ঢাকার লেক দূষণ ঠেকাতে ভবনমালিকদের জন্য নতুন সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। রাজউক-অনুমোদিত নকশায় সেপটিক ট্যাংক ও সোক ওয়েল আছে, এমন ভবনের মালিকদের আগামী ১৫ নভেম্বরের মধ্যে নির্মাণকাজ শুরু করতে হবে। বুধবার গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক কারিগরি কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহমদ সোহেল মনজুর। সময়মতো কাজ না করলে মালিকদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
গুলশান, বনানী ও হাতিরঝিল দীর্ঘদিন ধরে ঘরোয়া পয়ঃবর্জ্যে দূষিত হচ্ছে। এর বড় কারণ হলো অনেক ভবনে পয়ঃনিষ্কাশনের লাইন নেই। ফলে ভবনের বর্জ্য সরাসরি ড্রেন হয়ে লেকে গিয়ে পড়ে। সেপটিক ট্যাংক ও সোক ওয়েল থাকলে বর্জ্য সরাসরি লেকে যাওয়ার আগে একটি পরিশোধন ধাপ পায়। সে কারণেই লেক দূষণ রোধের এই উদ্যোগে এ দুটি কাঠামোকে বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। সভায় গুলশান, বারিধারা, বনানী ও নিকেতন আবাসিক সমিতির প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।
নির্দেশ না মানলে ইমারত নির্মাণ আইন ও ঢাকা মহানগর ইমারত নির্মাণ বিধিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি নিশ্চিত করতে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালানোর কথাও বলা হয়েছে। এর বাইরে আলাদাভাবে ১ হাজার ২৬৯টি ভবনকে সেপটিক ট্যাংক, সোক ওয়েল এবং পয়ঃশোধনাগার তৈরির জন্য চূড়ান্ত নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এই ভবনগুলোর তালিকা সংশ্লিষ্ট আবাসিক সমিতির কাছে পাঠানো হবে। ১৫ নভেম্বরের সময়সীমা এই ১ হাজার ২৬৯টি ভবনের জন্যও প্রযোজ্য কি না, তা প্রকাশিত তথ্যে স্পষ্ট নয়।
ভবনমালিকদের সুবিধার জন্য রাজউককে একটি সময়সীমাও দেওয়া হয়েছে। সেপটিক ট্যাংক ও সোক ওয়েলের কাঠামোগত নকশা রাজউককে অনুমোদন করতে হবে। আবেদন পাওয়ার তিন দিনের মধ্যে সেই অনুমোদনের সিদ্ধান্ত দিতে হবে। ফলে নকশা অনুমোদনের অজুহাতে কাজ পিছিয়ে দেওয়ার সুযোগ কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। যাঁরা এখনো নকশা অনুমোদন করাননি, তাঁদের দ্রুত রাজউকে আবেদন করা ভালো। না হলে সময়মতো নির্মাণকাজ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
ঢাকার লেকগুলোর দূষণ নতুন সমস্যা নয়। এলাকাবাসী ও পরিবেশকর্মীরা বহু বছর ধরে এই সমস্যার সমাধান চেয়ে আসছেন। এবার সময়সীমা ও শাস্তির কথা স্পষ্ট করে বলা হলো। এখন দেখার বিষয়, ১৫ নভেম্বরের মধ্যে কতজন মালিক কাজ শুরু করেন। যাঁদের ভবন গুলশান, বনানী, বারিধারা বা নিকেতনে, তাঁরা আবাসিক সমিতির কাছ থেকে তালিকা সম্পর্কে খোঁজ নিতে পারেন। লেকের পানি পরিষ্কার রাখতে হলে প্রতিটি ভবনের সহযোগিতা জরুরি।
লেক দূষণ রোধের এই উদ্যোগে গুলশান, বনানী ও হাতিরঝিলের পানির মান ফেরানোই মূল লক্ষ্য। এর জন্য ভবনমালিক, আবাসিক সমিতি ও রাজউককে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শুরু না হলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চলবে, এমন বার্তা সভা থেকে দেওয়া হয়েছে। তাই সংশ্লিষ্ট মালিকদের এখনই প্রস্তুতি নেওয়া উচিত।












