কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানী সৈকতের পাটুয়ারটেক এলাকায় একটি রিসোর্টে আগুনে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার সকালে টুপটুপ রেস্তো অ্যান্ড রিসোর্টে আগুন লাগে। আহত আরও চারজন কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সদর দপ্তর ছয়টি মরদেহ উদ্ধারের খবর নিশ্চিত করেছে। পর্যটন মৌসুম শুরুর মুখে কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুনের এই ঘটনা বড় প্রশ্ন তুলেছে।
ফায়ার সার্ভিস জানায়, সকাল সাতটা ২৫ মিনিটে আগুনের খবর পায় উখিয়া স্টেশন। দুটি ইউনিট আটটায় ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করে। প্রায় তিন ঘণ্টা চেষ্টার পর বেলা ১১টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মোহাম্মদ মোরশেদ হোসেন জানান, তিনতলা রিসোর্টটি ছিল কাঠের তৈরি। আগুনে পুরো ভবন পুড়ে কয়লা হয়ে গেছে। আহতদের কেউ দগ্ধ হয়েছেন। কেউ আবার পালাতে গিয়ে আহত হন। ইনানী সৈকত কক্সবাজার শহর থেকে প্রায় ২৭ কিলোমিটার দক্ষিণে, মেরিন ড্রাইভের পাশে। পাথুরে সৈকত আর নিরিবিলি পরিবেশের জন্য এলাকাটি পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয়। গত কয়েক বছরে এখানে ছোট রিসোর্টের সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে।
আগুনের কারণ আর নিহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তবে কাঠের কাঠামো যে আগুনকে দ্রুত ছড়িয়ে দিয়েছে, তা স্পষ্ট। ভোরের দিকে অতিথিরা ঘুমিয়ে থাকায় বের হওয়ার সময় পাননি বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইনানী থেকে উখিয়া ফায়ার স্টেশনের দূরত্বও উদ্ধারকাজে সময় বাড়িয়েছে। খবর পাওয়ার পর পৌঁছাতে লেগেছে প্রায় ৩৫ মিনিট।
মেরিন ড্রাইভ ঘিরে গত কয়েক বছরে ছোট ছোট রিসোর্ট আর কটেজ গড়ে উঠেছে দ্রুত। কাঠ, বাঁশ আর ছনের এসব স্থাপনা দেখতে সুন্দর, খরচও কম। কিন্তু অনেকগুলোতে অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র, জরুরি বহির্গমন পথ বা ফায়ার সার্ভিসের ছাড়পত্র আছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন আছে। কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুন এর আগেও ঘটেছে। কিন্তু এত বড় প্রাণহানি পর্যটন খাতের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে নতুন করে সামনে এনেছে। ঢাকার বেইলি রোডের অগ্নিকাণ্ডের পর রেস্তোরাঁয় অভিযান হয়েছিল। পর্যটন এলাকায় সে রকম নিয়মিত নজরদারি দেখা যায়নি। উখিয়ার মতো উপজেলায় ফায়ার স্টেশন থেকে সৈকতের রিসোর্টগুলোর দূরত্ব অনেক, অথচ মেরিন ড্রাইভ ধরে স্থাপনা বাড়ছে প্রতিবছর। ফলে কোনো দুর্ঘটনায় দ্রুত সাড়া দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুন লাগলে কাঠের দেয়াল আর খড়ের ছাউনি কয়েক মিনিটেই পুরো ভবন গ্রাস করে। এসব স্থাপনার অনুমোদন আর নকশা ঠিকমতো যাচাই হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা এখন জরুরি। বিশেষজ্ঞরা প্রতিটি রিসোর্টে ধোঁয়া শনাক্তকারী যন্ত্র, অগ্নিনির্বাপক আর দুটি আলাদা বহির্গমন পথ বাধ্যতামূলক করার পক্ষে। নিহতদের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হয়নি।
সামনে শীত আর ছুটির মৌসুম। লাখো পর্যটক কক্সবাজার, ইনানী আর টেকনাফে যাবেন। জেলা প্রশাসন, ট্যুরিস্ট পুলিশ আর ফায়ার সার্ভিস এখনই কাঠের রিসোর্টগুলোর অগ্নিনিরাপত্তা যাচাই না করলে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তির ঝুঁকি থাকবে। পর্যটকদেরও রুমে ওঠার আগে বের হওয়ার পথ দেখে নেওয়া দরকার। তদন্ত কমিটি গঠন আর কারণ খুঁজে বের করার পাশাপাশি অনুমোদনহীন স্থাপনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়াই এখন প্রধান দাবি।












