ভারতের অন্যতম বড় বেসরকারি হাসপাতাল চেইন অ্যাপোলো হসপিটালস এন্টারপ্রাইজের মুনাফা ৩২ শতাংশ বাড়লেও শেয়ারবাজারে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের দর কমেছে। হাসপাতাল সম্প্রসারণে বাড়তি ব্যয় এবং সম্ভাব্য নিয়ন্ত্রক পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগে বৃহস্পতিবার কোম্পানিটির শেয়ারের দর ২ শতাংশের বেশি কমে যায়।
বৃহস্পতিবার লেনদেনের শুরুতে অ্যাপোলো হসপিটালসের শেয়ারদর ৩ দশমিক ৪ শতাংশ কমে ৮ হাজার ৩১০ দশমিক ১০ রুপিতে নেমে আসে। অথচ একই সময়ে ভারতের প্রধান শেয়ারবাজার সূচক নিফটি ৫০ বেড়েছিল ১ দশমিক ৬৮ শতাংশ। ফলে সামগ্রিক বাজারের ইতিবাচক প্রবণতার বিপরীতে অবস্থান নেয় হাসপাতালটির শেয়ার।
মুনাফা বাড়লেও সম্প্রসারণ ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ
চলতি বছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে অ্যাপোলো হসপিটালসের সমন্বিত নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৬৩০ কোটি রুপি। গত বছরের একই সময়ে এ অঙ্ক ছিল ৪৭৭ কোটি রুপি। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে মুনাফা বেড়েছে প্রায় ৩২ শতাংশ।
লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ গ্রুপের (এলএসইজি) সংকলিত বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এ প্রান্তিকে কোম্পানিটির মুনাফা হওয়ার কথা ছিল ৬৩৬ কোটি রুপি। বাস্তবে অর্জিত মুনাফা সেই পূর্বাভাসের কাছাকাছি থাকলেও বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ কাটেনি।
এর অন্যতম কারণ কোম্পানিটির আগ্রাসী সম্প্রসারণ পরিকল্পনা। আগামী পাঁচ বছরে ৫ হাজার ৮০০টির বেশি নতুন হাসপাতাল শয্যা যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে অ্যাপোলোর। তবে নতুন হাসপাতালগুলো চালু করতে প্রাথমিক বিনিয়োগ, পরিচালন ব্যয় এবং লোকসানের চাপ তৈরি হচ্ছে।
নতুন হাসপাতালের লোকসান, পুরোনোগুলোতে ভালো মুনাফা
ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান সিটির বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, নতুন হাসপাতালগুলোতে লোকসান এবং কার্যক্রম শুরুর আগের ব্যয় মিলিয়ে ৩৪ কোটি ৮০ লাখ রুপি খরচ হয়েছে। বিপরীতে, আগে থেকে চালু থাকা হাসপাতালগুলো ভালো পরিচালন মুনাফা ধরে রেখেছে।
প্রতিষ্ঠানটির পুরোনো হাসপাতালগুলোতে পরিচালন মুনাফার হার ২৫ দশমিক ৮ শতাংশ। তবে সম্প্রসারণের কারণে সামগ্রিক ব্যবসায় স্বল্পমেয়াদে ব্যয়ের চাপ বাড়ছে।
অ্যাপোলোর স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের আয় গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৩ শতাংশ বেড়েছে। কিন্তু হাসপাতাল ব্যবসার পরিচালন মুনাফার হার প্রায় ৬০ বেসিস পয়েন্ট কমে ২৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ আয় বাড়লেও সেই আয়ের বিপরীতে মুনাফার সক্ষমতা কিছুটা কমেছে।
ওষুধের মূল্যসীমা ও নিয়ন্ত্রক সিদ্ধান্তের প্রভাব
অ্যাপোলোর ভবিষ্যৎ আয় নিয়েও কয়েকটি অনিশ্চয়তা চিহ্নিত করেছে সিটি। এর মধ্যে রয়েছে ক্যানসারের ওষুধের বাণিজ্যিক মুনাফার সীমা নির্ধারণের সম্ভাব্য সিদ্ধান্ত এবং হাসপাতালের মুনাফা নিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থার পাঠানো একটি নোটিশ।
বিশ্লেষকদের মতে, এসব পদক্ষেপ কার্যকর হলে হাসপাতাল ব্যবসার মুনাফার ওপর প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে ক্যানসারের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধের বাণিজ্যিক মুনাফায় সীমা আরোপ করা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসার আয় কমার আশঙ্কা রয়েছে।
তবে সিটি অ্যাপোলো হসপিটালসের শেয়ারের বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থান ধরে রেখেছে। প্রতিষ্ঠানটি শেয়ারটির জন্য ১০ হাজার ৭৭০ রুপি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে এবং ‘কিনুন’ সুপারিশ বহাল রেখেছে।












