যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে যাওয়াকে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের বিরোধিতায় মার্কিন জনগণের রায় হিসেবে দেখছে তেহরান। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার ও প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, মার্কিন ভোটাররা যুদ্ধের বিরুদ্ধে অবস্থান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে জনগণের এই বার্তাকে উপেক্ষা না করতে যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে সতর্ক করেছেন তিনি।
বুধবার (৪ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় গালিবাফ বলেন, বিবেকের তাড়নায় হোক কিংবা জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে—মার্কিন জনগণ ‘যুদ্ধ চাই না’ বলে অবস্থান জানিয়েছে। ইরানও এই বার্তাকে সমর্থন করে।
তবে তাঁর বক্তব্যে শুধু নির্বাচনের ফল নিয়ে প্রতিক্রিয়া নয়, যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের প্রতিও সরাসরি হুঁশিয়ারি ছিল।
ডেমোক্র্যাটদের জয়কে যুদ্ধবিরোধী বার্তা হিসেবে দেখছে তেহরান
মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ অর্জন করেছে। গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি নির্বাচনী লড়াইয়ে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের মধ্য দিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির প্রতি ভোটারদের অসন্তোষের প্রতিফলন ঘটেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার গালিবাফ এই ফলাফলকে ট্রাম্প প্রশাসনের ইরানবিরোধী যুদ্ধনীতির বিরুদ্ধে জনমতের প্রকাশ হিসেবে তুলে ধরেছেন।
তিনি বলেন, মার্কিন সরকার যদি আন্তর্জাতিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট পক্ষ ও চাপ প্রয়োগকারীদের সন্তুষ্ট করতে গিয়ে জনগণের ইচ্ছার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে, তাহলে তার পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে।
গালিবাফের ভাষায়, জনগণের ‘না’কে উপেক্ষা করলে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের পক্ষ থেকে আরও কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে।
যুদ্ধ ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে মার্কিন ভোটারদের অসন্তোষ
নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রের অনেক ভোটার ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের যুদ্ধের বিরোধিতা করেছেন। একই সঙ্গে যুদ্ধের প্রভাবে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় তাঁদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
এই দুই বিষয়ই নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। গালিবাফও তাঁর বক্তব্যে যুদ্ধবিরোধী মনোভাবের পাশাপাশি জীবনযাত্রার ব্যয়ের বিষয়টি বিশেষভাবে তুলে ধরেছেন।
তাঁর মতে, মার্কিন ভোটারদের নির্বাচনী সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে যুদ্ধের বিরুদ্ধে একটি স্পষ্ট বার্তা এসেছে। ইরান সেই বার্তার প্রতি সমর্থন জানাচ্ছে।
আট মাসের বেশি সময় ধরে সংঘাত
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের শুরু করা যুদ্ধে আট মাসেরও বেশি সময় ধরে ইরান জড়িয়ে রয়েছে। এই সংঘাতের আলোচনায় ইরানের প্রধান আলোচক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন গালিবাফ।
এ অবস্থায় মার্কিন নির্বাচনের ফল নিয়ে তাঁর মন্তব্যকে দুই দেশের চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে ডেমোক্র্যাটদের জয়কে সরাসরি যুদ্ধ বন্ধের পক্ষে গণরায় হিসেবে দেখার যে ব্যাখ্যা গালিবাফ দিয়েছেন, সেটি তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান ও মূল্যায়ন। নির্বাচনের ফলের মাধ্যমে মার্কিন জনগণের যুদ্ধসংক্রান্ত মনোভাবের পূর্ণ চিত্র নির্ধারিত হয়েছে—এমন কোনো তথ্য প্রতিবেদনে দেওয়া হয়নি।












