ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলীয় মিন্দানাও দ্বীপের উপকূলে শক্তিশালী ৭.৮ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। সোমবারের এই ভূমিকম্পের পর ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়। উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ ও উঁচু স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের প্রাণহানি বা ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া না গেলেও স্থানীয় প্রশাসন সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি ও আহতদের তথ্য সংগ্রহে কাজ করছে। শক্তিশালী কম্পনের কারণে বহু মানুষ আতঙ্কে ঘরবাড়ি ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন।
উপকূলীয় এলাকায় সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে মানুষ
ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থলের কাছাকাছি এলাকাগুলোতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে উপকূলীয় গ্রামগুলো থেকে মানুষকে সরিয়ে নেওয়া শুরু হয়েছে। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কিছু এলাকায় সমুদ্রের পানি সাময়িকভাবে সরে যাওয়ার ঘটনা দেখা গেলেও এখন পর্যন্ত বড় কোনো সুনামি আঘাত হানার খবর পাওয়া যায়নি।
তবে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং উপকূলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। সেতু ও কয়েকটি স্থাপনায় ফাটল দেখা দেওয়ার পাশাপাশি একটি বড় ধর্মীয় স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।
বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত
ভূমিকম্পের কেন্দ্রের কাছাকাছি সারাঙ্গানি প্রদেশে বিদ্যুৎ ও টেলিযোগাযোগ সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। নিরাপত্তার স্বার্থে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শ্রেণিকক্ষ কার্যক্রমও স্থগিত রাখা হয়েছে।
স্থানীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত কোনো ভবন ধসে পড়ার খবর পাওয়া যায়নি। তবে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ চিত্র জানতে মাঠপর্যায়ে মূল্যায়ন কার্যক্রম চলছে।
আফটারশকে বাড়ছে উদ্বেগ
মূল ভূমিকম্পের পর একাধিক আফটারশক অনুভূত হয়েছে। কিছু এলাকায় আসবাবপত্র পড়ে যাওয়া, টেলিভিশন ও গৃহস্থালি যন্ত্রপাতির ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থাগুলো জানিয়েছে, আফটারশক আরও কিছু সময় অব্যাহত থাকতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে এটি ছিল সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পগুলোর একটি। অনেকেই আতঙ্কে খোলা জায়গায় অবস্থান করছেন।
দ্রুত ত্রাণ ও সহায়তা কার্যক্রম
ফিলিপাইনের কেন্দ্রীয় সরকার জরুরি সাড়া কার্যক্রম শুরু করেছে। দুর্যোগ মোকাবিলা, উদ্ধার ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা হয়েছে।
ফিলিপাইন ও ইন্দোনেশিয়া উভয় দেশই ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে অবস্থিত। প্রশান্ত মহাসাগরীয় অগ্নিবলয়ের অংশ হওয়ায় এ অঞ্চলে প্রায়ই শক্তিশালী ভূমিকম্পের ঘটনা ঘটে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এই ধরনের ভূমিকম্পের পর সুনামির ঝুঁকি থাকায় সতর্কতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।












