মিয়ানমারের মাগওয়ে ও রাখাইন রাজ্যের সীমান্তবর্তী একটি গ্রামে জান্তা বাহিনীর প্যারামোটর হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে চারজনই শিশু বলে স্থানীয় প্রতিরোধ সূত্র জানিয়েছে। হামলায় আহতদের অধিকাংশও শিশু। ঘটনাটি ঘটে জুনক্যা গ্রামে, যেখানে থায়েত জেলা পিপলস ডিফেন্স ফোর্স ব্যাটালিয়ন সক্রিয় রয়েছে বলে জানা গেছে।
জান্তা বাহিনী দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে দুর্গম গ্রামাঞ্চলে আকাশপথে হামলা চালিয়ে আসছে, যেখানে সাধারণ যুদ্ধবিমানের পাশাপাশি সস্তা ও দ্রুত মোতায়েনযোগ্য প্যারামোটর ব্যবহারের প্রবণতা বেড়েছে। মানবাধিকার পর্যবেক্ষকরা বহুবার সতর্ক করেছেন যে এ ধরনের হামলায় বেসামরিক জনগণ, বিশেষত শিশুরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে, কারণ গ্রামীণ জনবসতি এলাকায় সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু চিহ্নিতকরণ প্রায় অসম্ভব।
মাগওয়ে ও রাখাইনের সীমান্ত এলাকা দীর্ঘদিন ধরে জান্তা ও স্থানীয় প্রতিরোধ গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষের কেন্দ্রবিন্দু, যেখানে আরাকান আর্মিসহ বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী সক্রিয়। রাখাইনে চলমান সংঘাত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপরও প্রত্যক্ষ প্রভাব ফেলছে, কারণ এই রাজ্যেই বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া অধিকাংশ রোহিঙ্গার আদি বসতি ছিল।
বাংলাদেশের জন্য এই হামলা রাখাইনের অস্থিতিশীলতার একটি সতর্কবার্তা, কারণ সেখানে সহিংসতা যত দীর্ঘায়িত হবে, রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনের সম্ভাবনা তত দূরে সরে যাবে। কক্সবাজারের শিবিরগুলোতে থাকা পরিবারগুলোর কাছে রাখাইন থেকে আসা প্রতিটি সহিংসতার খবরই তাদের ফিরে যাওয়ার আশাকে আরও অনিশ্চিত করে তোলে।












