দশ মাসের বেশি অপেক্ষার পর ৪৫তম বিসিএস নিয়োগ চূড়ান্ত হয়েছে। বিভিন্ন ক্যাডারে এক হাজার ৭০২ জনকে নিয়োগ দিয়ে বুধবার গভীর রাতে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) যত জনকে সুপারিশ করেছিল, এই সংখ্যা তার চেয়ে ১০৫ জন কম। নিয়োগপ্রাপ্তদের ১ নভেম্বর নিজ নিজ মন্ত্রণালয় বা বিভাগে যোগ দিতে বলা হয়েছে।
গত বছরের ২৬ নভেম্বর চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করে এক হাজার ৮০৭ জনকে ক্যাডার পদে সুপারিশ করেছিল পিএসসি। সুপারিশপত্রের তারিখ ছিল ২০২৫ সালের ১৪ ডিসেম্বর। প্রজ্ঞাপনে ১০৫ জন কেন বাদ পড়লেন, তার কোনো ব্যাখ্যা নেই। নিয়োগ পাওয়াদের মধ্যে প্রশাসন ক্যাডারে ২৬৬ জন, পুলিশ ক্যাডারে ৭১ জন এবং পররাষ্ট্র ক্যাডারে ৯ জন আছেন।
নিয়োগপ্রাপ্তদের জন্য কয়েকটি বিষয় জরুরি। তাদের ১ নভেম্বর সকালে নির্ধারিত কার্যালয়ে উপস্থিত হতে হবে। ভিন্ন নির্দেশনা না থাকলে ওই দিন যোগ না দিলে ধরে নেওয়া হবে, তিনি চাকরিতে আগ্রহী নন, আর নিয়োগ বাতিল হবে। নবম গ্রেডে জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ অনুযায়ী মূল বেতন ৪৪ হাজার থেকে এক লাখ পাঁচ হাজার ৯০০ টাকা। শিক্ষানবিশকাল দুই বছর, প্রয়োজনে আরও দুই বছর বাড়ানো যাবে। বুনিয়াদি ও বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ নিতে হবে এবং নিজের ও পরিবারের সদস্যদের সম্পদের হিসাব জমা দিতে হবে।
৪৫তম বিসিএস নিয়োগের এই দীর্ঘ অপেক্ষায় অনেক প্রার্থী অনিশ্চয়তায় দিন কাটিয়েছেন। সুপারিশ পাওয়ার পরও কেউ কেউ এই সময়ে বেকার ছিলেন। অনেকে আশঙ্কা করছিলেন, দেরির কারণে তাদের চাকরিজীবনে পিছিয়ে পড়তে হবে। যে ১০৫ জন প্রজ্ঞাপনে নেই, তাদের অপেক্ষা এখনো শেষ হয়নি। বাদ পড়ার কারণ জানতে তারা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করতে পারেন।
বিসিএস এখনো দেশের তরুণদের কাছে সবচেয়ে আকাঙ্ক্ষিত চাকরির পরীক্ষা। তাই ৪৫তম বিসিএস নিয়োগে দেরি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে সুপারিশ আর প্রজ্ঞাপনের মধ্যকার সময় নিয়ে। প্রজ্ঞাপন প্রকাশের মধ্য দিয়ে এক হাজার ৭০২ জনের অপেক্ষা শেষ হলো। এখন নজর থাকবে বাদ পড়া প্রার্থীদের বিষয়ে সরকার কী ব্যাখ্যা দেয়, সেদিকে।












