলেও তা কার্যকর হয়নি। প্রতিমন্ত্রী বলেন, সাব-এজেন্টদের তথ্য জমা দেওয়ার সফটওয়্যার এখনো পুরোপুরি প্রস্তুত নয়। ভবিষ্যতে এজেন্সিগুলোকে তাদের প্রতিনিধিদের তালিকা জমা দিতে হবে। সেই তালিকা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে, যাতে কর্মীরা টাকা দেওয়ার আগে পরিচয় মিলিয়ে নিতে পারেন।
উইটনেস ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক পারভেজ সিদ্দিকী সংলাপে কিছু পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। তাঁর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিদেশে গেছেন ৫ লাখ ৬৯ হাজার ৯৭৯ জন কর্মী। গত বছরের একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল ৮ লাখ ৩৮ হাজার ৮৯২। অর্থাৎ কর্মী যাওয়া কমেছে ৩২ শতাংশ। অন্যদিকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রবাসী আয় এসেছে ৩ হাজার ৫৫৬ কোটি ডলার। জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত বিদেশগামী কর্মীদের ৭৩ শতাংশই গেছেন সৌদি আরবে। একটি বাজারের ওপর এত বেশি নির্ভরতা নিয়ে তিনি সতর্ক করেন।
খরচ আর অভিযোগের চিত্রও উঠে আসে সংলাপে। পারভেজ সিদ্দিকীর তথ্য অনুযায়ী, বিদেশে যাওয়ার খরচ তুলতে একজন অভিবাসী কর্মীর গড়ে প্রায় ১৪ মাস লাগে। রিক্রুটিং খাতে অভিযোগ জমা পড়েছে ১ হাজার ৪১৪টি, যার ৭৮৫টির নিষ্পত্তি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের ফেরত দেওয়া হয়েছে ৬ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। অনেক কর্মীর কাছে টাকা দেওয়ার রসিদ বা প্রমাণ থাকে না। ফলে দালালদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। ওয়ারবি ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন সৈয়দ সাইফুল হক অভিযোগ করেন, অনেক এজেন্সি রসিদ ছাড়া মোটা অঙ্কের টাকা নেয় এবং ভিসা বাণিজ্যে জড়িত।
মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আহমাদুল হক জানান, অভিবাসন ব্যয় খতিয়ে দেখতে একটি কমিটি কাজ করছে। তিনি বলেন, বিদেশে লোক পাঠানোর চাপ থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ নিয়োগ আটকানো কঠিন। অন্য বক্তারা অনলাইনে নিয়োগের রেকর্ড রাখা, ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেন এবং অভিযোগ জানানোর সহজ ব্যবস্থার প্রস্তাব দেন। যাঁরা বিদেশে কাজের কথা ভাবছেন, তাঁদের জন্য এখন সবচেয়ে নিরাপদ পথ হলো প্রতিটি লেনদেনের রসিদ রাখা। প্রতিনিধিদের তালিকা প্রকাশের পর পরিচয় মিলিয়ে নেওয়াও জরুরি। রিক্রুটিং এজেন্সির গ্রেডিং চালু না হওয়া পর্যন্ত সতর্কতাই তাঁদের প্রধান ভরসা।












