২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের টুইন টাওয়ার ধসে পড়ার পর লোয়ার ম্যানহাটনে ছড়িয়ে পড়েছিল ঘন ধুলোর বিশাল মেঘ। ধ্বংসস্তূপের সেই ধুলো শুধু ভবনের কংক্রিট বা সাধারণ ময়লা ছিল না। এতে ছিল সূক্ষ্মভাবে গুঁড়ো হয়ে যাওয়া নির্মাণসামগ্রী, জ্বালানি পোড়ার উপজাত এবং ক্যাডমিয়াম, সিসা ও পারদের মতো ভারী ধাতুর কণা। ছিল অ্যাসবেস্টসও।
ধ্বংসের পর ওই বিষাক্ত ধুলো বাতাসের সঙ্গে ঢুকে পড়েছিল আশপাশের ভবনগুলোর ভেতরে। কার্পেট, পর্দা, আসবাব ও বিভিন্ন পৃষ্ঠে জমে থাকা ধুলো বহুদিন ধরে মানুষের সংস্পর্শে ছিল। কেউ কেউ সরাসরি ধুলোর মেঘের মধ্যে পড়েছিলেন, আবার অনেকে নিজেদের বাসা, কর্মস্থল বা স্কুলে ফিরে গিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে দূষিত পরিবেশে ছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র—সিডিসির হিসাব অনুযায়ী, ৯/১১-এর পর ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার-সংশ্লিষ্ট দূষণের সংস্পর্শে এসেছিলেন প্রায় ৪ লাখ মানুষ। তাঁদের মধ্যে দমকলকর্মী, জরুরি সেবাকর্মী এবং উদ্ধারকর্মীদের পাশাপাশি ছিলেন স্থানীয় বাসিন্দা, কর্মজীবী ও শিক্ষার্থীরাও।
২৫ বছর পর এখন সেই বিপর্যয়ের দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যপ্রভাব আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। বিশেষ করে ক্যানসারের বোঝা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্র স্বাস্থ্য কর্মসূচির মাধ্যমে আর্থিক সহায়তার জন্য যোগ্যতা অর্জন করা প্রায় ৫৪ হাজার জীবিত ভুক্তভোগীর মধ্যে এখন প্রায় অর্ধেকের ক্যানসার শনাক্ত হয়েছে। পাঁচ বছর আগের তুলনায় এই সংখ্যা প্রায় তিন গুণ। তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে ক্যানসারের ঝুঁকি স্বাভাবিকভাবেই বাড়ে। ফলে এই বৃদ্ধির পুরোটা ৯/১১-এর ধুলোর কারণে হয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে যাওয়া যায় না।
তবে গবেষকদের উদ্বেগের জায়গা হলো, কিছু নির্দিষ্ট ক্যানসারের হার সাধারণ জনগোষ্ঠীর তুলনায় বেশি দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে মেসোথেলিওমা নামের বিরল ক্যানসারের উপস্থিতি বিজ্ঞানীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হয়ে উঠেছে।
অ্যাসবেস্টসের ভয়াবহ প্রভাব
টুইন টাওয়ারের একটি ভবনে অগ্নিনিরোধক হিসেবে বিপুল পরিমাণ অ্যাসবেস্টস ব্যবহার করা হয়েছিল। ভবন ধসে পড়ার সময় এর সূক্ষ্ম তন্তু পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ে।
অ্যাসবেস্টসের সূক্ষ্ম, সূচের মতো তন্তু শ্বাসের সঙ্গে শরীরে প্রবেশ করে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে। এর সঙ্গে ফুসফুস, স্বরযন্ত্র ও ডিম্বাশয়ের ক্যানসারের সম্পর্ক রয়েছে। একই সঙ্গে এটি মেসোথেলিওমা সৃষ্টি করতে পারে—এক ধরনের বিরল ও আক্রমণাত্মক ক্যানসার, যা ফুসফুস ও পেটের মতো অভ্যন্তরীণ অঙ্গকে ঘিরে থাকা পাতলা আবরণে তৈরি হয়।
মেসোথেলিওমাকে গবেষকেরা অনেক সময় ‘সেন্টিনেল ক্যানসার’ হিসেবে বিবেচনা করেন। কারণ রোগটি শনাক্ত হলে অতীতে অ্যাসবেস্টসের সংস্পর্শের সঙ্গে এর সম্পর্ক খুঁজে পাওয়া তুলনামূলকভাবে সহজ।
তবে অ্যাসবেস্টসের সংস্পর্শে এলেই যে মেসোথেলিওমা হবে, তা নয়। কর্মক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি ও উচ্চমাত্রার অ্যাসবেস্টসের সংস্পর্শে আসা মানুষের মধ্যেও একটি অংশ পরবর্তী জীবনে এই ক্যানসারে আক্রান্ত হন। অ্যাসবেস্টস ফুসফুসে দাগ বা অ্যাসবেস্টোসিসও সৃষ্টি করতে পারে এবং ফুসফুসের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
৯/১১-এর পর মেসোথেলিওমার ঘটনা তাই গবেষকদের কাছে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। কারণ স্তন বা প্রোস্টেট ক্যানসারের মতো অনেক ক্যানসারের ক্ষেত্রে পরিবেশগত দূষণ ছাড়াও বয়স, জীবনযাপন ও জেনেটিক কারণ ভূমিকা রাখতে পারে। কিন্তু মেসোথেলিওমার সঙ্গে অ্যাসবেস্টসের সম্পর্ক তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি স্পষ্ট।
নর্থওয়েল হেলথের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার হেলথ প্রোগ্রামের পরিচালক ডা. জ্যাকুলিন মোলিনের তথ্য অনুযায়ী, কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত প্রায় ১ লাখ ৫৫ হাজার মানুষের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৩৮টি মেসোথেলিওমার ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। তাঁর মতে, সাধারণ জনগোষ্ঠীর তুলনায় এই হার প্রায় তিন গুণ বলে মনে হচ্ছে।
তবে এই হিসাবকে ভবিষ্যতের সম্পূর্ণ ক্যানসার পরিস্থিতির চিত্র হিসেবে দেখা যাচ্ছে না। কারণ মেসোথেলিওমার ক্ষেত্রে রোগ প্রকাশ পেতে কয়েক দশক পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
মাউন্ট সিনাই হেলথ সিস্টেমের বক্ষ সার্জারি বিভাগের চেয়ারম্যান ডা. রাজা ফ্লোরেস জানিয়েছেন, মেসোথেলিওমার সুপ্তকাল ২৫ থেকে ৫০ বছর পর্যন্ত হতে পারে। ফলে ৯/১১-এর ২৫ বছর পর যে ঘটনাগুলো এখন দেখা যাচ্ছে, সেগুলো দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যপ্রভাবের কেবল একটি অংশ হতে পারে।
ধুলো থেকে রোগ, ১৫ বছর পর ক্যানসার
৯/১১-এর ধুলোর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বোঝাতে গবেষকেরা একজন ব্যক্তির ঘটনাও তুলে ধরেছেন।
২০০১ সালে ওই ব্যক্তির বয়স ছিল ২৩ বছর। তিনি ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের কয়েক ব্লক দূরে থাকতেন। ১১ সেপ্টেম্বর তিনি বিশাল ধুলোর মেঘের মধ্যে পড়েছিলেন। হামলার পর প্রায় এক সপ্তাহ বাসার বাইরে থাকার পর ফিরে এসে দেখতে পান, ঘরের বিভিন্ন জায়গায় ধুলোর আস্তরণ জমে আছে।
তিনি নিজেই ঘর পরিষ্কার করেছিলেন। বাসাটি পেশাদারভাবে পরিষ্কার করা হয়নি। তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী, হামলার পর এক মাসেরও বেশি সময় বাসায় ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের ধুলো ছিল এবং কয়েক মাস ধরে তিনি বাতাসে সেই ধুলো দেখতে পেয়েছেন।
এই ব্যক্তির ধূমপানের অভ্যাস ছিল না এবং অতিরিক্ত ওজনও ছিল না। ২০১২ সালে তাঁর পেটে ব্যথা ও পেট ফাঁপার সমস্যা শুরু হয়। চার বছর পর, ২০১৬ সালে, চিকিৎসকেরা হার্নিয়ার চিকিৎসার জন্য অস্ত্রোপচার করতে গিয়ে অন্য একটি অস্বাভাবিকতা দেখতে পান।
৩৮ বছর বয়সে তাঁর পেটের দেয়ালে মেসোথেলিওমা শনাক্ত হয়।
চিকিৎসায় তাঁর শরীর থেকে টিউমার অপসারণের জন্য বড় ধরনের অস্ত্রোপচার করা হয়। এরপর পেটের ভেতরে উষ্ণ ক্যানসারবিরোধী ওষুধ প্রয়োগের মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়া হয়। ২০২৪ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার-সংশ্লিষ্ট চারজন মেসোথেলিওমা রোগীর ঘটনা তুলে ধরা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে ওই ব্যক্তি চিকিৎসায় ভালো সাড়া দিয়েছিলেন এবং গবেষণা প্রকাশের সময় জীবিত ছিলেন। অন্য দুজন মারা গিয়েছিলেন।
হামলার পরের সময়ের নতুন নথিতে পুরোনো প্রশ্ন
৯/১১-এর ২৫ বছর পূর্তির সময়ে প্রকাশিত কিছু নতুন নথি সেই সময়ের পরিবেশগত ঝুঁকি মূল্যায়ন নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
নিউইয়র্ক সিটি কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি এমন কিছু নথি প্রকাশ করেছে, যা দুটি তথ্য অধিকার-সংক্রান্ত মামলার পর প্রকাশ্যে আসে। এর মধ্যে ২০০১ সালের ডিসেম্বরের একটি স্মারকলিপিও রয়েছে। সেটি লিখেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থার পরিবেশবিজ্ঞানী ক্যাট জেনকিন্স।
ওই নথিতে একটি সম্ভাব্য পরিস্থিতির হিসাব করা হয়েছিল—কেউ যদি ১১ সেপ্টেম্বরের ধুলোর মেঘের মধ্যে দিয়ে নিজের লোয়ার ম্যানহাটনের বাসায় ফিরে যান, কয়েক দিন বাইরে থাকার পর আবার বাসায় ফিরে নিজেই পরিষ্কার করেন, তাহলে তাঁর মেসোথেলিওমার ঝুঁকি কতটা বাড়তে পারে।
জেনকিন্সের হিসাব অনুযায়ী, এমন পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত ঝুঁকি ১০০ জনে একজন পর্যন্ত হতে পারে। আর ওই ব্যক্তি যদি পরবর্তী ১৫ বছর একই বাসায় থাকতেন, হিসাব করা ঝুঁকি আরও বেড়ে ১০ জনে একজন হতে পারত।
তবে এগুলো ছিল নির্দিষ্ট একটি কাল্পনিক পরিস্থিতির ভিত্তিতে করা তৎকালীন ঝুঁকি-হিসাব। এগুলোকে ৯/১১-পরবর্তী সব বাসিন্দার প্রকৃত ঝুঁকি হিসেবে ধরা যায় না।
প্রথম দিকের পরীক্ষা নিয়ে বিতর্ক
৯/১১-এর পরপরই যুক্তরাষ্ট্রের পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থা সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করেছিল যে নিউইয়র্ক ও ওয়াশিংটনের বাতাসে অ্যাসবেস্টস বা অন্যান্য ক্ষতিকর পদার্থের মাত্রা উদ্বেগজনক নয়।
কিন্তু পরবর্তী তদন্তে পরীক্ষার পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। শুরুতে বাইরে বাতাসে অ্যাসবেস্টসের মাত্রার ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। অথচ ভবনের ভেতরে দূষিত কণা আটকে গিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে থাকতে পারে—এই বিষয়টি যথেষ্ট গুরুত্ব পায়নি বলে সমালোচনা রয়েছে।
আরেকটি সমস্যা ছিল অ্যাসবেস্টস শনাক্ত করার পরীক্ষাপদ্ধতি। প্রাথমিক পরীক্ষায় এমন একটি অপটিক্যাল মাইক্রোস্কোপি পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছিল, যা তুলনামূলক বড় তন্তু শনাক্ত করতে পারে। পরে আরও সংবেদনশীল ট্রান্সমিশন ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপি পরীক্ষায় অনেক ছোট অ্যাসবেস্টস তন্তুও শনাক্ত হয়।
গ্রাউন্ড জিরো ইলেক্টেড অফিসিয়ালস টাস্ক ফোর্সের জন্য করা একটি পরীক্ষায় ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের কাছের দুটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে অ্যাসবেস্টসের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি পাওয়া যায়। পরিবেশবিজ্ঞানী জেনকিন্স পরে বলেন, পরীক্ষায় প্রতি একটি তন্তুর বিপরীতে প্রায় নয়টি অ্যাসবেস্টস তন্তু শনাক্ত হয়েছিল।
এই পরীক্ষার প্রতিবেদনে অ্যাসবেস্টস অপসারণে অভিজ্ঞ পেশাদারদের দিয়ে ঘর পরিষ্কার করার এবং পরিষ্কার ও নিরাপদ ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত সেখানে না ফেরার সুপারিশ করা হয়েছিল।
অন্যদিকে, নিউইয়র্কের কর্মকর্তারা বাসিন্দাদের নিজেরাই ভেজা মপ বা ভেজা কাপড় দিয়ে পরিষ্কার করার এবং সম্ভব হলে হেপা ফিল্টারযুক্ত ভ্যাকুয়াম ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছিলেন।
ধুলো ঘরে ফিরে আসায় বাড়তে পারে দীর্ঘমেয়াদি সংস্পর্শ
৯/১১-এর পর শুধু হামলার দিনই মানুষ দূষিত পদার্থের সংস্পর্শে এসেছিলেন—বিষয়টি এতটা সরল নয়। বাসা, অফিস বা স্কুলের ভেতরে জমে থাকা ধুলো পরবর্তী সময়েও মানুষের সংস্পর্শে আসতে পারে।
কার্পেট পরিষ্কার করতে ভ্যাকুয়াম ব্যবহার, মেঝে ঝাড়ু দেওয়া কিংবা জুতার মাধ্যমে বাইরে থেকে ধুলো ঘরে নিয়ে আসার মতো সাধারণ কাজেও জমে থাকা কণা আবার বাতাসে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
ফলে পরিবেশগত স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একটি অংশের ধারণা, হামলার পর কয়েক মাস ধরে কিছু মানুষ নিজেদের বাসার ভেতরেই পুনরায় দূষণের সংস্পর্শে এসে থাকতে পারেন।
ম্যাসাচুসেটস বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশগত স্বাস্থ্যবিজ্ঞানের অধ্যাপক রিচার্ড পেল্টিয়ারের মতে, ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের ধুলোকে সাধারণ শহুরে ধুলোর মতো দেখা ঠিক নয়। ভবন ধসের সময় কংক্রিট, জিপসাম বোর্ড, কাচের তন্তু, কার্পেট, সংরক্ষিত রাসায়নিকসহ বিপুল পরিমাণ উপাদান অত্যন্ত সূক্ষ্ম কণায় পরিণত হয়েছিল। আগুন ও ধ্বংসের ফলে এতে ধাতু, অ্যাসবেস্টস এবং বিভিন্ন দহনজাত রাসায়নিকও যুক্ত হয়েছিল।
২৫ বছর পরও শেষ হয়নি ৯/১১-এর স্বাস্থ্যপ্রভাব
৯/১১-এর তাৎক্ষণিক প্রাণহানি ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের ঘটনাতেই ঘটেছিল। কিন্তু সেই দিনের ধুলো ও দূষণের স্বাস্থ্যপ্রভাব বহু বছর ধরে মানুষের শরীরে প্রকাশ পাচ্ছে।
বর্তমানে বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্র স্বাস্থ্য কর্মসূচিতে নতুন করে মানুষ যুক্ত হচ্ছেন। শুরুতে উদ্ধার ও জরুরি সেবাকর্মীদের অংশগ্রহণ বেশি থাকলেও পরবর্তী সময়ে স্থানীয় বাসিন্দা, কর্মজীবী ও শিক্ষার্থীদের মতো ‘সারভাইভার’দের নতুন করে যুক্ত হওয়ার হার বেড়েছে। ২০২৪ ও ২০২৫ সালে কর্মসূচিতে নতুন করে যুক্ত হওয়া সারভাইভারের সংখ্যা প্রথম সাড়াদানকারীদের প্রায় দ্বিগুণ ছিল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এর একটি কারণ হলো অনেক মানুষ এখনও জানেন না যে তাঁরা চিকিৎসা সহায়তার জন্য যোগ্য হতে পারেন।
ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের আশপাশে বসবাসকারী, কাজ করা বা পড়াশোনা করা মানুষদের মধ্যে অনেকের ক্ষেত্রেই ৯/১১-এর দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি এখনো সামনে আসছে। বয়স বাড়ার সঙ্গে ক্যানসারের ঝুঁকি বৃদ্ধিও এই সময়ের সঙ্গে মিলে যাচ্ছে। তাই কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির ক্যানসার শুধুমাত্র ৯/১১-এর ধুলোর কারণে হয়েছে কি না, তা সব ক্ষেত্রে নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।
তবে মেসোথেলিওমার মতো ক্যানসারের ঘটনা, অ্যাসবেস্টসের উপস্থিতি এবং দীর্ঘ সময়ের দূষণের প্রমাণ গবেষকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সতর্কসংকেত হয়ে উঠেছে।
৯/১১-এর স্বাস্থ্য ইতিহাস তাই শুধু একটি দিনের ধ্বংসের গল্প নয়। ধসে পড়া ভবনের সঙ্গে তাৎক্ষণিক বিপর্যয় শেষ হলেও, ধুলো, বিষাক্ত পদার্থ ও দীর্ঘমেয়াদি রোগের মাধ্যমে সেই বিপর্যয়ের প্রভাব মানুষের জীবনে বহু বছর ধরে থেকে গেছে। ২৫ বছর পরও সেই প্রভাবের পুরো চিত্র এখনো সম্পূর্ণ হয়নি।












