জিবুতিতে নিজেদের সামরিক ঘাঁটিতে যোগাযোগ ও তথ্য সংগ্রহের সক্ষমতা বাড়িয়েছে চীন। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ঘাঁটিতে নতুন যোগাযোগ সরঞ্জাম স্থাপনের ফলে চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) সংকেত গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের সক্ষমতা বাড়তে পারে। এর মাধ্যমে জিবুতি ও বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে অন্য দেশের সামরিক কার্যক্রম সম্পর্কে চীন আরও বেশি তথ্য পাওয়ার সুযোগ পেতে পারে।
চীন ২০১৭ সালে জিবুতিতে সামরিক ঘাঁটি চালু করে। সে সময় বেইজিং এটিকে নৌবহরের নিরাপত্তা কার্যক্রম, শান্তিরক্ষা ও মানবিক সহায়তা মিশনের জন্য একটি সহায়ক ঘাঁটি হিসেবে বর্ণনা করেছিল। পরে ঘাঁটিটি এডেন উপসাগর ও লোহিত সাগর এলাকায় চীনা নৌবাহিনীর কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে ওঠে।
সাম্প্রতিক আধুনিকায়নের গুরুত্ব আরও বেড়েছে জিবুতির কৌশলগত অবস্থানের কারণে। আফ্রিকার পূর্ব উপকূলে অবস্থিত দেশটি লোহিত সাগর, এডেন উপসাগর এবং মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক যোগাযোগপথের কাছাকাছি। ফলে এই অঞ্চলে সামরিক ও গোয়েন্দা তৎপরতা পর্যবেক্ষণের জন্য জিবুতির অবস্থান চীনসহ বিভিন্ন দেশের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।
যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর বাজেটসংক্রান্ত নথিতে বলা হয়েছে, জিবুতিতে অবস্থিত চ্যাবেলি এয়ারফিল্ড পূর্ব আফ্রিকার একমাত্র এমন স্থান, যেখান থেকে সশস্ত্র গোয়েন্দা, নজরদারি ও অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনার অনুমোদন রয়েছে। ফলে চীনের জিবুতি ঘাঁটিতে যোগাযোগ ও সংকেত-সংক্রান্ত সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের ক্ষেত্রেও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, ঘাঁটির নতুন যোগাযোগ অবকাঠামো যদি সত্যিই সংকেত গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের সক্ষমতা বাড়িয়ে থাকে, তাহলে জিবুতিতে অবস্থানরত বিভিন্ন দেশের সামরিক বাহিনীর যোগাযোগ ও কার্যক্রম সম্পর্কে চীনের পরিস্থিতি বোঝার ক্ষমতা আরও বাড়তে পারে। তবে ঠিক কী ধরনের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং এর পরিধি কতটা বিস্তৃত, তা প্রকাশ্যে নিশ্চিত নয়।
জিবুতিতে চীনের উপস্থিতি একই সঙ্গে দেশটির নৌবাহিনীর দীর্ঘমেয়াদি বিদেশি কার্যক্রমেরও অংশ। এডেন উপসাগর ও লোহিত সাগরে জলদস্যু দমন, বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা এবং অন্যান্য সামুদ্রিক অভিযানে চীনা নৌবাহিনীর উপস্থিতি রয়েছে। নতুন অবকাঠামো সেই সামরিক উপস্থিতিকে আরও কার্যকর করার পাশাপাশি আশপাশের অঞ্চলের সামরিক পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার সুযোগও বাড়াতে পারে।
আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের সংযোগস্থলে জিবুতির গুরুত্ব গত কয়েক বছরে আরও বেড়েছে। দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্রসহ একাধিক দেশের সামরিক উপস্থিতি রয়েছে। ফলে একই ভৌগোলিক এলাকায় বিভিন্ন শক্তির সামরিক অবকাঠামো পাশাপাশি অবস্থান করছে। চীনের ঘাঁটির আধুনিকায়ন সেই প্রতিযোগিতামূলক সামরিক পরিবেশে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।












