ভর্তুকি দেওয়া পেট্রোলের চাহিদা প্রত্যাশার চেয়ে বেড়ে যাওয়ায় আমদানি বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে ইন্দোনেশিয়া সরকার। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাজেটের হিসাব ছাড়িয়ে যাওয়ায় বাড়ছে সরকারি ব্যয়ের চাপ। ভোক্তাদের জন্য ভর্তুকিযুক্ত জ্বালানির দাম না বাড়িয়ে সরবরাহ নিশ্চিত করতে ভারত, চীনসহ বিভিন্ন দেশ থেকে জ্বালানি কেনার পরিকল্পনা করছে দেশটি।
সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে ইন্দোনেশিয়ার সমন্বিত ডাউনস্ট্রিম ও জ্বালানি রূপান্তরবিষয়ক মন্ত্রী বাহলিল লাহাদালিয়া বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের গড় দাম বাজেটে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি। ফলে অতিরিক্ত ভর্তুকি ও ক্ষতিপূরণ দিতে হবে সরকারকে।
ইন্দোনেশিয়া নিজস্ব উৎপাদনে দেশের জ্বালানির চাহিদা মেটাতে পারে না। তাই দেশটি নিট তেল আমদানিকারক। এরপরও সাধারণ মানুষের বহুল ব্যবহৃত দুটি জ্বালানি—পের্টালাইট পেট্রোল ও সোলার ডিজেলে ভর্তুকি দেয় সরকার। রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান পের্টামিনা এসব জ্বালানি বিক্রি করে।
পের্টালাইটের মজুত মাত্র ১৮ দিনের
সরকার প্রতিবছর ভর্তুকিযুক্ত জ্বালানি বিক্রির পরিমাণের সীমা নির্ধারণ করে। বাজারদর ও সরকার নির্ধারিত বিক্রয়মূল্যের ব্যবধান পূরণে পের্টামিনাকে সরাসরি ভর্তুকি ও ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়।
জ্বালানিমন্ত্রী জানিয়েছেন, বর্তমানে পের্টালাইটের মজুত দিয়ে মাত্র ১৮ দিনের চাহিদা মেটানো সম্ভব। শুক্রবার তিনি বলেছিলেন, ভর্তুকি ছাড়া বিক্রি হওয়া জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় সম্প্রতি পের্টালাইটের চাহিদা বেড়েছে।
এই পরিস্থিতিতে পের্টালাইটের বরাদ্দ বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে সরকার। বরাদ্দ বাড়লে আগে পরিকল্পনা করা পরিমাণের চেয়ে বেশি পেট্রোল আমদানি করতে হবে।
সোমবার জাকার্তায় এক অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী সুয়াহাসিল নাজারাকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জ্বালানির সরবরাহ নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) অনুপাতে বাজেট ঘাটতি ২ দশমিক ৮৫ শতাংশে রাখার লক্ষ্য অপরিবর্তিত রয়েছে।
বাজেটের হিসাব ছাড়িয়েছে তেলের দাম
২০২৬ সালের বাজেট তৈরির সময় আন্তর্জাতিক তেলের দামের হিসাবের ভিত্তি হিসেবে ইন্দোনেশিয়ান ক্রুড প্রাইস (আইসিপি) ব্যারেলপ্রতি ৭০ ডলার ধরা হয়েছিল। কিন্তু জ্বালানিমন্ত্রী জানিয়েছেন, চলতি বছরের এ পর্যন্ত আইসিপির গড় দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯২ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
এই ব্যবধান সরকারের জ্বালানি ব্যয়ের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে। এর মধ্যেও ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ভর্তুকিযুক্ত জ্বালানির নির্ধারিত দাম না বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছে সরকার।
বাহলিল জানান, ইন্দোনেশিয়া এখন আর মধ্যপ্রাচ্য থেকে অপরিশোধিত তেল কিনছে না। তবে পের্টালাইটসহ বিভিন্ন অকটেন মানের পেট্রোলের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণে অন্যান্য দেশ থেকে আমদানি অব্যাহত রয়েছে।
ভারত-চীন থেকে দীর্ঘমেয়াদি আমদানির উদ্যোগ
ভর্তুকিযুক্ত জ্বালানির দাম না বাড়িয়ে সরবরাহ নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদি আমদানি চুক্তি করার নির্দেশ পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন জ্বালানিমন্ত্রী। ভারত, চীনসহ বিভিন্ন দেশ থেকে জ্বালানি সংগ্রহের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সম্প্রতি জারি করা প্রেসিডেন্সিয়াল রেগুলেশন ১০৭/২০২৬-এর মাধ্যমে অপরিশোধিত তেল ও গ্যাস কেনার প্রক্রিয়া দ্রুত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে জানান বাহলিল। অতীতে দীর্ঘসূত্রতার কারণে কখনো কখনো সরবরাহকারীরা বেশি দামের প্রস্তাব পেয়ে আগের ক্রয়াদেশ বাতিল করতেন।
নতুন নিয়মে একটি সরকারি জনসেবা সংস্থার মাধ্যমে অপরিশোধিত তেল কেনা হবে। পরে পের্টামিনা ওই সংস্থার কাছ থেকে জ্বালানি কিনে বিতরণ করবে। তবে কোন সংস্থা এই দায়িত্ব পালন করবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। বিধিমালাটিও প্রকাশ করা হয়নি।
বাহলিলের দাবি, ওই সংস্থাকে রাষ্ট্রীয় বাজেট থেকে অর্থায়ন করা হবে না। তবে বিকল্প অর্থায়নের ব্যবস্থা কী হবে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানাননি।
ভর্তুকিযুক্ত জ্বালানির সরবরাহ বাড়ানো, আন্তর্জাতিক বাজারের উচ্চমূল্য সামলানো এবং বাজেট ঘাটতির লক্ষ্য ধরে রাখা—এই তিনটি বিষয় সমন্বয় করেই আমদানি পরিকল্পনা এগিয়ে নিতে চাইছে ইন্দোনেশিয়া সরকার।












