প্রায় তিনশত বৎসর পূর্বে রাজসাহী জেলার অন্তর্গত বুড়ির ভাগ গ্রামে পুরুষোত্তম দেব তর্কালঙ্কার জন্মগ্রহণ করেন। ইনি পাণিনি ব্যাকরণের বৃত্তি প্রস্তুত করেন। ঐ বৃত্তি “ভাষাবৃত্তি” নামে প্রসিদ্ধ। বেলঘরিয়া নিবাসী প্রসিদ্ধ পণ্ডিতপ্রবর শিবচন্দ্র সিদ্ধান্ত অতি শ্রদ্ধার সহিত “ভাষাবৃত্তি” অধ্যয়ন করেন এবং তাহার নিজ চতুষ্পাঠীতে প্রচলিত করিয়া ছাত্রবৃন্দদের রীতিমতো শিক্ষা দিতেন। পাণিনি ব্যাকরণ অতি প্রাচীন গ্রন্থ।’ এই ব্যাকরণ অত্যন্ত দুরূহ অথচ সম্পূর্ণ। ইহাতে শব্দ, ধাতু, বিভক্তি, প্রত্যয়, সন্ধি, সমাস প্রভৃতি যে রূপ বিস্তৃতভাবে লিখিত আছে, সেরূপ কোন ব্যাকরণে লিখিত হয় নাই। এই ব্যাকরণ সুচারুরূপে অধ্যয়ন করিলে, সংস্কৃত ভাষার শিক্ষাও উৎকৃষ্ট হয়। বেদের ভাষা এত কঠিন, যে অনেক শব্দের বা পদের ব্যাখ্যা পাণিনি ব্যাকরণের সাহায্য ব্যতিরেকে করিতে পারা যায় না। বেদের ভাষা শিক্ষার জন্য পাণিনিতে একটি পরিচ্ছেদ আছে। “ভাষা-বৃত্তি” প্রণয়নে এই দুরূহ ব্যাকরণ শিক্ষার এত সুবিধা হইয়াছিল এবং তাহাতে তর্কালঙ্কার এত বিদ্যাবুদ্ধির পরিচয় দিয়াছিলেন যে, শিবচন্দ্রের ন্যায় বুদ্ধিমান ও পণ্ডিত অবশ্যই গ্রন্থের সমাদর করিবেন।
রাজসাহী জেলার অন্তর্গত মাটিকোপা গ্রামে রমানাথ তর্কপঞ্চানন জন্মগ্রহণ করেন। ইনি একজন প্রধান নৈয়ায়িক ছিলেন। ইহার প্রণীত কোন গ্রন্থের পরিচয় পাওয়া যায় না। ইনি মহারাণী ভবানীর সময় বর্তমান থাকিয়া তাহার বৃত্তি ভোগ করিতেন।
রাজসাহী জেলার অন্তর্গত নাটোরের নিকট আমহাটি গ্রামে কালিকাপ্রসাদ চক্রবর্তী নামে নানা শাস্ত্রে সুপণ্ডিত জনৈক ব্রাহ্মণ জন্মগ্রহণ করেন। এই রাজসাহী জেলার মাটিকোপা গ্রামের প্রসিদ্ধ চতুষ্পাঠীতে তিনি অধ্যয়ন করেন। ইহারই একজন অধস্তন সন্তান গদাধর সিদ্ধান্ত পাণিনি ব্যাকরণে এবং স্মৃতিশাস্ত্রে অদ্বিতীয় পণ্ডিত হইয়া উঠেন। ইনি ১৭৫২ খ্রিস্টাব্দে প্রাতঃস্মরণীয়া মহারাণী ভবানীর অনুগ্রহে নিজ বাটি আমহাটিতেই একটি চতুষ্পাঠী স্থাপিত করেন এবং মাসিক ১০০ টাকা বৃত্তি ব্যতীত সেকালে মহারাণীর নিকট হইতে প্রভূত সাহায্য প্রাপ্ত হইতেন। তাহার প্রণীত কোন গ্রন্থ আমাদের দৃষ্টিগোচর হয় না। তাহারই পৌত্র শ্রীযুক্ত চন্দ্রকান্ত বিদ্যাভূষণ মহাশয় মহারাণী প্রদত্ত মাসিক ১০ টাকা বৃত্তি এখনও ব্রিটিশ গবর্ণমেন্ট হইতে প্রাপ্ত হইতেছেন এবং পূর্বপুরুষের অক্ষয় কীর্তি স্থির রাখিয়াছেন।
রাজসাহী জেলার অন্তর্গত নাটোরের নিকট আমহাটি গ্রামে কাশীকান্ত ন্যায়পঞ্চানন নিজ বাটিতে এক চতুষ্পাঠী স্থাপিত করেন। তাহার চতুষ্পাঠীতে মহারাণী ভবানী মাসিক ১০ টাকা বৃত্তি দান দিতেন। ন্যায়পঞ্চাননের পরলোক গমনের পর ব্রিটিশ গবর্ণমেন্ট আমলে ঐ বৃত্তি রহিত হয়।
রাজসাহী জেলার অন্তর্গত চৌগ্রামের নিকট “বড়ে” গ্রামে রুদ্রকান্ত ভট্টাচার্যের এক চতুষ্পাঠী ছিল। এই চতুষ্পাঠীতে মহারাণী ভবানী মাসিক ৫ টাকা বৃত্তি দিতেন। ভট্টাচার্যের পরলোক গমনের পর ব্রিটিশ গবর্ণমেন্ট আমলে ঐ বৃত্তি রহিত হয়।
রাজসাহী জেলার অন্তর্গত পুঁঠিয়া নিবাসী ঈশানচন্দ্র বিদ্যাবাগীশ সংস্কৃত সাহিত্য ও ব্যাকরণে একজন অদ্বিতীয় পণ্ডিত ছিলেন। তাহার প্রণীত কাব্য চন্দ্রিকার টীকা অতি প্রসিদ্ধ।