ইথিওপিয়ার উত্তরাঞ্চলে নতুন করে যে সামরিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, তাকে শুধু তিগ্রাই অঞ্চলে পুরোনো সংঘাতের প্রত্যাবর্তন হিসেবে দেখলে পরিস্থিতির প্রকৃত গুরুত্ব ধরা পড়বে না। দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে সক্রিয় একাধিক সশস্ত্র শক্তি এখন একই সময়ে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছে। তাদের রাজনৈতিক লক্ষ্য, জাতিগত পরিচয় ও আঞ্চলিক স্বার্থ এক নয়; কিন্তু প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদের সরকারের বিরুদ্ধে চাপ তৈরির ক্ষেত্রে তাদের মধ্যে একটি সাময়িক অভিন্নতা তৈরি হয়েছে।
এই পরিবর্তন ইথিওপিয়ার সংকটকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। সংঘাত যদি শুধু উত্তরাঞ্চলে সীমাবদ্ধ থাকে, তার প্রভাব এক ধরনের হবে। কিন্তু তিগ্রাই, আমহারা, ওরোমিয়া ও আফারের সংঘাত যদি পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হয় এবং এর সঙ্গে ইরিত্রিয়ার সম্পৃক্ততা বাড়ে, তাহলে সংকট দ্রুত ইথিওপিয়ার সীমানা ছাড়িয়ে লোহিত সাগর, সুদান এবং পুরো হর্ন অব আফ্রিকার নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করতে পারে।
তিগ্রাইয়ের পুরোনো যুদ্ধের নতুন অধ্যায়
ইথিওপিয়ার কেন্দ্রীয় সরকার ও তিগ্রাই পিপলস লিবারেশন ফ্রন্টের মধ্যে ২০২০ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ভয়াবহ যুদ্ধ হয়েছিল। ২০২২ সালের নভেম্বরে প্রিটোরিয়া চুক্তির মাধ্যমে যুদ্ধ থামলেও দুই পক্ষের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাগত বিরোধের মৌলিক সমাধান হয়নি।
চলতি বছরে তিগ্রাইয়ে টিপিএলএফের প্রভাব আবার বাড়তে থাকে। শান্তিচুক্তির আওতায় গঠিত অন্তর্বর্তী প্রশাসনও তাদের চাপে সরে যায়। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয় ২৩ সেপ্টেম্বর, যখন স্থানীয় সূত্রের বরাতে তিগ্রাই বাহিনীর মেকেল্লে বিমানবন্দর নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার খবর আসে। নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে ইথিওপিয়ান এয়ারলাইনস মেকেল্লে, আকসুম ও শিরেতে তাদের ফ্লাইট স্থগিত করে।
তবে এই ঘটনার গুরুত্ব বিমানবন্দর নিয়ন্ত্রণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বড় প্রশ্ন হলো, তিগ্রাইয়ের সংঘাত কি আবার একটি আঞ্চলিক ও বহুমুখী সংঘাতে পরিণত হতে যাচ্ছে?

বিরোধী শক্তির নতুন সমীকরণ
২১ সেপ্টেম্বর সাতটি সশস্ত্র গোষ্ঠী ‘ইথিওপিয়ান পিপলস ফোর্সেস অ্যালায়েন্স ফর সারভাইভাল’ নামে একটি জোট গঠনের ঘোষণা দেয়। তাদের ঘোষিত লক্ষ্য আবি আহমেদের সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরানো।
জোটে রয়েছে তিগ্রাই পিপলস লিবারেশন ফ্রন্ট, আমহারা অঞ্চলের ফানো আন্দোলন, ওরোমো লিবারেশন আর্মি এবং আফার, বেনিশাংগুল-গুমুজসহ অন্যান্য অঞ্চলের কয়েকটি গোষ্ঠী।
এখানে ইথিওপিয়ার বর্তমান সংকটের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈপরীত্য রয়েছে। ২০২০-২২ সালের যুদ্ধে ফানো কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষে তিগ্রাইয়ের বিরুদ্ধে লড়েছিল। এখন সেই ফানোই তিগ্রাইয়ের সঙ্গে একই রাজনৈতিক ও সামরিক সমীকরণে অবস্থান করছে।
অবশ্য এসব গোষ্ঠীকে একটি ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে দেখা যাবে না। তাদের ইতিহাস, জাতিগত পরিচয়, আঞ্চলিক স্বার্থ এবং রাজনৈতিক লক্ষ্য ভিন্ন। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান এবং আদ্দিস আবাবার ক্ষমতার কাঠামো পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা তাদের আপাতত একই দিকে নিয়ে এসেছে।
এই জোট কতটা কার্যকর সামরিক শক্তিতে পরিণত হবে, তা এখনো অনিশ্চিত। ভৌগোলিক দূরত্ব, রাজনৈতিক মতপার্থক্য ও পরস্পরবিরোধী স্বার্থ বড় বাধা। তবু এর অস্তিত্বই কেন্দ্রীয় সরকারের জন্য একাধিক ফ্রন্টে চাপ তৈরির সম্ভাবনা বাড়িয়েছে।
তিগ্রাই থেকে আমহারা, ওরোমিয়া ও আফার
আমহারায় ফানো ২০২৩ সাল থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সশস্ত্র লড়াই চালিয়ে আসছে। তিগ্রাই বাহিনীর সঙ্গে যদি এর মাঠপর্যায়ের সহযোগিতা তৈরি হয়, তাহলে সরকারকে একই সময়ে তিগ্রাই ও আমহারা—দুটি গুরুত্বপূর্ণ উত্তরাঞ্চলীয় ফ্রন্ট সামলাতে হতে পারে।
ওরোমিয়াতেও পরিস্থিতি ভিন্ন নয়। ওরোমো লিবারেশন আর্মি ওই অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় সরকারের বিরুদ্ধে সক্রিয়। নতুন জোটে তাদের অন্তর্ভুক্তি কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর আরেক ধরনের চাপ তৈরি করছে।
এতে একটি সামরিক বাস্তবতা স্পষ্ট হয়। তিগ্রাইয়ে বড় বাহিনী মোতায়েন করলে অন্য অঞ্চলে নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ কঠিন হতে পারে। আবার একাধিক ফ্রন্টে সেনা ছড়িয়ে দিলে কেন্দ্রীয় সরকারের সামরিক সক্ষমতা আরও বিভক্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।

আফার হয়ে উঠতে পারে কৌশলগত করিডর
আফার অঞ্চলটির গুরুত্ব শুধু অভ্যন্তরীণ সংঘাতের কারণে নয়। এটি তিগ্রাই, লোহিত সাগর ও জিবুতির মধ্যবর্তী একটি গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক এলাকায় অবস্থিত। ইথিওপিয়ার বাণিজ্য ও সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য জিবুতির সঙ্গে সংযোগকারী পথ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই এলাকায় সংঘাত বিস্তৃত হলে ইথিওপিয়ার অন্যতম প্রধান সরবরাহপথ ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। অর্থাৎ স্থানীয় সংঘাত তখন সরাসরি দেশটির বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত হবে।
আর এখানেই ইথিওপিয়ার অভ্যন্তরীণ যুদ্ধের সঙ্গে লোহিত সাগরের নিরাপত্তার সম্পর্কটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সংঘাত যত পশ্চিম ও উত্তর থেকে কৌশলগত বাণিজ্যপথের দিকে এগোবে, ততই এর আঞ্চলিক প্রভাব বাড়বে।
ইরিত্রিয়া: সংকটের সবচেয়ে স্পর্শকাতর দিক
ইথিওপিয়ার পরিস্থিতি বোঝার ক্ষেত্রে ইরিত্রিয়ার ভূমিকা সবচেয়ে সংবেদনশীল প্রশ্নগুলোর একটি। তিগ্রাই যুদ্ধের সময় ইরিত্রিয়া ইথিওপিয়া সরকারের সামরিক সহযোগী ছিল। কিন্তু যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর দুই দেশের সম্পর্ক আবার উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে লোহিত সাগরে ইথিওপিয়ার প্রবেশাধিকার নিয়ে বিরোধ। ১৯৯৩ সালে ইরিত্রিয়া স্বাধীন হওয়ার পর ইথিওপিয়া স্থলবেষ্টিত দেশে পরিণত হয়। সমুদ্রপথে প্রবেশাধিকার তাই ইথিওপিয়ার জন্য কৌশলগত ও অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
অন্যদিকে ইরিত্রিয়া ইথিওপিয়ার সমুদ্রপথে প্রবেশাধিকার এবং বিশেষ করে আসাব বন্দরের সম্ভাব্য ব্যবহারের বিষয়ে অত্যন্ত সংবেদনশীল।
ইথিওপিয়া অভিযোগ করেছে, ইরিত্রিয়া সরকারের বিরোধী কিছু সশস্ত্র গোষ্ঠীকে সহায়তা করছে। ইরিত্রিয়া এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। কিন্তু এমন অভিযোগই দেখিয়ে দেয়, তিগ্রাইয়ের সংঘাত এখন বৃহত্তর আঞ্চলিক সমীকরণের সঙ্গে কতটা যুক্ত হয়ে পড়েছে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হবে যদি ইথিওপিয়া ও ইরিত্রিয়ার মধ্যে সরাসরি সামরিক সংঘাত শুরু হয়। তখন তিগ্রাইয়ের প্রশ্ন আর শুধু একটি অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংকট থাকবে না; এটি লোহিত সাগরের নিরাপত্তার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।
লোহিত সাগরের বাণিজ্যপথে নতুন চাপ?

লোহিত সাগর আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ জলপথ। ইথিওপিয়ার সংকট সরাসরি এই জলপথকে নিয়ন্ত্রণ করে না, কিন্তু সংঘাত যদি আফার ও লোহিত সাগর-সংলগ্ন কৌশলগত এলাকায় বিস্তৃত হয়, তাহলে নিরাপত্তা পরিবেশে নতুন চাপ তৈরি হতে পারে।
বিশেষ করে ইথিওপিয়ার জিবুতি-নির্ভর সরবরাহপথ যদি দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের কারণে বাধাগ্রস্ত হয়, তাহলে এর অর্থনৈতিক প্রভাব দেশের বাইরে গিয়েও অনুভূত হতে পারে। ইরিত্রিয়ার সঙ্গে উত্তেজনা একই সময়ে বাড়লে পরিস্থিতির কৌশলগত গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পাবে।
এ কারণে ইথিওপিয়ার নতুন সংঘাতকে শুধু অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার লড়াই হিসেবে দেখার সুযোগ কমে আসছে। লোহিত সাগর, বাণিজ্যপথ, সমুদ্রপ্রবেশাধিকার এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর নিরাপত্তা—সবগুলো প্রশ্ন এখন একই সংকটের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যাচ্ছে।
সুদানের ওপরও বাড়ছে ঝুঁকি
ইথিওপিয়ার উত্তরাঞ্চলে সংঘাত বিস্তৃত হলে সবচেয়ে সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে সুদানে। দুই দেশের দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে এবং আল-ফাশাগা অঞ্চল নিয়ে পুরোনো উত্তেজনা রয়েছে। এর ওপর সুদান নিজেই একটি বিধ্বংসী গৃহযুদ্ধের মধ্যে রয়েছে।
ইথিওপিয়ার সংঘাত বাড়লে সীমান্তে নতুন করে মানুষের বাস্তুচ্যুতি, অস্ত্র পাচার এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীর চলাচলের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলো সরবরাহ কার্যক্রমের জন্য ব্যবহৃত হওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
ফলে ইথিওপিয়ার সংঘাত যদি সুদানের চলমান যুদ্ধের সঙ্গে কোনোভাবে যুক্ত হয়, তাহলে দুটি পৃথক সংকট পরস্পরকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

মিসরের স্বার্থ নীলনদের বাইরেও
ইথিওপিয়ার সংকট নিয়ে মিসরের উদ্বেগকে শুধু গ্র্যান্ড ইথিওপিয়ান রেনেসাঁ ড্যাম বা নীলনদের পানি প্রশ্নে সীমাবদ্ধ রাখলে বাস্তব পরিস্থিতির বড় অংশ বাদ পড়ে যায়।
প্রথমত, সুদানের নিরাপত্তা মিসরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ইথিওপিয়ার সংঘাত যত বিস্তৃত হবে, সুদানের সীমান্তে চাপ তত বাড়তে পারে।
দ্বিতীয়ত, লোহিত সাগরের নিরাপত্তা। আফারে সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে কিংবা বাণিজ্যপথ ও বন্দর-সংলগ্ন এলাকায় অস্থিরতা বাড়লে তার প্রভাব লোহিত সাগরের নিরাপত্তা পরিবেশে পড়তে পারে। এই জলপথ সুয়েজ খালের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত হওয়ায় এর নিরাপত্তা মিসরের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।
তৃতীয়ত, নীলনদ অববাহিকার রাজনৈতিক পরিবেশ। ইথিওপিয়ার অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা সরাসরি বাঁধ বা পানি ব্যবস্থাপনা নীতিতে পরিবর্তন আনবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। তবে নীলনদের প্রধান উজানের দেশটির অস্থিতিশীলতা পানি নিয়ে আলোচনার পরিবেশকে প্রভাবিত করতে পারে।
চতুর্থত, ইথিওপিয়ার রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা। ইথিওপিয়ার ভাঙন বা দীর্ঘস্থায়ী অরাজকতা মিসরের স্বার্থের সঙ্গেও সাংঘর্ষিক হতে পারে। একটি স্থিতিশীল রাষ্ট্র, যে অভ্যন্তরীণ বিরোধ রাজনৈতিকভাবে সামাল দিতে সক্ষম, আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য দীর্ঘস্থায়ী শূন্যতার চেয়ে ভিন্ন বাস্তবতা তৈরি করে।
সংঘাত কোন দিকে যাবে?
বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনটি সম্ভাব্য গতিপথ নজরে রাখা প্রয়োজন।
প্রথমটি হলো উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে এনে প্রিটোরিয়া চুক্তির আলোচনামুখী কাঠামোয় ফিরে যাওয়া। আফ্রিকান ইউনিয়ন ও আন্তঃসরকার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
দ্বিতীয়টি হলো সংঘাত উত্তরাঞ্চলে সীমিত থাকা, যদিও আমহারা ও আফারে বিচ্ছিন্ন লড়াই অব্যাহত থাকতে পারে। এতে ইথিওপিয়ার অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হবে, কিন্তু তা অবিলম্বে আঞ্চলিক যুদ্ধে পরিণত নাও হতে পারে।
তৃতীয় পরিস্থিতি হলো বিরোধী সশস্ত্র জোটের প্রকৃত সামরিক সমন্বয় তৈরি হওয়া এবং একই সময়ে ইরিত্রিয়ার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পৃক্ততা বাড়া। তখন ইথিওপিয়া একটি বহুমুখী যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে এবং ইরিত্রিয়ার সঙ্গে সরাসরি সংঘাতের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
এই তৃতীয় পরিস্থিতিই লোহিত সাগরের জন্য সবচেয়ে বড় উদ্বেগ তৈরি করতে পারে। কারণ তখন ইথিওপিয়ার অভ্যন্তরীণ সংঘাত কৌশলগত বাণিজ্যপথ, সমুদ্রপ্রবেশাধিকার ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার প্রশ্নের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হয়ে যাবে।

ইথিওপিয়ার সংকট থামানো কেন জরুরি
ইথিওপিয়ার বর্তমান পরিস্থিতিকে শুধু তিগ্রাই যুদ্ধের দ্বিতীয় অধ্যায় হিসেবে দেখা যথেষ্ট নয়। এটি কেন্দ্রীয় সরকার ও বিভিন্ন আঞ্চলিক শক্তির সংঘাত, জাতিগত ও আঞ্চলিক স্বার্থের দ্বন্দ্ব এবং প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর নিরাপত্তা উদ্বেগের সমষ্টি।
সবচেয়ে বড় ঝুঁকি কোনো একটি যুদ্ধক্ষেত্রে নয়; বরং বিভিন্ন সংঘাতের পারস্পরিক সংযোগে। তিগ্রাইয়ের যুদ্ধ যদি আমহারা ও ওরোমিয়ার সংঘাতের সঙ্গে যুক্ত হয়, আফারের মাধ্যমে বাণিজ্যপথে চাপ সৃষ্টি হয়, ইরিত্রিয়ার সঙ্গে উত্তেজনা বাড়ে এবং একই সময়ে সুদানের যুদ্ধের সঙ্গে সীমান্তগত যোগসূত্র তৈরি হয়, তাহলে পরিস্থিতির চরিত্র বদলে যেতে পারে।
তখন এটি আর তিগ্রাইয়ের আরেক দফা যুদ্ধ থাকবে না। এটি হয়ে উঠতে পারে হর্ন অব আফ্রিকার একটি বিস্তৃত কৌশলগত সংকট, যার অভিঘাত পড়বে সুদান, লোহিত সাগর, নীলনদ অববাহিকা এবং আঞ্চলিক বাণিজ্যপথে।
এই কারণেই মিসরসহ আঞ্চলিক দেশগুলোর জন্য মূল প্রশ্ন হওয়া উচিত ইথিওপিয়ার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে পক্ষ নেওয়া নয়; বরং সংঘাতকে এমন পর্যায়ে পৌঁছাতে না দেওয়া, যেখানে তা লোহিত সাগর ও বৃহত্তর হর্ন অব আফ্রিকার নিরাপত্তা সংকটে পরিণত হয়।












