সম্পূর্ণ ওলট-পালট হয়ে যাওয়া

ব্র্যাডফোর্ডের ফৌজদারি আইনজীবী জাবরান হুসেইন বলেন, শুধু আয়েশার সাথে এমন ঘটেছে তা ভাবার কারণ নেই।

তিনি এমন আরও অনেক ব্রিটিশ নাগরিকের সঙ্গে কাজ করেছেন, যাদের বিরুদ্ধে তাদের অভিবাসী সঙ্গীরা ভিসা সংক্রান্ত কারণে মিথ্যা নির্যাতনের অভিযোগ করেছে বলে তিনি মনে করেন।

তিনি বলেন, তার কিছু ক্লায়েন্টের জীবন “পুরোপুরি ওলট-পালট” হয়ে গেছে। অথচ যারা এসব অভিযোগ করছে, “তারা এখনো স্থায়ী বসবাসের সুযোগ পেতে পারে, কারণ অভিবাসন আইনে অভিযোগের রায় আসা বাধ্যতামূলক নয়”।

তিনি বলেন, অভিবাসী স্বামী বা স্ত্রীদের অনির্দিষ্টকালের জন্য বসবাসের অনুমতি পেতে সাধারণত বেশ কিছু কঠিন শর্ত থাকে, যেমন ইংরেজি ভাষার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া এবং ফি প্রদান করা। কিন্তু পারিবারিক সহিংসতা সংক্রান্ত ক্ষেত্রে সেই নিয়মগুলো প্রযোজ্য নয়।

হুসেন আরও বলেন, “এই পন্থা সদিচ্ছা নিয়েই তৈরি করা হয়েছিল এবং এটি সমাজের সবচেয়ে দুর্বল অংশ, অর্থাৎ পারিবারিক সহিংসতার শিকার ব্যক্তিদের সুরক্ষা দেওয়ার জন্যই ছিল”।

তবে আমার মনে হয় কিছু মানুষ আছে যারা নিজেদের স্বার্থে কিংবা স্থায়ী বসবাসের দ্রুত অনুমতি পেতে এই ব্যবস্থার অপব্যবহারকে ঠিক কাজ বলে মনে করে”।

এই নিয়মের অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ পার্লামেন্টেও তোলা হয়েছে।

২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে ওয়েস্ট ইয়র্কশায়ারের কনজারভেটিভ এমপি রোবি মুর বলেন, সম্প্রতি যুক্তরাজ্যে এসে তার এলাকায় কিসলিতে বসবাসকারী কিছু স্বামী বা স্ত্রী তাদের সঙ্গীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করছে- এ ধরনের ‘উদ্বেগজনক’ একটি প্রবণতা তিনি দেখছেন।

তিনি এমপিদের জানান, “কিছু কিছু পারিবারিক নির্যাতনের অভিযোগ এখন যুক্তরাজ্যে আসার মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই করা হচ্ছে এবং এসব দাবি করছেন নারী ও পুরুষ উভয়েই”।

“স্থায়ী বসবাসের মর্যাদা দ্রুত পাওয়ার জন্য কিংবা স্থায়ী বসবাস/ভিসা নবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় খরচ এড়ানোর উদ্দেশ্যে পারিবারিক নির্যাতনের অভিযোগ করার সুযোগটি ভালোবাসাপূর্ণ সম্পর্কে থাকা কিছু ব্যক্তি অপপ্রয়োগ করছে বলে আমার আশঙ্কা হয়।”