মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি এখন এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে, যেখানে নিরাপত্তার প্রয়োজনে নতুন জোট গড়ে উঠছে, আবার সেই জোটের রাজনৈতিক তাৎপর্য নিয়ে তৈরি হচ্ছে নানা প্রশ্ন। সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদারের উদ্যোগ এই পরিবর্তনেরই একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত। কিন্তু এই উদ্যোগের মধ্য দিয়ে কি সৌদি আরব ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার সম্ভাবনা থেকে সরে যাচ্ছে? নাকি রিয়াদ একই সঙ্গে একাধিক শক্তির সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখে নিজের কৌশলগত স্বাধীনতা বাড়াতে চাইছে?
এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে মক্কা চুক্তিকে কেবল একটি সামরিক সমঝোতা হিসেবে দেখলে চলবে না। এর তাৎপর্য নির্ভর করবে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা কাঠামোকে এটি কতটা প্রভাবিত করে, আঞ্চলিক শক্তিগুলোর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা কতটা বাড়ায় এবং কূটনৈতিক সমঝোতার জন্য কতটা সুযোগ তৈরি করে তার ওপর।
২০২৬ সালের ৭ আগস্ট মক্কায় সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের উপস্থিতিতে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। তিন দেশের নিরাপত্তা সম্পর্ক জোরদারের এই উদ্যোগকে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কোনো সুস্পষ্ট অবস্থান হিসেবে ব্যাখ্যা করার সুযোগ থাকলেও, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে আরও বিস্তৃত আঞ্চলিক বাস্তবতা বিবেচনা করা প্রয়োজন।
সৌদি আরবের জন্য পাকিস্তান ও তুরস্কের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কিন্তু সেই সম্পর্ক বজায় রাখার অর্থ এই নয় যে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্ভাব্য কূটনৈতিক যোগাযোগ বন্ধ করে দিতে হবে। বরং রিয়াদের প্রকৃত কৌশলগত সাফল্য নির্ভর করবে, প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষা করে দেশটি নিজের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থ কতটা এগিয়ে নিতে পারে তার ওপর।
প্রতিরক্ষা জোট কি নতুন বিভাজন তৈরি করবে?
মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি দীর্ঘদিন ধরেই জটিল। ইরান ও তার আঞ্চলিক মিত্রদের ভূমিকা, সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা, ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঝুঁকি এবং বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ—সব মিলিয়ে রাষ্ট্রগুলোর প্রতিরক্ষা পরিকল্পনায় সামরিক সক্ষমতার গুরুত্ব বেড়েছে। ইসরায়েলও এই বাস্তবতার বাইরে নয়। দেশটির নিরাপত্তা উদ্বেগকে উপেক্ষা করে মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তির কাঠামো গড়ে তোলা কঠিন।

তবে নিরাপত্তার প্রশ্নে একটি মৌলিক পার্থক্য মনে রাখা জরুরি। কোনো রাষ্ট্রের আত্মরক্ষার অধিকার স্বীকার করার অর্থ তার সরকারের প্রতিটি নীতিকে সমর্থন করা নয়। একইভাবে, ইসরায়েলি নীতির সমালোচনা করলেই দেশটির নাগরিকদের নিরাপত্তার প্রশ্নকে অগ্রাহ্য করা যায় না।
এই দুই বিষয়কে আলাদা করে দেখতে না পারলে আঞ্চলিক কূটনীতি সহজেই রাজনৈতিক মেরুকরণের শিকার হবে। তখন প্রতিরক্ষা সহযোগিতা সংঘাত প্রতিরোধের পরিবর্তে প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিগুলোর মধ্যে দূরত্ব আরও বাড়াতে পারে।
মক্কা চুক্তির মূল্যায়নেও এই পার্থক্য গুরুত্বপূর্ণ। চুক্তিটি যদি সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি কূটনৈতিক যোগাযোগের সুযোগ অক্ষুণ্ন রাখে, তাহলে তা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় ভূমিকা রাখতে পারে। কিন্তু যদি এর ফলে মধ্যপ্রাচ্য ক্রমশ পরস্পরবিরোধী সামরিক ও রাজনৈতিক শিবিরে বিভক্ত হয়ে পড়ে, তাহলে সৌদি-ইসরায়েল সম্পর্ক স্বাভাবিক করার সম্ভাবনাও সংকুচিত হবে।
আব্রাহাম চুক্তির অর্থনৈতিক সম্ভাবনা
২০২০ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইন ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করে। আব্রাহাম চুক্তির আওতায় এই পদক্ষেপ দেখিয়েছিল, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বৈরিতা থাকা সত্ত্বেও আরব রাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক গড়ে তোলা সম্ভব।
এই সম্পর্কের সম্ভাব্য সুফল শুধু কূটনৈতিক স্বীকৃতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বাণিজ্য, প্রযুক্তি, বিনিয়োগ এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে বেসামরিক সহযোগিতার নতুন সুযোগও তৈরি হতে পারে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে আমিরাত ও ইসরায়েলের মধ্যে পণ্যবাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ৩ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার। এই পরিসংখ্যান দুই দেশের অর্থনৈতিক যোগাযোগের বাস্তব সম্ভাবনা তুলে ধরে, যদিও এ থেকে সৌদি আরবের ক্ষেত্রে একই মাত্রার সুফল নিশ্চিত ধরে নেওয়া যায় না।
সৌদি আরবের জন্য সম্ভাব্য সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও বিস্তৃত। উন্নত প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কৃষি, পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্যসেবা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, পরিবহন ও সরবরাহব্যবস্থা এবং আঞ্চলিক বিনিয়োগে সহযোগিতা দেশটির দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক রূপান্তরের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
ইসরায়েলের জন্যও সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চলের বৃহৎ অর্থনীতি ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে যোগাযোগ বাড়লে ইসরায়েলের আঞ্চলিক অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব বিস্তৃত হতে পারে। পাশাপাশি কূটনৈতিক আলোচনার নতুন পথও খুলতে পারে।
তবে অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে রাজনৈতিক বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেখা উচিত নয়। কোনো চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেই তার সুফল স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিশ্চিত হয় না। সম্পর্কের শর্ত, পারস্পরিক প্রতিশ্রুতি, নিরাপত্তার নিশ্চয়তা এবং আঞ্চলিক বিরোধ মোকাবিলার পদ্ধতিই শেষ পর্যন্ত সহযোগিতার পরিসর নির্ধারণ করবে।
সৌদি আরবের কূটনৈতিক স্বাধীনতার পরীক্ষা
সৌদি আরবের সামনে মূল চ্যালেঞ্জ হলো, পাকিস্তান ও তুরস্কের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখেও ইসরায়েলের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতার পথ খোলা রাখা। এক পক্ষের সঙ্গে সহযোগিতাকে অন্য পক্ষের বিরুদ্ধে অবস্থান হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হলে রিয়াদের কূটনৈতিক বিকল্প সীমিত হয়ে পড়বে।
২০২৫ সালের ১৮ নভেম্বর সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান প্রকাশ্যে আব্রাহাম চুক্তিতে যোগ দেওয়ার বিষয়ে সৌদি আরবের আগ্রহের কথা জানান। এই বক্তব্য দেশটির দীর্ঘমেয়াদি কূটনৈতিক অবস্থান বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। তবে আগ্রহ প্রকাশ এবং বাস্তবে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ব্যবধান রয়েছে। সেই ব্যবধান কমাতে উভয় পক্ষের রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও বাস্তবসম্মত সমঝোতা প্রয়োজন।

সৌদি আরবের কাছে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক আধুনিকায়ন এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব—তিনটিই গুরুত্বপূর্ণ। ফলে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্কের প্রশ্নটি কেবল রাজনৈতিক স্বীকৃতির বিষয় নয়; এটি বৃহত্তর কৌশলগত হিসাবের অংশ।
অন্যদিকে, ইসরায়েলেরও বুঝতে হবে যে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার জন্য শুধু নিরাপত্তার নিশ্চয়তা চাওয়াই যথেষ্ট নয়। সৌদি আরবের আঞ্চলিক অগ্রাধিকার ও রাজনৈতিক উদ্বেগকে গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি পারস্পরিক গ্রহণযোগ্য সমঝোতার পরিবেশ তৈরি করতে হবে। দুই পক্ষের স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করা না গেলে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার আলোচনা দীর্ঘদিন অনিশ্চয়তায় আটকে থাকতে পারে।
সামরিক ব্যয়ের বার্তা
মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা সংকটের ব্যাপ্তি বোঝার জন্য সামরিক ব্যয়ের দিকে তাকানো যেতে পারে। স্টকহোম আন্তর্জাতিক শান্তি গবেষণা ইনস্টিটিউটের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মোট সামরিক ব্যয় ছিল প্রায় ২১৮ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে ইসরায়েলের আনুমানিক সামরিক ব্যয় ছিল ৪৮ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার।
এই পরিসংখ্যান অঞ্চলে প্রতিরক্ষা খাতে বিপুল সম্পদ ব্যয়ের চিত্র তুলে ধরে। তবে শুধু সামরিক ব্যয়ের পরিমাণ দিয়ে কোনো একটি রাষ্ট্রকে আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার জন্য দায়ী করা যায় না। বরং এই ব্যয় এমন এক নিরাপত্তা পরিবেশের ইঙ্গিত দেয়, যেখানে রাষ্ট্রগুলো সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করছে, অথচ সংঘাতের স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান এখনো অধরা।
সামরিক সক্ষমতা প্রতিপক্ষকে নিরুৎসাহিত করতে পারে। কিন্তু কার্যকর কূটনীতি, সংকট মোকাবিলার ব্যবস্থা এবং পারস্পরিক যোগাযোগ ছাড়া প্রতিরোধক্ষমতা একাই স্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করতে পারে না। ভুল হিসাব, অনাকাঙ্ক্ষিত সামরিক সংঘর্ষ কিংবা বেসামরিক মানুষের ওপর হামলা আঞ্চলিক উত্তেজনাকে দ্রুত বিস্তৃত করতে পারে।
এ কারণেই যেকোনো শান্তি উদ্যোগে বেসামরিক মানুষের সুরক্ষা এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধা অপরিহার্য। ইসরায়েলি নাগরিকদের নিরাপত্তা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি সংঘাতের অন্য সব পক্ষের বেসামরিক মানুষের জীবন ও মর্যাদা রক্ষাও সমানভাবে জরুরি। কোনো পক্ষের নিরাপত্তা উদ্বেগকে স্বীকৃতি দেওয়ার অর্থ অন্য পক্ষের অধিকারকে অস্বীকার করা হতে পারে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা ও সমঝোতার শর্ত
সৌদি আরব ও ইসরায়েলের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার সম্ভাবনা বাস্তব রূপ পেতে হলে আন্তর্জাতিক অংশীদারদেরও ভূমিকা রাখতে হবে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র দুই পক্ষের নিরাপত্তা উদ্বেগ ও কূটনৈতিক অগ্রাধিকারের মধ্যে সমঝোতা তৈরিতে সহায়তা করতে পারে।
তবে বাইরের কোনো শক্তি এককভাবে এ ধরনের চুক্তির রাজনৈতিক ভিত্তি তৈরি করতে পারবে না। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সম্মতি, বিশ্বাসযোগ্য প্রতিশ্রুতি এবং চুক্তি বাস্তবায়নের কার্যকর ব্যবস্থা অপরিহার্য। কেবল ঘোষণানির্ভর কূটনীতি দিয়ে দীর্ঘদিনের অবিশ্বাস দূর করা সম্ভব নয়।
পাকিস্তান ও তুরস্কের জন্যও এখানে একটি ভূমিকার সুযোগ রয়েছে। সৌদি আরবের সঙ্গে তাদের প্রতিরক্ষা সম্পর্ককে এমনভাবে পরিচালিত করা সম্ভব, যাতে নিরাপত্তা সহযোগিতা কূটনৈতিক যোগাযোগের বিকল্প হয়ে না দাঁড়ায়। বরং আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানো এবং আলোচনার পথ খোলা রাখার ক্ষেত্রে এই সম্পর্ক সহায়ক হতে পারে।

মক্কা চুক্তির ভবিষ্যৎ তাৎপর্য নির্ভর করবে এই ভারসাম্য রক্ষা করা সম্ভব হয় কি না তার ওপর। চুক্তিটিকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আব্রাহাম চুক্তির বিরোধী হিসেবে দেখার যেমন যথেষ্ট ভিত্তি নেই, তেমনি এটিকে আঞ্চলিক শান্তির নিশ্চয়তা হিসেবেও বিবেচনা করা যায় না। এর প্রকৃত মূল্য নির্ধারিত হবে বাস্তব পদক্ষেপ ও দীর্ঘমেয়াদি ফলাফলের মাধ্যমে।
শেষ পর্যন্ত সৌদি আরবের সামনে যে প্রশ্নটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, তা হলো—দেশটি কি নিজের নিরাপত্তা ও কৌশলগত অংশীদারত্ব শক্তিশালী করার পাশাপাশি ইসরায়েলের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতার পথও ধরে রাখতে পারবে? একইভাবে, ইসরায়েল কি তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টাকে এমন কূটনৈতিক উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত করতে পারবে, যা প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর উদ্বেগও বিবেচনায় নেয়?
মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য অতীতের বিরোধ অস্বীকার করার প্রয়োজন নেই। বরং সেই বিরোধের মধ্যেও সহযোগিতার বাস্তব ক্ষেত্র খুঁজে বের করতে হবে। প্রতিরক্ষা চুক্তি ও কূটনৈতিক উদ্যোগ পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী না হয়ে পরিপূরক হলে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার সম্ভাবনা বাড়তে পারে।
আব্রাহাম চুক্তি সেই সম্ভাবনার একটি কাঠামো দিতে পারে, কিন্তু তার সাফল্য নিশ্চিত নয়। রাজনৈতিক সদিচ্ছা, পারস্পরিক দায়বদ্ধতা এবং বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার মধ্য দিয়েই এই কাঠামোকে কার্যকর করতে হবে। মক্কা চুক্তি তাই সৌদি-ইসরায়েল সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে দেয়নি; বরং আঞ্চলিক শক্তিগুলো নিরাপত্তা ও কূটনীতির মধ্যে কীভাবে ভারসাম্য তৈরি করে, সেই পরীক্ষাকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।












