ইয়েমেনের তেলসমৃদ্ধ উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় মারিব প্রদেশে হুতি যোদ্ধাদের একটি অনুপ্রবেশের চেষ্টা প্রতিহত করার দাবি করেছে দেশটির সরকারি বাহিনী। শনিবারের ওই সংঘর্ষে ১২ জন হুতি যোদ্ধা নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইয়েমেনের সরকার।
সরকারের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, মারিব শহরের দক্ষিণে আল-ফালিহা এলাকায় সরকারি বাহিনীর প্রতিরক্ষা অবস্থানে ঢোকার চেষ্টা করে হুতিরা। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। সরকারি বাহিনীর প্রতিরোধের মুখে হুতিদের পিছু হটতে হয়। সংঘর্ষে আরও কয়েকজন হুতি যোদ্ধা আহত হয়েছেন বলে বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে।
ইয়েমেনের এক সামরিক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, মারিবের বিভিন্ন ফ্রন্টে হুতিরা যোদ্ধা ও তাদের মিত্র উপজাতীয় গোষ্ঠীগুলোকে সংগঠিত করছে। তাদের লক্ষ্য হতে পারে জ্বালানি ও প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ এই অঞ্চলটি দখলে নিয়ে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানো।
হুতিদের সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় সরকারি বাহিনীও মারিবের বিভিন্ন এলাকায় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করেছে বলে ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
এদিকে সংঘর্ষের সময় ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর পক্ষ থেকে হুতিদের অবস্থান ও তাদের শক্তিবৃদ্ধির জন্য আসা সদস্যদের লক্ষ্য করে কয়েক দফা বিমান হামলা চালানো হয়। মারিবের বিভিন্ন এলাকায় এসব হামলা চালানো হয়েছে বলে সামরিক সূত্র জানিয়েছে।
মারিবে নতুন করে সংঘর্ষের ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন ইয়েমেনের আরও কয়েকটি অঞ্চলে লড়াই তীব্র হচ্ছে। সামরিক সূত্রগুলোর বরাত দিয়ে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তাইজ এবং এর পাশের দক্ষিণাঞ্চলীয় লাহজ প্রদেশে সরকারি বাহিনী ও হুতিদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ৪৪ জন যোদ্ধা নিহত হয়েছেন।
ইয়েমেনের চলমান সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান রয়েছে মারিবের। অঞ্চলটি তেল ও গ্যাসসহ বিভিন্ন জ্বালানি সম্পদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে দীর্ঘদিন ধরেই সরকারি বাহিনী ও হুতিদের মধ্যে মারিবের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তীব্র লড়াই চলে আসছে।
ইয়েমেনের বর্তমান সংঘাত শুরু হয় ২০১৪ সালের শেষ দিকে। সে সময় হুতি বিদ্রোহীরা রাজধানী সানা এবং উত্তর ইয়েমেনের বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করে নেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারকে সমর্থন দিতে ২০১৫ সালের মার্চে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন একটি সামরিক জোট ইয়েমেনে হস্তক্ষেপ করে।
এরপর সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে রূপ নেয়। বিভিন্ন সময়ে যুদ্ধবিরতি ও শান্তি আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হলেও ইয়েমেনের বিভিন্ন এলাকায় সরকারি বাহিনী ও হুতিদের মধ্যে সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে।












