যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, সিএনএন, এমএস নাউ ও পলিটিকোকে হোয়াইট হাউসে ঢুকতে দেওয়া হবে না। শুক্রবার নিজের সামাজিক যোগাযোগ পোস্টে তিনি এ কথা জানান। এনপিআরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্পের দাবি, তিন সংবাদমাধ্যম ক্রমাগত ভুয়া খবর প্রচার করছে। হোয়াইট হাউসে সংবাদমাধ্যম নিষিদ্ধ করার ঘোষণা তিনি অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে জানিয়েছেন। একই সঙ্গে সতর্ক করেছেন, অন্য ভুয়া সংবাদমাধ্যমও একই পথে যেতে পারে। ঘোষণার পর একই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক প্রধান সংবাদমাধ্যম খবরটি প্রকাশ করে। ট্রাম্প এর আগেও গণমাধ্যমের সমালোচনায় ভুয়া খবর শব্দটি বারবার ব্যবহার করেছেন। এবারের ঘোষণায় সেই সমালোচনা সরাসরি প্রবেশাধিকার সীমিত করার পর্যায়ে গড়িয়েছে।
পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, প্রেসিডেন্টকে নিয়ে প্রতিবেদন করার সময় কোনো সংবাদমাধ্যম ক্রমাগত কল্পকাহিনি ও মিথ্যা প্রচার করতে পারে না। পরে এ বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আদালতেরও এমন ভুয়া খবর প্রকাশের অনুমতি দেওয়া উচিত নয়। দ্য হিন্দুর ভিডিও প্রতিবেদনে তাঁর এই মন্তব্য উঠে এসেছে। এনপিআর মনে করিয়ে দিয়েছে, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে সংবাদ সংস্থা এপির সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসের কয়েকটি অনুষ্ঠানে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়েছিল। সেই ঘটনা নিয়ে মামলাও চলছে। এনপিআর আরও জানিয়েছে, বিভিন্ন সংবাদ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার ইতিহাস ট্রাম্পের আগে থেকেই আছে।
ওয়াশিংটন পোস্ট, সিএনএন, সিএনবিসি, অ্যাক্সিওস ও এনবিসি নিউজসহ যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান গণমাধ্যম ঘোষণাটি প্রকাশ করেছে। কয়েকটি প্রতিবেদনের শিরোনামে নিষিদ্ধ শব্দটি উদ্ধৃতিচিহ্নের ভেতরে রাখা হয়েছে। প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত তিন সংবাদমাধ্যমের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া আমাদের হাতে আসেনি। ঘোষণাটি বাস্তবে কীভাবে কার্যকর হবে, তা নিয়েও বিস্তারিত তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। যাচাইয়ের দিক থেকে দুটি প্রশ্ন বাকি: ঘোষণাটি লিখিত আদেশে রূপ পাবে কি না, আর অন্য সংবাদমাধ্যমের ওপরও একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে কি না। সেই তথ্য সামনে এলে বিষয়টির আইনি ও প্রশাসনিক দিক স্পষ্ট হবে।
হোয়াইট হাউসে সংবাদমাধ্যম নিষিদ্ধ করার ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে বিতর্ক নতুন করে উসকে দিতে পারে। হোয়াইট হাউসে প্রবেশাধিকার সংবাদমাধ্যমের কাছে কেবল সুবিধা নয়, প্রেসিডেন্টকে সরাসরি প্রশ্ন করার সুযোগও। সেই সুযোগ বন্ধ হলে পাঠক ও দর্শকের কাছে পৌঁছানো তথ্যের পরিমাণ কমে যায়। তাই ঘটনাটি শুধু তিনটি প্রতিষ্ঠানের নয়, বিস্তৃত অর্থে সংবাদ পাওয়ার অধিকারেরও প্রশ্ন। হোয়াইট হাউসের ব্রিফিং ও অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকা সংবাদকর্মীদের নিয়মিত কাজের অংশ। সেখানে প্রবেশ আটকে গেলে সরাসরি প্রশ্ন করা ও তথ্য যাচাই করার সুযোগ সংকুচিত হয়। সংবাদমাধ্যম ও সরকারের সম্পর্কের এই টানাপোড়েন যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে যেমন আলোচিত, তেমনি বিদেশেও নজর কাড়ছে। ঘটনাটির পরবর্তী ধাপ তাই সবার নজরে থাকবে।
বাংলাদেশের পাঠকের কাছেও বিষয়টি পরিচিত সুরে বাজে। এখানেও সরকার ও সংবাদমাধ্যমের সম্পর্ক, প্রবেশাধিকার এবং ভুয়া খবর শব্দের ব্যবহার নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশে হোয়াইট হাউসে সংবাদমাধ্যম নিষিদ্ধ করার ঘোষণা তাই বিশ্বজুড়ে সংবাদকর্মীদের নজর কাড়তে পারে। এপির পর এবার তিন সংবাদমাধ্যম, ট্রাম্পের তালিকা আরও লম্বা হয় কি না, সেটাই দেখার বিষয়।












