যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে নতুন পডকাস্ট সিরিজ নিয়ে ফিরছেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন। প্রযুক্তি ও গণমাধ্যমবিষয়ক সাংবাদিক কারা সুইশারের সঙ্গে যৌথভাবে ‘হাই স্টেকস’ নামের এই পডকাস্টে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নির্বাচনী লড়াই বিশ্লেষণ করবেন তিনি। আগামী বুধবার থেকে শুরু হতে যাওয়া সাপ্তাহিক এই আয়োজন চলবে নভেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত।
২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পরাজয়ের পরও মার্কিন জনপরিসরে সক্রিয় রয়েছেন হিলারি ক্লিনটন। বই লেখা, কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা এবং ব্রডওয়েতে পুরস্কারজয়ী সংগীতনাট্য ‘সাফস’-এর প্রযোজনায় যুক্ত হওয়ার পর এবার নতুন মাধ্যমে রাজনৈতিক বক্তব্য তুলে ধরতে চাইছেন তিনি।
গত সপ্তাহে নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হিলারি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বের জন্য বর্তমান পরিস্থিতির গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। তাঁর ভাষায়, বর্তমান প্রশাসনের কারণে যে বিশৃঙ্খলা, দুর্নীতি ও নিষ্ঠুরতা তৈরি হয়েছে, তা প্রতিহত করা না গেলে দেশের পরিচিত চেহারাই বদলে যেতে পারে।

নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক আলোচনা
‘হাই স্টেকস’-এ মূলত মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা, প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ এবং নির্বাচনের রাজনৈতিক তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা হবে। পডকাস্টটির লক্ষ্য শুধু নির্বাচনের খবর তুলে ধরা নয়, বরং নির্বাচনী লড়াইয়ের পেছনের রাজনৈতিক বাস্তবতা ও সম্ভাব্য পরিণতি নিয়ে শ্রোতাদের ধারণা দেওয়া।
এই উদ্যোগে যুক্ত হয়েছে ভক্স মিডিয়া। প্রতিষ্ঠানটি কারা সুইশারের ‘পিভট’ ও ‘অন উইথ কারা সুইশার’ পডকাস্টও তৈরি, প্রচার ও বিজ্ঞাপন ব্যবস্থাপনা করে। ‘হাই স্টেকস’ প্রচারিত হবে ‘অন উইথ কারা সুইশার’-এর বিদ্যমান ফিডে। বিজ্ঞাপন থেকে পাওয়া আয় ভাগ করে নেবেন হিলারি, সুইশার ও ভক্স মিডিয়া।
পরিচিত পরিসর থেকেই পডকাস্টের সূচনা
এই পডকাস্টের ধারণা আসে চলতি বছরের বসন্তে ওয়াশিংটনের কালোরামা এলাকায় সাবেক আটলান্টিক মালিক ডেভিড ব্র্যাডলির বাড়িতে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে। হিলারি ক্লিনটনের সম্মানে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে সুইশার আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচন থেকে শুরু করে ইউক্রেনের চলমান যুদ্ধ পর্যন্ত বিভিন্ন বিষয়ে তাঁকে প্রশ্ন করেন।
সুইশারের মতে, হিলারির উত্তর ছিল সংক্ষিপ্ত, স্পষ্ট ও সহজবোধ্য। এরপরই তাঁর মনে প্রশ্ন জাগে, ২০২৩ সালে নিজের একক অনুষ্ঠান ‘ইউ অ্যান্ড মি বোথ উইথ হিলারি ক্লিনটন’ শেষ হওয়ার পর কেন তিনি আর পডকাস্টে ফেরেননি।
গত আগস্টে ‘পিভট’ অনুষ্ঠানের নিয়মিত সহ-উপস্থাপক স্কট গ্যালাওয়ের অনুপস্থিতিতে হিলারি অতিথি হিসেবে অংশ নেন। সেই অভিজ্ঞতা সুইশারকে নতুন যৌথ অনুষ্ঠান চালুর বিষয়ে আরও আগ্রহী করে তোলে। তিনি মনে করেন, ব্যক্তিগত পরিসরে হিলারির যে রসবোধ ও সাবলীলতা দেখা যায়, তা শ্রোতাদের সামনে তুলে ধরার সুযোগ রয়েছে এই অনুষ্ঠানে।

বিজ্ঞাপন ও শ্রোতা আকর্ষণের চ্যালেঞ্জ
রাজনৈতিক পডকাস্টের জন্য বিজ্ঞাপনদাতা পাওয়া সহজ নয়। দলীয় বিতর্ক ও রাজনৈতিক মতবিরোধের সঙ্গে নিজেদের পণ্য বা প্রতিষ্ঠানের নাম যুক্ত করতে অনেক বিজ্ঞাপনদাতা অনাগ্রহী থাকেন। তবে ভক্স মিডিয়ার প্রধান নির্বাহী জিম ব্যাংকফের আশা, সুইশারের বিদ্যমান শ্রোতাগোষ্ঠী নতুন অনুষ্ঠানটির জন্য শক্ত ভিত্তি তৈরি করবে।
ব্যাংকফ জানিয়েছেন, নিউইয়র্কের চ্যাপাকুয়ায় নিজের বাড়িতে বসে ভিডিও পডকাস্ট রেকর্ড করার জন্য হিলারিকে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পাঠানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি প্রত্যাশিত শ্রোতা পেলে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরও এটি চালিয়ে যাওয়ার কথা বিবেচনা করতে পারেন হিলারি।
বিজ্ঞাপন পড়তেও আপত্তি নেই তাঁর, যদিও এ ক্ষেত্রে কিছু সীমাবদ্ধতা রাখতে চান তিনি। উদাহরণ হিসেবে হিলারি বলেন, তিনি ‘সোনার মোবাইল ফোন’ বিক্রির বিজ্ঞাপন পড়বেন না। মন্তব্যটি ট্রাম্প পরিবারের প্রচারিত ট্রাম্প মোবাইল সেবার প্রতি ইঙ্গিত বলে মনে করা হচ্ছে।

ডেমোক্র্যাটদের কাছে হিলারির গ্রহণযোগ্যতা কতটা?
নতুন পডকাস্টের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রতিষ্ঠিত নেতৃত্বের প্রতিনিধি হিসেবে পরিচিত হিলারিকে বর্তমান শ্রোতারা কতটা গ্রহণ করবেন। যুক্তরাষ্ট্রের অনেক ভোটারের মধ্যে দলটির প্রচলিত নেতৃত্ব নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে।
এ বিষয়ে হিলারি রসিকতা করে বলেন, ‘প্রতিষ্ঠিত নেতৃত্বের প্রতিনিধি’ হিসেবে পরিচিত হওয়ার চেয়েও খারাপ তকমা তাঁকে শুনতে হয়েছে। তাঁর দাবি, প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনগুলোতে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা এখনো ভোটের প্রচার ও তহবিল সংগ্রহে তাঁর সহায়তা চাইছেন। পাশাপাশি তাঁরা বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর পরামর্শও নিচ্ছেন।
হিলারির মতে, ডেমোক্র্যাটিক পার্টির মধ্যে মতপার্থক্য থাকা স্বাভাবিক। রাজনৈতিক বিতর্ক ও ভিন্নমতকে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে নতুন পডকাস্টের মাধ্যমে এই বিতর্কগুলো কীভাবে উঠে আসে, তা এখন দেখার বিষয়।












