লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার তুষভান্ডারের মিষ্টি ব্যবসায়ী দেবদাস রায় বাবুলকে গ্রেপ্তার নিয়ে পুলিশের দুই ইউনিটের বক্তব্যে দেখা দিয়েছে অসঙ্গতি। আদালত চত্বর থেকে তাকে তুলে নেওয়ার বিষয়ে গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) এক ধরনের ব্যাখ্যা দিলেও পরে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ জানিয়েছে, প্রায় এক বছর আগে দায়ের হওয়া সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
৫৮ বছর বয়সী বাবুল তুষভান্ডারের ‘যতীন অ্যান্ড সন্স মিষ্টান্ন ভাণ্ডার’-এর মালিক। তার আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, সোমবার দুপুরে লালমনিরহাট জেলা ও দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণ থেকে ডিবি সদস্যরা তাকে নিয়ে যান। ওই সময় তিনি জমি-সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানিতে অংশ নিতে আদালতে গিয়েছিলেন।
লালমনিরহাট ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রওশন কবির বলেন, আদালত চত্বরে বাবুলকে ঘিরে জনরোষ বা হামলার আশঙ্কা থাকায় তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল। পুলিশের পক্ষ থেকে তখন বলা হয়, সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতেই তাকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
তবে পরে কালীগঞ্জ থানার পুলিশ বাবুলকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে ভিন্ন তথ্য দেয়। থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ওসমান গনি জানান, লালমনিরহাট শহরের বিজিবি ক্যানটিনের সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কালীগঞ্জ থানায় প্রায় এক বছর আগে করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলার সঙ্গে তাকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি যুক্ত বলে জানান তিনি।
তবে ওই মামলার বিস্তারিত তাৎক্ষণিকভাবে মনে করতে পারেননি বলে জানান ওসমান গনি।
বাবুলের আইনজীবীর দাবি, স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল তার মক্কেলের প্রায় ৫ কোটি টাকা মূল্যের জমির ৪০ শতাংশ দখলের চেষ্টা করছে। এ নিয়ে আদালতে একটি মামলা চলমান রয়েছে বলেও তিনি জানান। আইনজীবীর বক্তব্য অনুযায়ী, জমি নিয়ে বিরোধের বিষয়টির সঙ্গে বাবুলকে গ্রেপ্তারের ঘটনাটিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।
লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান অবশ্য বলেছেন, এক বছর আগে দায়ের করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলার তদন্তে বাবুলের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। সেই তদন্তের ভিত্তিতেই তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
একই সঙ্গে পুলিশ সুপার বলেন, বাবুলের অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে কেউ যাতে বিরোধপূর্ণ জমিতে প্রবেশ বা দখলের চেষ্টা না করে, সে বিষয়েও পুলিশ সতর্ক থাকবে। কেউ এ ধরনের চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাবুলকে ঠিক কোথা থেকে এবং কোন পরিস্থিতিতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, এ বিষয়ে ডিবি ও কালীগঞ্জ থানার পুলিশের বক্তব্যের পার্থক্য ঘটনাটিকে আরও আলোচনায় এনেছে। পাশাপাশি জমি নিয়ে চলমান বিরোধ ও সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ, দুই বিষয়ই এখন তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।












