০৬:৫১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়? ‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি ইসলামী ব্যাংকে এস আলম-সংশ্লিষ্ট ৮১.৯২ শতাংশ শেয়ার ফ্রিজের নির্দেশ হাইকোর্টের

অ্যান্ডি বার্নহাম কি নিজের দলের বিদ্রোহী সাংসদদের সামলাতে পারবেন

যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে নিজের দলের সাংসদদের ঐক্য ধরে রাখা। আগের নেতৃত্বের সময়ে দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কঠোর পদ্ধতি নেওয়া হলেও তা প্রত্যাশিত ফল দেয়নি। এখন বার্নহাম ভিন্ন পথে হাঁটার বার্তা দিচ্ছেন।

ভয় নয়, আলোচনার মাধ্যমে দল পরিচালনার পরিকল্পনা

বার্নহাম মনে করেন, দল পরিচালনায় শুধু চাপ প্রয়োগ নয়, বরং সাংসদদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও সম্মানজনক সম্পর্ক গড়ে তোলা জরুরি। তিনি জানিয়েছেন, দলীয় শৃঙ্খলা ব্যবস্থাকে ভয় দেখানোর মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করবেন না।

সারাক্ষণ রিপোর্টের তথ্য অনুযায়ী, নতুন প্রধানমন্ত্রী দলীয় কার্যালয়কে এমন একটি জায়গা হিসেবে গড়ে তুলতে চান, যেখানে সাংসদদের মতামত শোনা হবে এবং সরকারের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ আরও সহজ হবে।

আগের নেতৃত্বের কঠোর কৌশলের ব্যর্থতা

চীন সফরে আসছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার

সাবেক প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সময়ে দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া কয়েকজন সাংসদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কঠোর নিয়ন্ত্রণের সেই কৌশল শেষ পর্যন্ত দলের ভেতরের অসন্তোষ কমাতে পারেনি।

নিজ দলের সাংসদদের আস্থা হারানোর কারণেই স্টারমারের নেতৃত্ব সংকটে পড়ে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা। বড় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়েও বিতর্কিত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে বারবার সমস্যায় পড়েছিল তার সরকার।

নতুন প্রধানমন্ত্রীর সামনে কঠিন পরীক্ষা

বার্নহামের জন্য সবচেয়ে বড় বাধা হতে পারে দলের ভেতরের বিভিন্ন মত ও প্রত্যাশা। লেবার পার্টির মধ্যে বামপন্থী থেকে মধ্যপন্থী—বিভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থানের সাংসদ রয়েছেন। সবাইকে একসঙ্গে সন্তুষ্ট রাখা সহজ হবে না।

কল্যাণ ব্যয়, প্রতিরক্ষা নীতি, অভিবাসন নিয়ন্ত্রণসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দলের ভেতরে মতপার্থক্য তৈরি হতে পারে। এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে তাকে কঠিন রাজনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে।

নেতৃত্বের শক্তি দেখাতে হবে বার্নহামকে

বার্নহামের বড় শক্তি হলো ব্যক্তিগত যোগাযোগের দক্ষতা। ম্যানচেস্টারের মেয়র হিসেবে তিনি বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। সাংসদদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি করাও তার কৌশলের অংশ।

Andy Burnham to promise new path when he becomes Labour leader - BBC News

তবে শুধু বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণই যথেষ্ট হবে না। দলীয় ঐক্য বজায় রাখতে প্রয়োজন দৃঢ় সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাও। বিদ্রোহ দেখা দিলে প্রতিবার সমঝোতা করলে নেতৃত্বের অবস্থান দুর্বল হতে পারে।

লেবার পার্টির ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে ঐক্যের ওপর

আগামী সাধারণ নির্বাচনের সময় যত এগিয়ে আসবে, ততই সাংসদদের ব্যক্তিগত রাজনৈতিক হিসাব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। তখন দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখা আরও কঠিন হতে পারে।

বার্নহামের সাফল্য নির্ভর করবে তিনি কতটা দক্ষতার সঙ্গে সাংসদদের মতামত গ্রহণ, দলের লক্ষ্য নির্ধারণ এবং প্রয়োজনের সময় কঠোর সিদ্ধান্ত—এই তিনটি বিষয় একসঙ্গে সামলাতে পারেন তার ওপর।

নতুন নেতৃত্বের শুরুতে তার প্রতি সমর্থন থাকলেও সামনে আসা রাজনৈতিক পরীক্ষাগুলোই ঠিক করবে তিনি দলের নিয়ন্ত্রণ কতটা ধরে রাখতে পারবেন।

বার্নহামের নেতৃত্বে লেবার পার্টি কি নতুন ঐক্যের পথে যাবে? নাকি আবারও শুরু হবে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব—এখন সেটিই ব্রিটিশ রাজনীতির বড় প্রশ্ন।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়?

অ্যান্ডি বার্নহাম কি নিজের দলের বিদ্রোহী সাংসদদের সামলাতে পারবেন

১১:৩৭:১৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে নিজের দলের সাংসদদের ঐক্য ধরে রাখা। আগের নেতৃত্বের সময়ে দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কঠোর পদ্ধতি নেওয়া হলেও তা প্রত্যাশিত ফল দেয়নি। এখন বার্নহাম ভিন্ন পথে হাঁটার বার্তা দিচ্ছেন।

ভয় নয়, আলোচনার মাধ্যমে দল পরিচালনার পরিকল্পনা

বার্নহাম মনে করেন, দল পরিচালনায় শুধু চাপ প্রয়োগ নয়, বরং সাংসদদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও সম্মানজনক সম্পর্ক গড়ে তোলা জরুরি। তিনি জানিয়েছেন, দলীয় শৃঙ্খলা ব্যবস্থাকে ভয় দেখানোর মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করবেন না।

সারাক্ষণ রিপোর্টের তথ্য অনুযায়ী, নতুন প্রধানমন্ত্রী দলীয় কার্যালয়কে এমন একটি জায়গা হিসেবে গড়ে তুলতে চান, যেখানে সাংসদদের মতামত শোনা হবে এবং সরকারের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ আরও সহজ হবে।

আগের নেতৃত্বের কঠোর কৌশলের ব্যর্থতা

চীন সফরে আসছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার

সাবেক প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সময়ে দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া কয়েকজন সাংসদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কঠোর নিয়ন্ত্রণের সেই কৌশল শেষ পর্যন্ত দলের ভেতরের অসন্তোষ কমাতে পারেনি।

নিজ দলের সাংসদদের আস্থা হারানোর কারণেই স্টারমারের নেতৃত্ব সংকটে পড়ে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা। বড় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়েও বিতর্কিত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে বারবার সমস্যায় পড়েছিল তার সরকার।

নতুন প্রধানমন্ত্রীর সামনে কঠিন পরীক্ষা

বার্নহামের জন্য সবচেয়ে বড় বাধা হতে পারে দলের ভেতরের বিভিন্ন মত ও প্রত্যাশা। লেবার পার্টির মধ্যে বামপন্থী থেকে মধ্যপন্থী—বিভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থানের সাংসদ রয়েছেন। সবাইকে একসঙ্গে সন্তুষ্ট রাখা সহজ হবে না।

কল্যাণ ব্যয়, প্রতিরক্ষা নীতি, অভিবাসন নিয়ন্ত্রণসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দলের ভেতরে মতপার্থক্য তৈরি হতে পারে। এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে তাকে কঠিন রাজনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে।

নেতৃত্বের শক্তি দেখাতে হবে বার্নহামকে

বার্নহামের বড় শক্তি হলো ব্যক্তিগত যোগাযোগের দক্ষতা। ম্যানচেস্টারের মেয়র হিসেবে তিনি বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। সাংসদদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি করাও তার কৌশলের অংশ।

Andy Burnham to promise new path when he becomes Labour leader - BBC News

তবে শুধু বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণই যথেষ্ট হবে না। দলীয় ঐক্য বজায় রাখতে প্রয়োজন দৃঢ় সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাও। বিদ্রোহ দেখা দিলে প্রতিবার সমঝোতা করলে নেতৃত্বের অবস্থান দুর্বল হতে পারে।

লেবার পার্টির ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে ঐক্যের ওপর

আগামী সাধারণ নির্বাচনের সময় যত এগিয়ে আসবে, ততই সাংসদদের ব্যক্তিগত রাজনৈতিক হিসাব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। তখন দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখা আরও কঠিন হতে পারে।

বার্নহামের সাফল্য নির্ভর করবে তিনি কতটা দক্ষতার সঙ্গে সাংসদদের মতামত গ্রহণ, দলের লক্ষ্য নির্ধারণ এবং প্রয়োজনের সময় কঠোর সিদ্ধান্ত—এই তিনটি বিষয় একসঙ্গে সামলাতে পারেন তার ওপর।

নতুন নেতৃত্বের শুরুতে তার প্রতি সমর্থন থাকলেও সামনে আসা রাজনৈতিক পরীক্ষাগুলোই ঠিক করবে তিনি দলের নিয়ন্ত্রণ কতটা ধরে রাখতে পারবেন।

বার্নহামের নেতৃত্বে লেবার পার্টি কি নতুন ঐক্যের পথে যাবে? নাকি আবারও শুরু হবে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব—এখন সেটিই ব্রিটিশ রাজনীতির বড় প্রশ্ন।