০৭:৩৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়? ‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি ইসলামী ব্যাংকে এস আলম-সংশ্লিষ্ট ৮১.৯২ শতাংশ শেয়ার ফ্রিজের নির্দেশ হাইকোর্টের

অর্থনৈতিক চাপে ম্লান ইয়ালদা, তবু পারিবারিক বন্ধনই ইরানিদের উৎসব

ইরানের ঘরে ঘরে শীতের দীর্ঘতম রাত ইয়ালদা মানেই পরিবার, স্মৃতি আর কবিতার উষ্ণতা। নানা ধর্ম ও শ্রেণির মানুষ এই প্রাচীন পারস্য উৎসবটি পালন করলেও এ বছর অর্থনৈতিক সংকট ও নিষেধাজ্ঞার প্রভাব উৎসবের আনন্দকে কিছুটা ম্লান করেছে। তবু পারিবারিক একতার শক্তিতে ইয়ালদা টিকে আছে।

শীতের দীর্ঘ রাতের ঐতিহ্য
শীতকালীন অয়নান্তে পালিত ইয়ালদায় পরিবারের সদস্যরা একসঙ্গে বসেন, মৌসুমি ফল, বাদাম আর মিষ্টি খাওয়া হয়। কবি হাফেজের কবিতা থেকে ভাগ্যপাঠ নেওয়ার রীতি ইয়ালদার অবিচ্ছেদ্য অংশ। তেহরানের তাজরিশ বাজারে এক শিক্ষার্থী জানায়, দাদা-দাদির বাড়িতে সবাই মিলে চা খায়, কবিতা পড়ে, গল্পে ডুবে যায়। এই মিলনই ইয়ালদার আসল অর্থ।

Iranians celebrate Yalda festival as economic woes bite

মুদ্রাস্ফীতি ও মূল্য বৃদ্ধির চাপ
উৎসবের টেবিল সাজাতে গিয়ে অনেক পরিবারই এবার হিসাব কষছে। মূল্যস্ফীতি বেড়েছে, জাতীয় মুদ্রার দর কমেছে, ফলে কেনাকাটার ক্ষমতা কমেছে। অভ্যন্তরীণ নকশাবিদ এক ক্রেতার কথায়, যুদ্ধ ও ডলারের দামের ঊর্ধ্বগতিতে আগের মতো সব আইটেম আর টেবিলে ওঠে না। বাজারে ডালিমসহ ফলের দাম গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণ হওয়ায় বিক্রি কমেছে।

শহরে সাজ, বাড়িতে সংযম
তেহরানের কিছু শপিং সেন্টারে ইয়ালদা উপলক্ষে কৃত্রিম গাছ, ঝুলন্ত ডালিম আর বড় ফলের থালা সাজানো হয়েছে। বাইরে সাজ থাকলেও ঘরে ঘরে সংযমের ছাপ স্পষ্ট। ফল বিক্রেতারা বলছেন, উচ্চ দামের কারণে বড় পারিবারিক নিমন্ত্রণ কমেছে, ছোট পরিসরে উৎসব হচ্ছে।

সংস্কৃতির শক্তিতে টিকে থাকা
সংবাদপত্রের কার্টুনে দরিদ্র মানুষের চাঁদে ঝুলন্ত ফলের ঝুড়ির দিকে হাত বাড়ানোর দৃশ্য যেমন বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি, তেমনি ইয়ালদার গল্প বলে দেয়—অভাবের মধ্যেও মানুষ একত্রে থাকার পথ খুঁজে নেয়। অর্থনৈতিক চাপ থাকলেও পরিবার, স্মৃতি আর কবিতার শক্তিতে ইরানের ইয়ালদা বেঁচে আছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়?

অর্থনৈতিক চাপে ম্লান ইয়ালদা, তবু পারিবারিক বন্ধনই ইরানিদের উৎসব

১০:০০:৪৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫

ইরানের ঘরে ঘরে শীতের দীর্ঘতম রাত ইয়ালদা মানেই পরিবার, স্মৃতি আর কবিতার উষ্ণতা। নানা ধর্ম ও শ্রেণির মানুষ এই প্রাচীন পারস্য উৎসবটি পালন করলেও এ বছর অর্থনৈতিক সংকট ও নিষেধাজ্ঞার প্রভাব উৎসবের আনন্দকে কিছুটা ম্লান করেছে। তবু পারিবারিক একতার শক্তিতে ইয়ালদা টিকে আছে।

শীতের দীর্ঘ রাতের ঐতিহ্য
শীতকালীন অয়নান্তে পালিত ইয়ালদায় পরিবারের সদস্যরা একসঙ্গে বসেন, মৌসুমি ফল, বাদাম আর মিষ্টি খাওয়া হয়। কবি হাফেজের কবিতা থেকে ভাগ্যপাঠ নেওয়ার রীতি ইয়ালদার অবিচ্ছেদ্য অংশ। তেহরানের তাজরিশ বাজারে এক শিক্ষার্থী জানায়, দাদা-দাদির বাড়িতে সবাই মিলে চা খায়, কবিতা পড়ে, গল্পে ডুবে যায়। এই মিলনই ইয়ালদার আসল অর্থ।

Iranians celebrate Yalda festival as economic woes bite

মুদ্রাস্ফীতি ও মূল্য বৃদ্ধির চাপ
উৎসবের টেবিল সাজাতে গিয়ে অনেক পরিবারই এবার হিসাব কষছে। মূল্যস্ফীতি বেড়েছে, জাতীয় মুদ্রার দর কমেছে, ফলে কেনাকাটার ক্ষমতা কমেছে। অভ্যন্তরীণ নকশাবিদ এক ক্রেতার কথায়, যুদ্ধ ও ডলারের দামের ঊর্ধ্বগতিতে আগের মতো সব আইটেম আর টেবিলে ওঠে না। বাজারে ডালিমসহ ফলের দাম গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণ হওয়ায় বিক্রি কমেছে।

শহরে সাজ, বাড়িতে সংযম
তেহরানের কিছু শপিং সেন্টারে ইয়ালদা উপলক্ষে কৃত্রিম গাছ, ঝুলন্ত ডালিম আর বড় ফলের থালা সাজানো হয়েছে। বাইরে সাজ থাকলেও ঘরে ঘরে সংযমের ছাপ স্পষ্ট। ফল বিক্রেতারা বলছেন, উচ্চ দামের কারণে বড় পারিবারিক নিমন্ত্রণ কমেছে, ছোট পরিসরে উৎসব হচ্ছে।

সংস্কৃতির শক্তিতে টিকে থাকা
সংবাদপত্রের কার্টুনে দরিদ্র মানুষের চাঁদে ঝুলন্ত ফলের ঝুড়ির দিকে হাত বাড়ানোর দৃশ্য যেমন বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি, তেমনি ইয়ালদার গল্প বলে দেয়—অভাবের মধ্যেও মানুষ একত্রে থাকার পথ খুঁজে নেয়। অর্থনৈতিক চাপ থাকলেও পরিবার, স্মৃতি আর কবিতার শক্তিতে ইরানের ইয়ালদা বেঁচে আছে।