সরকার কৃষকের জন্য যে সারের ভর্তুকি দেয়, তার প্রায় অর্ধেকই যাচ্ছে বড় কৃষকদের হাতে। অথচ দেশের মোট কৃষকের ৪০ শতাংশ ছোট কৃষক, তারা পাচ্ছেন মাত্র ১৩ শতাংশ। বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ বাংলাদেশ উন্নয়ন হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই বৈষম্যের চিত্র উঠে এসেছে। গত পাঁচ বছরে সারের ভর্তুকি প্রায় চার গুণ বেড়ে ২৮ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বড় কৃষকদের হাতে আছে দেশের কৃষিজমির প্রায় ২০ শতাংশ। কিন্তু ভর্তুকির ভাগ তার চেয়ে অনেক বেশি। আয়ের ভিত্তিতে ভাগ করলে সবচেয়ে দরিদ্র ৪০ শতাংশ মানুষ সরকারের সরাসরি সহায়তার তিন ভাগের এক ভাগের সামান্য বেশি পান। আর সবচেয়ে ধনী ২০ শতাংশ পান প্রায় অর্ধেক। অর্থাৎ ব্যয়বহুল ভর্তুকি কর্মসূচির সুফল বেশি যাচ্ছে তুলনামূলক সচ্ছলদের ঘরে।
কেন এমন হচ্ছে, তার উত্তর ভর্তুকির ধরনেই। সারের ভর্তুকি দেওয়া হয় বিক্রির জায়গায়, দাম কম রেখে। ফলে যিনি বেশি সার কেনেন, তিনিই বেশি ভর্তুকি পান। বেশি জমি যার, সার কেনেন তিনিই বেশি। ফলে ভর্তুকির টাকাও জমির মালিকানার মতোই অসমভাবে ভাগ হয়ে যায়।
বিশ্বব্যাংক সুপারিশ করেছে, সারের দামের ওপর নিয়ন্ত্রণ ধাপে ধাপে তুলে বাজারভিত্তিক দামে যাওয়ার। পাশাপাশি কৃষক কার্ডের সঙ্গে ইলেকট্রনিক ভাউচার যুক্ত করে ছোট ও প্রান্তিক কৃষককে সরাসরি সহায়তা দেওয়ার কথা বলেছে সংস্থাটি। কৃষি ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সরকার প্রস্তাবটি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী সার বিক্রি হবে আসল দামে, আর যোগ্য কৃষক কৃষক কার্ডে নগদ সহায়তা পাবেন। এ জন্য কৃষকের জমি, চাষাবাদ ও ফসলের তথ্য নিয়ে একটি তথ্যভান্ডার তৈরি হচ্ছে।
সংস্কারটি ঠিক পথে এগোলে সারের ভর্তুকি সত্যিকারের অভাবী কৃষকের কাছে পৌঁছাবে। কিন্তু ঝুঁকিও আছে। তথ্যভান্ডার আর অর্থ পাঠানোর ব্যবস্থা পুরোপুরি তৈরির আগে দাম বাড়লে সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়বেন সেই ছোট কৃষকেরাই। চালের দাম এরই মধ্যে বাড়ছে, তাই উৎপাদন খরচ বাড়লে তার প্রভাব পড়বে খাদ্যের বাজারেও। আইএমএফ ভর্তুকি কমানোর সময়ভিত্তিক পরিকল্পনা চাইছে, কিন্তু তাড়াহুড়ায় নয়, প্রস্তুতি নিয়েই এ পথে হাঁটা দরকার।












