০২:৪৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি ইসলামী ব্যাংকে এস আলম-সংশ্লিষ্ট ৮১.৯২ শতাংশ শেয়ার ফ্রিজের নির্দেশ হাইকোর্টের ফুলবাড়ীর ১০৯ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৭২টিতেই নেই প্রধান শিক্ষক, নৈশপ্রহরী শূন্য ৮০টিতে

ইউরোপে জনতাবাদীদের ঘেরাও ভাঙছে, নতুন বাস্তবতায় রাজনীতির পালাবদল

ইউরোপের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত এক অঘোষিত প্রাচীর এখন ভেঙে পড়ার পথে। জনতাবাদী ডানপন্থীদের দূরে সরিয়ে রাখার কৌশল আর আগের মতো কার্যকর থাকছে না। বরং অনেক ক্ষেত্রে এই নীতিই তাদের আরও শক্তিশালী করে তুলছে—এমন বাস্তবতা ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

ঘেরাও নীতির সূচনা ও বাস্তবতা

১৯৮০-এর দশক থেকে ইউরোপের কিছু দেশে এমন একটি নীতি চালু ছিল, যার মাধ্যমে মূলধারার বাইরে থাকা রাজনৈতিক মতকে ক্ষমতার বাইরে রাখা হতো। এই প্রক্রিয়ায় জনতাবাদী বা কঠোর ডানপন্থী মতাদর্শের রাজনীতিবিদদের সঙ্গে জোট গঠন বা তাদের বক্তব্য প্রচার থেকে বিরত থাকত মূলধারার দলগুলো। উদ্দেশ্য ছিল গণতন্ত্রকে সুরক্ষিত রাখা।

কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দেখা গেছে, এই নীতি সব ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত ফল দেয়নি। বরং অনেক দেশে জনতাবাদী দলগুলো জনপ্রিয়তা বাড়াতে পেরেছে এবং নিজেদের ‘বঞ্চিত’ শক্তি হিসেবে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছে।

Europe's populist right should be outvoted rather than ostracised

রাজনৈতিক প্রাচীর কেন ভাঙছে

ইউরোপের বিভিন্ন দেশে এখন এই ঘেরাও নীতি ভিন্ন ভিন্নভাবে প্রয়োগ হচ্ছে। কোথাও এটি দুর্বল হয়ে পড়েছে, কোথাও আবার আংশিকভাবে বজায় আছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে আইন পাস কিংবা রাজনৈতিক সমীকরণে জনতাবাদী দলগুলোর সহায়তা নেওয়ার ঘটনা বাড়ছে।

এতে বোঝা যাচ্ছে, বাস্তব রাজনীতিতে এই দলগুলোকে পুরোপুরি উপেক্ষা করা কঠিন হয়ে উঠেছে। বরং প্রয়োজন অনুযায়ী তাদের সঙ্গে কাজ করার প্রবণতা তৈরি হচ্ছে।

উল্টো ফল দিচ্ছে পুরোনো কৌশল

অনেক বিশ্লেষকের মতে, জনতাবাদীদের একঘরে করার কৌশলই তাদের জনপ্রিয়তা বাড়িয়ে দিয়েছে। সাধারণ ভোটারদের একটি অংশ মনে করছে, তাদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। ফলে এই দলগুলো নিজেদের ‘বিকল্প শক্তি’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছে।

রাজনৈতিক প্রতিযোগিতায় এটি একটি নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে, যেখানে জনতাবাদীরা আর প্রান্তিক নয়, বরং মূল আলোচনার অংশ হয়ে উঠছে।

Europe's populist right should be outvoted rather than ostracised

নতুন পথের সন্ধান

বর্তমানে অনেক নীতিনির্ধারক মনে করছেন, জনতাবাদী শক্তিকে উপেক্ষা করার বদলে তাদের সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করা বেশি কার্যকর হতে পারে। গণতন্ত্রে সব মতের উপস্থিতি স্বীকার করেই প্রতিযোগিতা চালানোই এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

এই পরিবর্তন ইউরোপের রাজনীতিতে বড় ধরনের পুনর্বিন্যাসের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যেখানে পুরোনো প্রাচীর ভেঙে নতুন সমীকরণ গড়ে উঠছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ

ইউরোপে জনতাবাদীদের ঘেরাও ভাঙছে, নতুন বাস্তবতায় রাজনীতির পালাবদল

১২:৪২:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬

ইউরোপের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত এক অঘোষিত প্রাচীর এখন ভেঙে পড়ার পথে। জনতাবাদী ডানপন্থীদের দূরে সরিয়ে রাখার কৌশল আর আগের মতো কার্যকর থাকছে না। বরং অনেক ক্ষেত্রে এই নীতিই তাদের আরও শক্তিশালী করে তুলছে—এমন বাস্তবতা ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

ঘেরাও নীতির সূচনা ও বাস্তবতা

১৯৮০-এর দশক থেকে ইউরোপের কিছু দেশে এমন একটি নীতি চালু ছিল, যার মাধ্যমে মূলধারার বাইরে থাকা রাজনৈতিক মতকে ক্ষমতার বাইরে রাখা হতো। এই প্রক্রিয়ায় জনতাবাদী বা কঠোর ডানপন্থী মতাদর্শের রাজনীতিবিদদের সঙ্গে জোট গঠন বা তাদের বক্তব্য প্রচার থেকে বিরত থাকত মূলধারার দলগুলো। উদ্দেশ্য ছিল গণতন্ত্রকে সুরক্ষিত রাখা।

কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দেখা গেছে, এই নীতি সব ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত ফল দেয়নি। বরং অনেক দেশে জনতাবাদী দলগুলো জনপ্রিয়তা বাড়াতে পেরেছে এবং নিজেদের ‘বঞ্চিত’ শক্তি হিসেবে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছে।

Europe's populist right should be outvoted rather than ostracised

রাজনৈতিক প্রাচীর কেন ভাঙছে

ইউরোপের বিভিন্ন দেশে এখন এই ঘেরাও নীতি ভিন্ন ভিন্নভাবে প্রয়োগ হচ্ছে। কোথাও এটি দুর্বল হয়ে পড়েছে, কোথাও আবার আংশিকভাবে বজায় আছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে আইন পাস কিংবা রাজনৈতিক সমীকরণে জনতাবাদী দলগুলোর সহায়তা নেওয়ার ঘটনা বাড়ছে।

এতে বোঝা যাচ্ছে, বাস্তব রাজনীতিতে এই দলগুলোকে পুরোপুরি উপেক্ষা করা কঠিন হয়ে উঠেছে। বরং প্রয়োজন অনুযায়ী তাদের সঙ্গে কাজ করার প্রবণতা তৈরি হচ্ছে।

উল্টো ফল দিচ্ছে পুরোনো কৌশল

অনেক বিশ্লেষকের মতে, জনতাবাদীদের একঘরে করার কৌশলই তাদের জনপ্রিয়তা বাড়িয়ে দিয়েছে। সাধারণ ভোটারদের একটি অংশ মনে করছে, তাদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। ফলে এই দলগুলো নিজেদের ‘বিকল্প শক্তি’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছে।

রাজনৈতিক প্রতিযোগিতায় এটি একটি নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে, যেখানে জনতাবাদীরা আর প্রান্তিক নয়, বরং মূল আলোচনার অংশ হয়ে উঠছে।

Europe's populist right should be outvoted rather than ostracised

নতুন পথের সন্ধান

বর্তমানে অনেক নীতিনির্ধারক মনে করছেন, জনতাবাদী শক্তিকে উপেক্ষা করার বদলে তাদের সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করা বেশি কার্যকর হতে পারে। গণতন্ত্রে সব মতের উপস্থিতি স্বীকার করেই প্রতিযোগিতা চালানোই এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

এই পরিবর্তন ইউরোপের রাজনীতিতে বড় ধরনের পুনর্বিন্যাসের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যেখানে পুরোনো প্রাচীর ভেঙে নতুন সমীকরণ গড়ে উঠছে।