জাপানের সরকার ও আত্মরক্ষাবাহিনী দীর্ঘপরিসর গোলাবারুদ ও আধুনিক শস্ত্র ক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়ে সরগরম অবস্থায় আছে। প্রতিবেশী হুমকি মোকাবিলায় দেশটির স্থল আত্মরক্ষাবাহিনী ও অন্যান্য শাখা শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন অস্ত্র ব্যবস্থা আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণের দিকে নজর দিচ্ছে। জরুরি সময়ে প্রতিরোধ ও পাল্টা আক্রমণের সক্ষমতা বৃদ্ধি করেই এখন প্রধান আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রতিরক্ষা নীতিতে নতুন পরিবর্তন
জাপান তার এখনকার তিনটি প্রধান জাতীয় নিরাপত্তা নথি বছরের শেষের মধ্যে পর্যালোচনা করতে যাচ্ছে। এই দৃষ্টিভঙ্গির অংশ হিসেবে স্থল আত্মরক্ষাবাহিনীর পুরানো টাইপ ঊনানব্বই ও নতুন টাইপ উনিশ আত্মচালিত গোলাদানি বন্দুক থেকে দীর্ঘপরিসর ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার সক্ষমতা নিয়ে প্রাথমিক পরিকল্পনা তৈরি হয়েছে। আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে এসব অস্ত্রের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু প্রচলিত গোলাবারুদের সীমা থেকে বের হয়ে আরও শক্তিশালী, দূরশীর্ষ নির্ভুল অস্ত্র নিয়ে আসা আবশ্যক।
অস্ত্র প্রযুক্তি ও খরচ
জাপানের প্রতিরক্ষা বাজেটে ইতিমধ্যেই বড় বড় প্রকল্পের জন্য অর্থ বরাদ্দ থাকায় নতুন ব্যবস্থার তহবিল সীমিত থাকবে। মুদ্রাস্ফীতি ও ইয়েন মুদ্রার মূল্যহ্রাস জাপানের সর্ববৃহৎ সামরিক উন্নয়ন পরিকল্পনায় চাপ সৃষ্টি করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধুমাত্র নতুন অস্ত্র কেনা নয়, বরং বিদ্যমান যন্ত্রপাতিকে আধুনিক যুদ্ধের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার পথ খুঁজে বের করাই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ।
বিদেশি প্রতিরক্ষা কর্পোরেশনদের আগ্রহ
বিদেশি প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি সংস্থাগুলো জাপানের চাহিদিতে গভীর আগ্রহ দেখাচ্ছে। আমেরিকা ভিত্তিক একটি কোম্পানি জাপানি নির্মাতাদের সঙ্গে অংশীদারিত্বে ১৫৫ মিমি র্যামজেট গোলে দীর্ঘপরিসর গোলাবারু তৈরি ও লাইসেন্স উৎপাদনের আলোচনা শুরু করেছে। অন্য একটি নরওয়েজিয়ান প্রতিষ্ঠানও একই ধরণের প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা করছে। ইতালির লেওনার্দো কোম্পানির ৭৫ কিলোমিটার পর্যন্ত লক্ষ্যভেদকারী গাইডেড শেল ইতোমধ্যে জাপানের কিছু হাউইটজার প্রযুক্তিতে পরীক্ষা চালানো হয়েছে।
ভবিষ্যৎ যুদ্ধ প্রযুক্তি
নতুন গবেষণায় এমন প্রযুক্তির উন্নয়ন চলছে, যা ৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত গোলাবারুদকে উড়িয়ে দিতে সক্ষম করবে। আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুদ্ধের প্রকৃতি পরিবর্তিত হওয়ায় দীর্ঘপরিসর ও নির্ভুলতার অস্ত্র থাকা এখন অপরিহার্য। পাশাপাশি জাপানের শস্ত্র শিল্পে বিদেশি ও দেশি অংশীদারদের উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে।












