সেপ্টেম্বরে প্রবাসী আয় নেমে এসেছে ১১ মাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে। মাসটিতে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ২৭৭ কোটি ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান সাংবাদিকদের কাছে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর চেয়ে কম আয় সর্বশেষ এসেছিল ২০২৫ সালের অক্টোবরে। তখন পরিমাণ ছিল ২৫৬ কোটি ডলার। তবে গত বছরের সেপ্টেম্বরের ২৬৯ কোটি ডলারের তুলনায় এবারের আয় প্রায় ৩ শতাংশ বেশি। অর্থাৎ বছরের হিসাবে প্রবৃদ্ধি থাকলেও মাসের হিসাবে গতি স্পষ্টভাবে কমেছে।
গত কয়েক মাসের চিত্রে গতি কমার প্রবণতা পরিষ্কার। মে মাস পর্যন্ত টানা ছয় মাস প্রতি মাসে ৩০০ কোটি ডলারের বেশি প্রবাসী আয় এসেছিল। জুনে তা নেমে আসে ২৮২ কোটি ডলারে। জুলাইয়ে আসে ২৮৬ কোটি এবং আগস্টে ২৯৭ কোটি ডলার। অর্থাৎ টানা চার মাস মাসিক প্রবাহ ৩০০ কোটির নিচে রয়েছে। আগস্টের তুলনায় সেপ্টেম্বরে প্রবাসী আয় কমেছে প্রায় ৭ শতাংশ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাপ্তাহিক হিসাবে মাসের শুরুতে দৈনিক প্রবাহ ভালো ছিল। ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এসেছিল ২৫৩ কোটি ডলার। শেষ দিকে প্রবাহ ধীর হয়ে যায়।
তবু পুরো প্রান্তিকের হিসাবে চিত্রটি এখনো শক্ত। চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরে দেশে এসেছে ৮৫৯ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এসেছিল ৭৫৯ কোটি ডলার। প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ১৩ দশমিক ৩ শতাংশ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা এর আগে বলেছিলেন, আনুষ্ঠানিক চ্যানেলে অর্থ পাঠানো সহজ হওয়া এবং হুন্ডি দমনে কড়াকড়ি প্রবাহ বাড়াতে সাহায্য করেছে। তবে সেপ্টেম্বরে প্রবাসী আয় কেন কমল, তার আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা এখনো আসেনি। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় সেখানকার শ্রমবাজার নিয়েও উদ্বেগ আছে। উপসাগরীয় দেশগুলোই বাংলাদেশি শ্রমিকদের সবচেয়ে বড় কর্মস্থল।
দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মজুত ও টাকার বিনিময় হারের স্থিতিশীলতা অনেকটাই এই প্রবাহের ওপর নির্ভর করে। জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানিতে এখন আগের চেয়ে বেশি ডলার লাগছে। ফলে প্রবাসী আয়ের গতি কমলে আমদানি ব্যয় মেটানোর চাপ বাড়ে। গ্রামীণ পরিবারের খরচ, বাড়ি নির্মাণ ও ছোট ব্যবসাও এই অর্থের ওপর নির্ভরশীল। সেপ্টেম্বরে প্রবাসী আয় কমার খবর তাই শুধু কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাবের বিষয় নয়। এর প্রভাব পড়ে লাখো পরিবারের মাসিক বাজেটেও। একই মাসে অবশ্য রপ্তানি আয় বেড়েছে, যা কিছুটা স্বস্তি দিচ্ছে। দুই উৎস একসঙ্গে দুর্বল হলে চাপ অনেক বেশি হতো। বাংলাদেশ ব্যাংক প্রবাসী আয়ের তথ্য সাপ্তাহিক ভিত্তিতে প্রকাশ করে। ফলে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহের হিসাবেই নতুন মাসের গতির প্রাথমিক ইঙ্গিত মিলবে। প্রবাসী আয়ে মাসওয়ারি ওঠানামা নতুন নয়। তবে টানা চার মাস ৩০০ কোটির নিচে থাকা একটি স্পষ্ট প্রবণতা।
সংখ্যাগুলো পাশাপাশি রাখলে একটি সূক্ষ্ম বার্তা পাওয়া যায়। প্রথম প্রান্তিকে আগের বছরের তুলনায় প্রবাসী আয় বেড়েছে প্রায় ১০০ কোটি ডলার। এর মধ্যে সেপ্টেম্বরের অবদান মাত্র প্রায় ৮ কোটি ডলার। বাকি বাড়তি অর্থ এসেছে জুলাই ও আগস্টে। অক্টোবরের প্রবাহ এই ৮ কোটি ডলারের ব্যবধান বাড়ায় নাকি কমায়, তা দেখেই বোঝা যাবে গতি সাময়িক থেমেছে কি না।












