অযোধ্যার রামমন্দিরে অনুদানের অর্থ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে দীর্ঘদিনের নীরবতা ভেঙেছেন সদ্য পদত্যাগ করা ট্রাস্টের সাবেক সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাই। তিনি বলেছেন, ট্রাস্টের অনুরোধেই এতদিন প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি। এখন প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও চূড়ান্ত তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সবাইকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মন্তব্য নয়
সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করা এক হাতে লেখা বার্তায় চম্পত রাই জানান, গত ৬ জুন থেকে রামমন্দিরের দানবাক্সে জমা অর্থ গণনার সময় চুরির অভিযোগ নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা চলছে। এ সময় তাকে নিয়েও বিভিন্ন অভিযোগ ওঠে। তবে ট্রাস্টের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়ে তিনি নীরব ছিলেন, কারণ বিশেষ তদন্ত দল একটি প্রাথমিক প্রতিবেদন জমা দিয়েছিল এবং সেটি যাচাইয়ের প্রক্রিয়ায় ছিল।
তিনি বলেন, তদন্তের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত বিভ্রান্তিকর তথ্য বা গুজবের জবাব দেওয়া উচিত নয়। তদন্ত শেষ হলে প্রকৃত সত্য সবার সামনে স্পষ্ট হয়ে উঠবে।
দীর্ঘ জনজীবনের কথা স্মরণ
চম্পত রাই জানান, ১৯৯১ সালের অক্টোবর থেকে তিনি অযোধ্যায় সাংগঠনিকভাবে কাজ করে আসছেন। প্রায় ৪৫ বছরের জনজীবনে তিনি সবসময় স্বচ্ছতা বজায় রাখার চেষ্টা করেছেন। সত্যের প্রতিই তার আস্থা রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ট্রাস্টে বড় পরিবর্তন
অনুদান বিতর্কের পর রামমন্দির ট্রাস্টে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। ট্রাস্ট চম্পত রাইয়ের সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে এবং ট্রাস্টি অনিল মিশ্রের পদত্যাগ গ্রহণ করেছে। একই সঙ্গে প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা এক কর্মকর্তাকে অপসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আটজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ট্রাস্টের দাবি, তদন্তে উঠে আসা তথ্যের ভিত্তিতেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
নতুন প্রধান নির্বাহী নিয়োগের উদ্যোগ
ট্রাস্টের ভাবমূর্তি পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে নতুন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগের জন্য তিন সদস্যের একটি অনুসন্ধান কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি উপযুক্ত প্রার্থী নির্বাচন করে ট্রাস্টের কাছে সুপারিশ করবে।
অযোধ্যায় অনুষ্ঠিত ট্রাস্টের বৈঠকে অধিকাংশ সদস্য সরাসরি উপস্থিত ছিলেন এবং কয়েকজন ভার্চুয়ালি অংশ নেন। তবে চম্পত রাই ও অনিল মিশ্র ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না।
রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অঙ্গনে আলোড়ন
রামমন্দিরে অনুদান ব্যবস্থাপনাকে ঘিরে ওঠা অভিযোগ ইতোমধ্যেই ব্যাপক ধর্মীয় ও রাজনৈতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ট্রাস্টের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তগুলোকে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন সবার নজর বিশেষ তদন্ত দলের চূড়ান্ত প্রতিবেদনের দিকে, কারণ সেটিই নির্ধারণ করবে অভিযোগগুলোর প্রকৃত ভিত্তি এবং পরবর্তী পদক্ষেপ।
রামমন্দিরকে ঘিরে এই বিতর্ক আগামী দিনেও জনমনে এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।












