‘আমরা বড় সংকটের দিকে নিয়ে যাচ্ছি’

মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে বৈঠকের পর ওইদিনই দুপুরে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন শিক্ষামন্ত্রী।

সেখানে শিক্ষামন্ত্রী জানান, তিনদিন অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে তারা সার্ভে অর্থাৎ জরিপ করেছেন।

শিক্ষামন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেছেন, “শিক্ষার্থীরা স্কুলে আসবে এবং অনলাইনে ক্লাস করবে। সেটা নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি। এবং ইতিমধ্যে আমি সার্ভেও করেছি। সেখানে ৫৫ শতাংশ মানুষ চাচ্ছে যেন অনলাইনে যাই”।

তবে শিক্ষামন্ত্রী এ-ও বলেছেন যে, এটি এখনো শুধু পরিকল্পনার পর্যায়ে রয়েছে। বৃহস্পতিবার মন্ত্রীসভার বৈঠকেই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে।

বুধবার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বিবিসি বাংলাকে বলেন, “শুধুমাত্র অনলাইন ক্লাস না, এটি নিয়ে আরো অনেকগুলো প্রস্তাব ছিল। সব বিষয় নিয়ে বৃহস্পতিবারের বৈঠকে আলোচনা হবে। যখন এটা চূড়ান্ত হবে তখনই আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি জানাতে পারবো”।

সরকারের পক্ষ থেকে জরিপে যে ৫৫ শতাংশ অনলাইনে মতামত দিয়েছে এই বিষয়টি নিয়ে মি. হাজ্জাজের কাছে প্রশ্ন করা হয়েছিল বিবিসি বাংলার পক্ষ থেকে। তবে তিনি এটি নিয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।

শিক্ষাবিদরা মনে করছেন, অনলাইনে ক্লাস চালু করার বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে যে পরিকল্পনার বিষয়টি বলা হয়েছে, তা বাস্তবায়ন করা বেশ কঠিন হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা গবেষণা ইন্সটিটিউটের অধ্যাপক মোহাম্মদ মজিবুর রহমান বিবিসি বাংলাকে বলেন, “এই মুহূর্তে জ্বালানি নিয়ে সংকট রয়েছে। কিন্তু সেই সংকট মোকাবেলা করতে গিয়ে আমরা ছোট সংকটকে একটা বড় সংকটের দিকে নিয়ে যাচ্ছি”।

এর কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, করোনাভাইরাস মহামারির সময় অনলাইনের ক্লাসে বড় ধরনের শিক্ষা ঘাটতি তৈরি হয়েছিল, সেটি থেকে এখনো বের হওয়া যায় নি”।

তিনি মনে করেন, যখন অনলাইনে ক্লাস হবে, তখন শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের অনেকেই অফিসে থাকবে। তখন বাচ্চারা অনলাইন ক্লাসের জন্য ডিভাইস কোথায় পাবে সেই প্রশ্নও তার।

অন্যদিকে, যাদের মোবাইল বা অনলাইন ক্লাসের জন্য যে ডিভাইস কেনার প্রয়োজন সেটি কত শতাংশ শিক্ষার্থীদের কেনা সম্ভব সেই প্রশ্নটিকেও গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন অধ্যাপক রহমান।

এক্ষেত্রে এই সংকট মোকাবেলায় সরকারি দল বিরোধীদল সবার সমন্বয়ে একটি কমিটি বা কমিশন গঠন করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।