সৌদি আরবে ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠীর হামলা আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। হামলার ঝুঁকি এবং আকাশপথে চলাচলে বিঘ্নের কারণে দেশটির বিমানবন্দরগুলোতে যাত্রীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের ভাষ্য অনুযায়ী, হুথিরা সৌদি আরবের বেসামরিক বিমানবন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এসব ঘটনায় বেসামরিক মানুষ আহত হয়েছেন এবং বিমান চলাচলে উল্লেখযোগ্য বিঘ্ন ঘটেছে।
দপ্তরটি সতর্ক করেছে, চলমান সংঘাত দ্রুত তীব্র আকার ধারণ করতে পারে এবং বর্তমান পরিসরের বাইরেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। পরিস্থিতির অবনতি হলে বিমানবন্দরের কার্যক্রম ও আকাশপথে চলাচল আরও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
জেদ্দা ও দাম্মামের বিমানবন্দর চালু
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম স্থগিত থাকলেও জেদ্দার কিং আবদুলআজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং দাম্মামের কিং ফাহদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর চালু রয়েছে। তবে পরিস্থিতির কারণে এসব বিমানবন্দরে ফ্লাইট বিলম্বিত হতে পারে কিংবা বাতিল করা হতে পারে।
বিমানবন্দর বা আকাশপথে হামলার ঝুঁকি এবং আকাশসীমা বন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে মার্কিন কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের ভ্রমণ পরিকল্পনায় সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে।
সৌদি আরবের বিমানবন্দর ব্যবহার করতে যাওয়া মার্কিন নাগরিকদের নিজ নিজ বিমান সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা জেনে নিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি সৌদি বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মোবাইল ফোনে পাঠানো সতর্কবার্তাগুলোর প্রতিও নজর রাখতে বলা হয়েছে।
সৌদি আরব ছাড়ার নির্দেশ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্য
এদিকে উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস থেকে নির্দিষ্টসংখ্যক কর্মী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সংগঠিতভাবে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে—এমন প্রতিবেদন নাকচ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর।
দপ্তরের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, সৌদি আরব থেকে শুধু জরুরি দায়িত্বের আওতায় না থাকা মার্কিন সরকারি কর্মী এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চলের সব মার্কিন দূতাবাস থেকে কর্মীদের সরিয়ে নেওয়ার কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়নি বলে তিনি স্পষ্ট করেন।
মুখপাত্রের বক্তব্য অনুযায়ী, ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী সৌদি আরবের বিরুদ্ধে চলমান সংঘাতে ক্রমেই বেশি জড়িয়ে পড়ছে। বেসামরিক বিমানবন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় তাদের হামলায় সাধারণ মানুষ আহত হওয়ার পাশাপাশি বিমান চলাচলে গুরুতর বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মী এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তাঁদের সুরক্ষা ও সহায়তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অব্যাহত রাখা হবে।
পরিস্থিতি আরও বিস্তৃত হলে সৌদি আরবে বিমান চলাচল ও আন্তর্জাতিক যাতায়াতের ওপর তার প্রভাব বাড়তে পারে বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ সতর্ক করেছে। এ কারণে দেশটিতে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ এবং ভ্রমণের আগে ফ্লাইটের তথ্য যাচাই করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।












