লোহিত সাগরের দিকে বয়ে যাওয়া সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে ড্রোন হামলার পর তা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে রিয়াদ। ইরাকি ভূখণ্ড থেকে ছোড়া ড্রোনগুলো বৃহস্পতিবার সকালে পাইপলাইনে আঘাত হানার পর আগুন ধরে যায়, উপগ্রহ চিত্রে মদিনার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল ধরে কালো ধোঁয়ার দীর্ঘ কুণ্ডলী দেখা গেছে। হামলাস্থল থেকে বহু কিলোমিটার দূর থেকেও সেই ধোঁয়া স্পষ্ট ধরা পড়েছে উপগ্রহ ছবিতে।
আবকাইক থেকে ইয়ানবু বন্দর পর্যন্ত বিস্তৃত এই পাইপলাইন হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে তেল রপ্তানির অন্যতম প্রধান পথ। চলতি বছরের জুন নাগাদ লোহিত সাগরীয় এই বন্দর দিয়ে দৈনিক ৫০ লাখ ব্যারেলেরও বেশি অপরিশোধিত তেল রপ্তানি করছিল সৌদি আরব, ফলে হামলার পর বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে উদ্বেগ বেড়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই একক পাইপলাইনের ওপর নির্ভরতা বাড়ায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যেকোনো হামলার প্রভাব আগের চেয়ে অনেক বেশি অনুভূত হচ্ছে বিশ্ব তেল বাজারে।
সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইরাক থেকে একাধিক ড্রোনের মাধ্যমে চালানো এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এতে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আঞ্চলিক কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, হুথি বাহিনী ইরাকি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে হামলা পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে সহায়তা করেছে। তদন্তে ড্রোনের উৎস নিশ্চিত হওয়ার পর দক্ষিণ ইরাকের মাইসান প্রদেশে দায়িত্বরত এক সামরিক কমান্ডারকে বরখাস্ত করেছে বাগদাদ, যা দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনাও কিছুটা প্রশমিত করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই হামলা এমন সময় ঘটল যখন বাব এল-মান্দেব প্রণালির কৌশলগত পে
হরমুজের বিকল্প হিসেবে যে পাইপলাইনকে নিরাপদ ভরসার জায়গা ধরা হচ্ছিল, সেটিই এখন আগুনে পোড়া দাগ নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে আঞ্চলিক জ্বালানি নিরাপত্তার সবচেয়ে বড় ভরসাকেন্দ্র নিয়ে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















