লেবাননে সামরিক অভিযানের সময় বেসামরিক পরিবারের ওপর হামলা চালিয়ে পুরো পরিবার নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে। এসব হামলাকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে তদন্তের আহ্বান জানানো হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, বেসামরিক মানুষের জীবন রক্ষায় আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের মৌলিক নীতিগুলো যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি।
এক সপ্তাহে ২৪ বেসামরিকের মৃত্যু
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্চ মাসের ৬ থেকে ১৩ তারিখের মধ্যে লেবাননের বিভিন্ন আবাসিক বাড়িতে চালানো তিনটি পৃথক হামলায় অন্তত ২৪ জন বেসামরিক মানুষ নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ১২ জনই শিশু। এসব হামলায় একই পরিবারের একাধিক সদস্য প্রাণ হারান, যা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
তদন্তে হামলায় বেঁচে যাওয়া ব্যক্তি, নিহতদের স্বজন, চিকিৎসাসেবাকর্মী, স্থানীয় কর্মকর্তা এবং ঘটনাস্থলে যাওয়া সাংবাদিকসহ বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। সংগৃহীত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে দাবি করা হয়েছে, হামলাগুলোর সময় বেসামরিক মানুষ ও সামরিক লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে প্রয়োজনীয় পার্থক্য করা হয়নি এবং বেসামরিক প্রাণহানি কমানোর জন্য যথাযথ সতর্কতাও নেওয়া হয়নি।
আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণে এমন যুক্তিসংগত ভিত্তি পাওয়া গেছে যে, এসব হামলার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘিত হয়েছে। বেসামরিক মানুষ ও তাদের বসতবাড়িকে লক্ষ্যবস্তু করা কিংবা হামলার আগে সম্ভাব্য ক্ষতি কমানোর যথেষ্ট ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগও উত্থাপন করা হয়েছে।
এ ঘটনায় জড়িতদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও সক্রিয় ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ইসরায়েলের অবস্থান
ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কিছু হামলা সশস্ত্র গোষ্ঠীর সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে পরিচালিত হয়েছিল এবং অন্য কয়েকটি ঘটনার বিষয়ে পর্যালোচনা চলছে। তাদের দাবি, সামরিক অভিযানের সময় বেসামরিক মানুষের ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।
অন্যদিকে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেছেন, লেবাননে পরিচালিত সামরিক অভিযান ছিল সীমান্তে সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলার জবাব। তার দাবি, অভিযানের মাধ্যমে ওই গোষ্ঠীর সামরিক সক্ষমতা ও নেতৃত্বের বড় অংশ দুর্বল করে দেওয়া হয়েছে। সীমান্তবর্তী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট এলাকায় সামরিক উপস্থিতি অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান।
যুদ্ধবিরতির পরও থামেনি হামলা
সম্প্রতি দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের অবসান ঘটানোর লক্ষ্যে একটি আন্তর্জাতিক উদ্যোগের ভিত্তিতে দুই পক্ষ একটি কাঠামোগত সমঝোতায় পৌঁছায়। এর আগে বৃহত্তর আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানোর উদ্যোগের অংশ হিসেবে লেবাননে যুদ্ধবিরতির পথও তৈরি হয়েছিল।
তবে সেই উদ্যোগের পরও দক্ষিণ লেবাননে সময়ে সময়েই হামলার ঘটনা ঘটছে। এসব হামলায় এখনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যাচ্ছে, যা অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে আরও জটিল করে তুলছে।












