০৫:০৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়? ‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি ইসলামী ব্যাংকে এস আলম-সংশ্লিষ্ট ৮১.৯২ শতাংশ শেয়ার ফ্রিজের নির্দেশ হাইকোর্টের

ইউক্রেনের ‘ভ্যাম্পায়ার’ ড্রোন: কখন মৃত্যুর দূত, কখন সামনের সারিতে খাবার পৌঁছে দেয়

যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোন মানেই সাধারণত ধ্বংস আর মৃত্যুর ছবি ভেসে ওঠে। কিন্তু ইউক্রেনে একই ড্রোন এখন ভিন্ন এক মানবিক ভূমিকা পালন করছে। ‘ভ্যাম্পায়ার’ নামে পরিচিত ভারী ড্রোনগুলো যেমন শত্রু অবস্থানে হামলা চালাতে পারে, তেমনি সামনের সারির সৈন্যদের কাছে খাবার, পানি ও ব্যক্তিগত জিনিসপত্রও পৌঁছে দিচ্ছে।

অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে ‘সাধারণ’ বাজারের তালিকা

এক বৃহস্পতিবার সকালে প্রায় সাড়ে সাতটার দিকে অর্ডার আসা শুরু হয়। তালিকায় ছিল ধোঁয়া-দেওয়া বেকন, ওটমিল বিস্কুট, মেয়োনিজ, আলুভর্তা। এগুলো কোনো সাধারণ বাজারের তালিকা নয়; এগুলো ছিল সামনের সারির বাঙ্কার ও ট্রেঞ্চে থাকা ইউক্রেনীয় সেনাদের চাহিদা।

সামনের লাইনে যাতায়াত এখন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ইউক্রেন বাধ্য হয়ে ড্রোনের মাধ্যমে সরবরাহ ব্যবস্থাকে দক্ষ করে তুলেছে। রাতের অন্ধকারে পানি, বিদ্যুৎ সংরক্ষণ যন্ত্র এবং জরুরি সামগ্রী ড্রোনে করে পৌঁছে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন সেনারা।

মনোবল বাড়াতেই এই উদ্যোগ

পূর্বাঞ্চলের দিনিপ্রো অঞ্চলে ড্রোনে পাঠানোর প্যাকেট প্রস্তুত করেন ‘লেসিক’ ছদ্মনামের এক সেনা। তার ভাষায়, সামনের সারিতে থাকা সহযোদ্ধাদের মনোবল বাড়াতেই তারা বাড়তি যত্ন নেন। তিনি বলেন, ছোট জিনিসও সেখানে অনেক বড় প্রভাব ফেলে।

তিনি নিজেও আগে সামনের লাইনে আহত হয়েছিলেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই জানেন, দীর্ঘদিন শুকনো রেশন খেয়ে থাকা কতটা কঠিন।

একই ড্রোনের দুই রূপ

ইউক্রেনীয় তৈরি ভারী ভ্যাম্পায়ার ড্রোনগুলো খারাপ আবহাওয়াতেও উড়তে পারে এবং এগুলো ভূপাতিত করা তুলনামূলক কঠিন বলে সেনাদের দাবি। রুশ বাহিনী এগুলোকে স্লাভ লোককাহিনির ডাইনি ‘বাবা ইয়াগা’ নামে ডাকে। তবে যখন এগুলো খাবার ফেলে যায়, অনেক ইউক্রেনীয় সেনা স্নেহ করে এগুলোকে ‘মা ড্রোন’ বলে।

সিগারেট, ভেজা টিস্যু, কফি, শাওয়ারমা এমনকি চকলেট হ্যাজেলনাট জন্মদিনের কেকও পৌঁছে দেওয়া হয়েছে এই ড্রোনে করে। ‘দা ভিঞ্চি উলভস’ নামে একটি ইউনিট প্রতিদিনই এসব অনুরোধ পূরণের চেষ্টা করে।

সূক্ষ্ম পরিকল্পনায় চলে পুরো প্রক্রিয়া

প্রতিটি ব্যাগ আলাদা করে প্রস্তুত করা হয় সৈন্যদের চাহিদা অনুযায়ী। শীতকালে তুষারের আর্দ্রতার কারণে একেকটি ব্যাগে প্রায় দশ কেজির বেশি বহন করা যায় না। ওজন কম হলে অতিরিক্ত সিগারেট বা মোড়ানো মিষ্টি ঢুকিয়ে দেওয়া হয়।

উচ্চতা থেকে ফেলতে হয় বলে তরল জিনিস বিশেষভাবে প্যাকেটজাত করা হয়, নইলে বিস্ফোরিত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। কমলা ভরে দেওয়া হয় চিপসের কৌটায়, স্যান্ডউইচ রাখা হয় প্লাস্টিক সুরক্ষায়।

দুপুরের মধ্যে প্যাকেট গাড়িতে তুলে অ্যান্টি-ড্রোন জালের নিচ দিয়ে এগুলো সামনের দিকে পাঠানো হয়। সেখান থেকে মানববিহীন স্থলযানে করে পৌঁছে যায় ড্রোনচালকদের কাছে।

ভয়ের নয়, আনন্দের শব্দ

অন্য ড্রোনের গুঞ্জন যেখানে আতঙ্ক তৈরি করে, সেখানে ভ্যাম্পায়ার ড্রোনের শব্দ শুনে ইউক্রেনীয় সেনারা আনন্দিত হন। তারা শব্দ শুনেই বুঝতে পারেন—এটি নিজেদের ড্রোন।

এক সন্ধ্যায় অন্ধকারে উড়ে যাওয়া ড্রোনের ক্যামেরায় দেখা যায় নিচে লাল আলোর সংকেত। কিছুক্ষণ পর একটি প্যাকেট মাটিতে পড়ে, এক সৈন্য দ্রুত বেরিয়ে সেটি তুলে নেন। রেডিও বার্তায় ভেসে আসে ধন্যবাদ।

এর পরদিনের অর্ডার আবার আসতে শুরু করে—পানি, আপেল, পত্রিকা, নুডলস, চিনি, চা, টয়লেট পেপার, পেঁয়াজ, হাত গরম রাখার প্যাকেট।

জনপ্রিয় সংবাদ

রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়?

ইউক্রেনের ‘ভ্যাম্পায়ার’ ড্রোন: কখন মৃত্যুর দূত, কখন সামনের সারিতে খাবার পৌঁছে দেয়

০৮:৩০:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোন মানেই সাধারণত ধ্বংস আর মৃত্যুর ছবি ভেসে ওঠে। কিন্তু ইউক্রেনে একই ড্রোন এখন ভিন্ন এক মানবিক ভূমিকা পালন করছে। ‘ভ্যাম্পায়ার’ নামে পরিচিত ভারী ড্রোনগুলো যেমন শত্রু অবস্থানে হামলা চালাতে পারে, তেমনি সামনের সারির সৈন্যদের কাছে খাবার, পানি ও ব্যক্তিগত জিনিসপত্রও পৌঁছে দিচ্ছে।

অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে ‘সাধারণ’ বাজারের তালিকা

এক বৃহস্পতিবার সকালে প্রায় সাড়ে সাতটার দিকে অর্ডার আসা শুরু হয়। তালিকায় ছিল ধোঁয়া-দেওয়া বেকন, ওটমিল বিস্কুট, মেয়োনিজ, আলুভর্তা। এগুলো কোনো সাধারণ বাজারের তালিকা নয়; এগুলো ছিল সামনের সারির বাঙ্কার ও ট্রেঞ্চে থাকা ইউক্রেনীয় সেনাদের চাহিদা।

সামনের লাইনে যাতায়াত এখন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ইউক্রেন বাধ্য হয়ে ড্রোনের মাধ্যমে সরবরাহ ব্যবস্থাকে দক্ষ করে তুলেছে। রাতের অন্ধকারে পানি, বিদ্যুৎ সংরক্ষণ যন্ত্র এবং জরুরি সামগ্রী ড্রোনে করে পৌঁছে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন সেনারা।

মনোবল বাড়াতেই এই উদ্যোগ

পূর্বাঞ্চলের দিনিপ্রো অঞ্চলে ড্রোনে পাঠানোর প্যাকেট প্রস্তুত করেন ‘লেসিক’ ছদ্মনামের এক সেনা। তার ভাষায়, সামনের সারিতে থাকা সহযোদ্ধাদের মনোবল বাড়াতেই তারা বাড়তি যত্ন নেন। তিনি বলেন, ছোট জিনিসও সেখানে অনেক বড় প্রভাব ফেলে।

তিনি নিজেও আগে সামনের লাইনে আহত হয়েছিলেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই জানেন, দীর্ঘদিন শুকনো রেশন খেয়ে থাকা কতটা কঠিন।

একই ড্রোনের দুই রূপ

ইউক্রেনীয় তৈরি ভারী ভ্যাম্পায়ার ড্রোনগুলো খারাপ আবহাওয়াতেও উড়তে পারে এবং এগুলো ভূপাতিত করা তুলনামূলক কঠিন বলে সেনাদের দাবি। রুশ বাহিনী এগুলোকে স্লাভ লোককাহিনির ডাইনি ‘বাবা ইয়াগা’ নামে ডাকে। তবে যখন এগুলো খাবার ফেলে যায়, অনেক ইউক্রেনীয় সেনা স্নেহ করে এগুলোকে ‘মা ড্রোন’ বলে।

সিগারেট, ভেজা টিস্যু, কফি, শাওয়ারমা এমনকি চকলেট হ্যাজেলনাট জন্মদিনের কেকও পৌঁছে দেওয়া হয়েছে এই ড্রোনে করে। ‘দা ভিঞ্চি উলভস’ নামে একটি ইউনিট প্রতিদিনই এসব অনুরোধ পূরণের চেষ্টা করে।

সূক্ষ্ম পরিকল্পনায় চলে পুরো প্রক্রিয়া

প্রতিটি ব্যাগ আলাদা করে প্রস্তুত করা হয় সৈন্যদের চাহিদা অনুযায়ী। শীতকালে তুষারের আর্দ্রতার কারণে একেকটি ব্যাগে প্রায় দশ কেজির বেশি বহন করা যায় না। ওজন কম হলে অতিরিক্ত সিগারেট বা মোড়ানো মিষ্টি ঢুকিয়ে দেওয়া হয়।

উচ্চতা থেকে ফেলতে হয় বলে তরল জিনিস বিশেষভাবে প্যাকেটজাত করা হয়, নইলে বিস্ফোরিত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। কমলা ভরে দেওয়া হয় চিপসের কৌটায়, স্যান্ডউইচ রাখা হয় প্লাস্টিক সুরক্ষায়।

দুপুরের মধ্যে প্যাকেট গাড়িতে তুলে অ্যান্টি-ড্রোন জালের নিচ দিয়ে এগুলো সামনের দিকে পাঠানো হয়। সেখান থেকে মানববিহীন স্থলযানে করে পৌঁছে যায় ড্রোনচালকদের কাছে।

ভয়ের নয়, আনন্দের শব্দ

অন্য ড্রোনের গুঞ্জন যেখানে আতঙ্ক তৈরি করে, সেখানে ভ্যাম্পায়ার ড্রোনের শব্দ শুনে ইউক্রেনীয় সেনারা আনন্দিত হন। তারা শব্দ শুনেই বুঝতে পারেন—এটি নিজেদের ড্রোন।

এক সন্ধ্যায় অন্ধকারে উড়ে যাওয়া ড্রোনের ক্যামেরায় দেখা যায় নিচে লাল আলোর সংকেত। কিছুক্ষণ পর একটি প্যাকেট মাটিতে পড়ে, এক সৈন্য দ্রুত বেরিয়ে সেটি তুলে নেন। রেডিও বার্তায় ভেসে আসে ধন্যবাদ।

এর পরদিনের অর্ডার আবার আসতে শুরু করে—পানি, আপেল, পত্রিকা, নুডলস, চিনি, চা, টয়লেট পেপার, পেঁয়াজ, হাত গরম রাখার প্যাকেট।