সিরাজগঞ্জের বাজারে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ফলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। এতে পুষ্টিকর ফল কিনতে গিয়ে বিপাকে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। অনেক ফলই এখন নিম্ন ও মধ্যম আয়ের ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে গেছে।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে প্রতি কেজি কমলা বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৫৫০ টাকায়। মাল্টার দাম ৪৮০ থেকে ৫০০ টাকা, আপেল ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, আঙুর ৪৫০ টাকা এবং বেদানা ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি।
দেশি ও মৌসুমি ফলের দামও খুব একটা কম নয়। প্রতি পিস ডাব ১০০ থেকে ১৫০ টাকা, পাকা পেঁপে ৬০ থেকে ৮০ টাকা, ড্রাগন ফল ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা এবং পেয়ারা ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত মাল্টার দামও ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি।
এ ছাড়া কাটিমন আম প্রতি কেজি প্রায় ২০০ টাকা এবং তরমুজ ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ফলে প্রয়োজনের তুলনায় কম ফল কিনেই সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে অনেক ক্রেতাকে।
ক্রেতাদের অভিযোগ, এ বছর প্রায় সব ধরনের ফলের দাম বেড়েছে। বিশেষ করে বিদেশি ফলের দাম এতটাই বেশি যে নিয়মিত ফল কেনা অনেক পরিবারের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। আয় ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ব্যয়ের সঙ্গে ফলের বর্তমান দামের সামঞ্জস্য নেই বলেও তারা জানান।
ফল কিনতে আসা এক ক্রেতা বলেন, এ বছর বাজারে দেশি-বিদেশি সব ধরনের ফলের দামই বেশি। সাধারণ মানুষের আয় অনুযায়ী এসব ফল কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে। পরিবারের প্রয়োজন মেটাতে চাইলেও অনেক সময় দাম দেখে ফিরে যেতে হচ্ছে।
ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, শুধু খুচরা বাজারে নয়, মোকাম থেকেই এবার বেশি দামে ফল কিনতে হচ্ছে। পরিবহন ও অন্যান্য খরচের সঙ্গে কেনা দামের সমন্বয় করেই তাদের বিক্রি করতে হচ্ছে। তাই খুচরা বাজারে দাম কমানোর সুযোগও সীমিত।
সিরাজগঞ্জ শহরের এক ফল ব্যবসায়ী বলেন, এবার ফলের দাম তুলনামূলক বেশি। মোকামে বেশি দামে কিনতে হওয়ায় তারাও বেশি দামে বিক্রি করছেন। দাম কম থাকলে ক্রেতা বাড়ে, বেচাকেনাও ভালো হয়।
ব্যবসায়ীরা আরও জানান, ফল দ্রুত নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বেশি দামে কেনা ফল বিক্রি না হলে লোকসানের আশঙ্কা থাকে। অনেক সময় দ্রুত বিক্রি করতে গিয়ে কম দামেও ফল ছাড়তে হয়। এতে একদিকে ক্রেতাদের ওপর বাড়তি চাপ পড়ছে, অন্যদিকে ব্যবসায়ীরাও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন।
ফলের দাম বাড়ায় পুষ্টিকর খাবারের তালিকায় ফল রাখা অনেক পরিবারের জন্য কঠিন হয়ে উঠছে। বাজারে সরবরাহ, পরিবহন ব্যয় ও মোকাম পর্যায়ের দামের ওপর নজরদারি বাড়ানো গেলে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে বলে মনে করছেন ক্রেতারা।












