লিপস্টিক শুধু সাজের অংশ নয়, এটি ব্যবহারেরও একটি নিজস্ব রীতি আছে—এমন বিশ্বাস ভিক্টোরিয়া বেকহ্যামের জীবনে বহুদিনের। ছোটবেলায় ফিনিশিং স্কুলের এক শিক্ষিকার কাছ থেকে তিনি শুনেছিলেন, ‘ডিনার টেবিলে কোনো ভদ্রমহিলার লিপস্টিক ঠিক করা উচিত নয়।’ কিন্তু বহু বছর পর সেই ধারণাকেই নিজের মতো করে চ্যালেঞ্জ করছেন ব্রিটিশ ফ্যাশন ও সৌন্দর্যজগতের পরিচিত মুখ ভিক্টোরিয়া বেকহ্যাম।
ভিক্টোরিয়ার মতে, লিপস্টিক নতুন করে লাগানোর মুহূর্তের মধ্যেও এক ধরনের সৌন্দর্য ও আনুষ্ঠানিকতা রয়েছে। তাই তিনি মনে করেন, নিজের সাজ ঠিক করার এই সময়টিকে অস্বস্তিকর কিছু হিসেবে না দেখে আত্মবিশ্বাসের অংশ হিসেবেই দেখা উচিত।
ভিক্টোরিয়ার নিজস্ব সাজের ধরনও বরাবরই বেশ পরিমিত ও পরিশীলিত। স্বাভাবিক দেখায় এমন ত্বক, নিখুঁতভাবে ধোঁয়াটে চোখের সাজ এবং পরিষ্কারভাবে আঁকা ঠোঁট—এই তিনটি বৈশিষ্ট্য তার মেকআপের পরিচিত অংশ। সাধারণত তিনি গোলাপি আভাযুক্ত হালকা বাদামি রঙের লিপস্টিক ব্যবহার করেন।
এই পছন্দ থেকেই ২০২০ সালে তার প্রসাধনী ব্র্যান্ড ভিক্টোরিয়া বেকহ্যাম বিউটির ‘পশ লিপস্টিক’ সংগ্রহের যাত্রা শুরু। এবার সেই ধারাবাহিকতায় তিনি মন দিয়েছেন লাল লিপস্টিকের দিকে। নতুন সংগ্রহটির নাম ‘রুজ ভিক্টোরিয়া’।
এই সংগ্রহে রয়েছে ছয়টি উজ্জ্বল লাল রঙ। একবারের প্রয়োগেই গাঢ় রঙ দেওয়ার পাশাপাশি লিপস্টিকগুলো এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে ঠোঁটে অতিরিক্ত শুষ্কতা, রঙ ছড়িয়ে যাওয়া বা সহজে মুছে যাওয়ার সমস্যা কম থাকে।
লিপস্টিকটির ফিনিশ আধা-ম্যাট। অর্থাৎ পুরোপুরি চকচকে নয়, আবার অতিরিক্ত শুষ্ক ম্যাটও নয়। ঠোঁটে এটি মসৃণ, নরম ও মখমলের মতো আবরণ তৈরি করে। ফর্মুলায় উদ্ভিদজাত একটি পলিমার ব্যবহার করা হয়েছে, যা ঠোঁটে রঙ ধরে রাখতে এবং স্থানান্তর কমাতে সহায়তা করে। পাশাপাশি ডালিমের নির্যাস রাখা হয়েছে, যাতে ঠোঁট আর্দ্র ও নরম থাকে।
ভিক্টোরিয়ার নিজের পছন্দ ‘হাউস রেড’—একটি নিরপেক্ষ, খাঁটি লাল। নতুন লিপস্টিকটি কতক্ষণ টিকে থাকে তা পরীক্ষা করতে তিনি এমনকি এক-দুই গ্লাস ওয়াইন পান করেও এর স্থায়িত্ব দেখেছেন।
এই সংগ্রহে ‘ককেলিকট’ নামের উষ্ণ পপি লাল, ‘হেরিটেজ’ নামের উষ্ণ ইটের মতো লাল, ‘ভেলোরস’ নামের মাটির কাছাকাছি মেহগনি লাল, ‘পিনো’ নামের ওয়াইনের মতো গাঢ় লাল এবং ‘মিনুইট’ নামের গভীর ওয়াইন রঙও রয়েছে। ফলে বিভিন্ন ত্বকের রং ও ব্যক্তিগত পছন্দ অনুযায়ী ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে।
ভিক্টোরিয়ার কাছে লাল লিপস্টিক মানেই বিশেষ ধরনের বিলাসিতা। তাই শুধু লিপস্টিকের ফর্মুলা নয়, এর প্যাকেজিংয়েও রাখা হয়েছে বাড়তি গুরুত্ব। প্রতিটি কেস পুনরায় ভরার উপযোগী এবং চুম্বকযুক্ত ঢাকনা দিয়ে বন্ধ হয়। বাইরের অংশে রয়েছে হালকা পাথরের মতো মসৃণ নকশা।
লাল লিপস্টিক নিয়ে ভিক্টোরিয়ার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাও দীর্ঘ। তবে এতদিন তিনি সাধারণত ছবি তোলা বা নিয়ন্ত্রিত কোনো অনুষ্ঠানে লাল লিপস্টিক পরতেন। কারণ পেশাদার মেকআপ শিল্পী না থাকলে লাল রঙের লিপস্টিক ঠিক রাখা তুলনামূলক কঠিন হতে পারে।
নতুন ‘রুজ ভিক্টোরিয়া’ তৈরির অন্যতম লক্ষ্য ছিল সেই ভয় দূর করা। ভিক্টোরিয়া চান, প্রতিদিনও যেন আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে লাল লিপস্টিক ব্যবহার করা যায় এবং তা নিয়ে বারবার ভাবতে না হয়।
তিনি লিপস্টিক ব্যবহারের একটি সহজ কৌশলও অনুসরণ করেন। প্রথমে ঠোঁটে তার ব্র্যান্ডের কনসিলার পেনের সামান্য অংশ ব্যবহার করেন। এরপর লিপস্টিক লাগিয়ে ব্রাশ দিয়ে কিনারা ঠিক করেন। পরে টিস্যু দিয়ে হালকা করে অতিরিক্ত রং তুলে আবার পাতলা একটি স্তর প্রয়োগ করেন।
ভিক্টোরিয়ার কাছে এই পুরো প্রক্রিয়াটি কেবল মেকআপ নয়, বরং নিজের সৌন্দর্য ও আত্মবিশ্বাসকে নিজের মতো করে প্রকাশ করার একটি উপায়। আর সেই জায়গা থেকেই পুরোনো ‘ডিনার টেবিলে লিপস্টিক নয়’ নিয়মকে তিনি নিজের মতো করে প্রশ্ন করছেন।












