ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবার যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন তার অন্যতম সংক্ষিপ্ত সফরে। বর্তমান সূচি অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকালে নিউইয়র্কে পৌঁছে স্থানীয় সময় দুপুর ২টায় জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেবেন তিনি। এরপর একই দিনেই যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার কথা রয়েছে। ফলে সফরে এক রাতও দেশটিতে না কাটানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
সফরের সূচি বদলেছে একাধিকবার
নেতানিয়াহুর এবারের সফরকে ঘিরে কয়েক দিন আগেও পরিকল্পনা ছিল ভিন্ন। শুরুতে বুধবারের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর কথা ছিল তার। পরে সফরে টেক্সাস যুক্ত হয়, যেখানে প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্কের সঙ্গে বৈঠকের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এমনকি স্পেসএক্সের একটি স্থাপনাও পরিদর্শনের বিষয়টি বিবেচনায় ছিল।
নেতানিয়াহুর পক্ষ থেকে একটি অগ্রবর্তী প্রতিনিধিদল টেক্সাসে পৌঁছে প্রস্তুতিও শুরু করেছিল। তবে সপ্তাহান্তে তাদের জানানো হয়, টেক্সাস সফর বাতিল করা হয়েছে। ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সফরটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেতানিয়াহুই নিয়েছেন।
টেক্সাস সফর বাদ পড়ায় যুক্তরাষ্ট্রে নেতানিয়াহুর অবস্থানের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এখন পুরো সফরের মূল উদ্দেশ্য জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়া এবং সীমিত কিছু কূটনৈতিক যোগাযোগে আবদ্ধ থাকার সম্ভাবনাই বেশি।
ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক হচ্ছে না
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের জন্য নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে চেষ্টা করা হলেও বর্তমান সূচিতে এমন কোনো বৈঠক নেই। মার্কিন এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে ট্রাম্প যেসব নেতার সঙ্গে বৈঠক করবেন, তাদের তালিকায় নেতানিয়াহু নেই।
বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী, ট্রাম্প নিউইয়র্কে থাকবেন সপ্তাহের শুরুতে এবং মঙ্গলবার জাতিসংঘে ভাষণ দেবেন। এরপর তিনি ওয়াশিংটনে ফিরে যাবেন। বৃহস্পতিবার যখন নেতানিয়াহু জাতিসংঘের মঞ্চে ভাষণ দেবেন, তখন ট্রাম্পের ওয়াশিংটনে থাকার কথা।
মার্কো রুবিওর সঙ্গে বৈঠকের পরিকল্পনা
ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক না হলেও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে নেতানিয়াহুর সাক্ষাতের পরিকল্পনা রয়েছে। রুবিও বর্তমানে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সপ্তাহের কূটনৈতিক কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন। তবে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, সফরের চূড়ান্ত সূচি এখনো নির্ধারিত হয়নি।
উপসাগরীয় দেশগুলোর নেতাদের সঙ্গেও বৈঠকের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো বৈঠক চূড়ান্ত হওয়ার খবর নেই। সংক্ষিপ্ত সফরের কারণে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের সুযোগও আরও সীমিত হয়ে পড়েছে।
ইরান ও গাজা থাকবে আলোচনার কেন্দ্রে
নেতানিয়াহুর ভাষণ এমন এক সময়ে হতে যাচ্ছে, যখন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ইরান, গাজা যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে। প্রায় ১৩০টি দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবারের সাধারণ পরিষদে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
ট্রাম্পও তার ভাষণ ও উপসাগরীয় দেশগুলোর নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় ইরানকে গুরুত্ব দিতে পারেন। ইসরায়েলি প্রতিনিধিদলের কূটনৈতিক যোগাযোগেও ইরান, আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং গাজা যুদ্ধ প্রাধান্য পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নিরাপত্তা জোরদার নিউইয়র্কে
নেতানিয়াহুর ভাষণকে ঘিরে জাতিসংঘের ভেতরে ও বাইরে বিক্ষোভের আশঙ্কা রয়েছে। জাতিসংঘে ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন জানিয়েছেন, নেতানিয়াহু বক্তব্য দেওয়ার সময় প্রতিবাদ হতে পারে। গত বছর তার ভাষণের সময় বহু প্রতিনিধি হল থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলেন। এবারও জাতিসংঘের বাইরে ইসরায়েলবিরোধী বিক্ষোভের পাশাপাশি ইসরায়েলপন্থী কর্মসূচি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সাধারণ পরিষদের অধিবেশনকে কেন্দ্র করে নিউইয়র্কে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। হাজার হাজার পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি সিক্রেট সার্ভিস ও অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থা মোতায়েন রয়েছে। মার্কিন নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত সাধারণ পরিষদকে ঘিরে কোনো নির্দিষ্ট হুমকির তথ্য নেই। তবে জাতিসংঘ ভবন ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে নিরাপত্তা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে।
নেতানিয়াহুর সফর এমন সময় হচ্ছে, যখন নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি অতীতে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নিয়ে মন্তব্য করেছেন। পরে তিনি স্পষ্ট করেন, এ বিষয়ে যেকোনো পদক্ষেপ মার্কিন আইনের আওতাতেই হতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সদস্য নয়।
সবশেষ সূচি অপরিবর্তিত থাকলে বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে পৌঁছে জাতিসংঘে ভাষণ দেওয়ার পরই যুক্তরাষ্ট্র ছাড়বেন নেতানিয়াহু। ফলে সফরটি কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শেষ হওয়ার এবং যুক্তরাষ্ট্রে এক রাতও না কাটানোর সম্ভাবনা রয়েছে।












