মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ও সদস্যদেশগুলোর মধ্যে মতপার্থক্যের মধ্যেই যৌথ ঘোষণা দিতে সম্মত হয়েছে উদীয়মান অর্থনীতির জোট ব্রিকস। শনিবার নয়াদিল্লিতে শুরু হওয়া ব্রিকস সম্মেলনে নেতারা এই ঘোষণা অনুমোদন করবেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো। দেশটির নাম উল্লেখ না করে যেকোনো দেশের একতরফা আগ্রাসনের নিন্দা জানানো হবে ঘোষণায়।
যৌথ ঘোষণা নিয়ে ঐকমত্য
রয়টার্সকে চারটি সূত্র জানিয়েছে, ব্রিকসের আলোচনাকারীরা এমন একটি যৌথ ঘোষণার ভাষায় একমত হয়েছেন, যাতে কোনো নির্দিষ্ট দেশের নাম থাকবে না। তবে যেকোনো দেশের একতরফা আগ্রাসনের নিন্দা জানানো হবে। শনিবারই নেতারা নথিটি অনুমোদন করতে পারেন।
সূত্রগুলো পরিচয় প্রকাশ করতে রাজি হয়নি, কারণ তারা গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার অনুমতি পাননি। ঘোষণার বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ভারতের নেতৃত্বে সদস্যদেশগুলোর অবস্থানের মধ্যে সমঝোতা তৈরিতে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। আলোচনায় বিভিন্ন বিতর্কিত বিষয়ে মতপার্থক্য দেখা দিলেও ভারত ধারাবাহিক পরামর্শের মাধ্যমে ভিন্ন অবস্থানগুলোকে কাছাকাছি আনার চেষ্টা করেছে বলে প্রত্যক্ষ জ্ঞানসম্পন্ন এক ভারতীয় কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
মধ্যপ্রাচ্য সংকট বড় পরীক্ষা
এবারের সম্মেলনে ব্রিকসের ঐক্যের বড় পরীক্ষা ছিল মধ্যপ্রাচ্য সংকট নিয়ে এমন একটি ভাষা নির্ধারণ করা, যা ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত—দুই সদস্যই গ্রহণ করতে পারে। ছয় মাস ধরে চলা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধে নতুন করে পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যেই এই সম্মেলন হচ্ছে। আগস্টের বড় একটি সময় সংঘাত কিছুটা থেমে থাকার পর আবার উত্তেজনা বেড়েছে। একই সময়ে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগর অঞ্চলে তাদের নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করেছে।
এর আগে মে মাসে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে ইরান ও আমিরাতের মতবিরোধের কারণে কোনো যৌথ বিবৃতি দেওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে এবার একটি যৌথ ঘোষণা নিয়ে ঐকমত্যে পৌঁছানোকে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্বব্যবস্থায় বড় ভূমিকার দাবি
ব্রিকস বিশ্বব্যবস্থায় নিজেদের প্রভাব বাড়ানোর পাশাপাশি বিশ্বব্যাংক, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার মতো প্রতিষ্ঠানের সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছে। সদস্যদের একটি অংশ মনে করে, এসব প্রতিষ্ঠান পশ্চিমা শক্তির প্রভাবাধীন।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সম্মেলনে বলেন, আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে আরও সমতা ও ন্যায়ের দিকে নিতে ব্রিকস দেশগুলোর ইতিহাসের সঠিক পাশে দৃঢ়ভাবে থাকা উচিত।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, বৈশ্বিক সংকটে গ্লোবাল সাউথ সামনের সারিতে থাকলেও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তারা পিছনের সারিতে রয়েছে। তাঁর মতে, এই ব্যবস্থার পরিবর্তন প্রয়োজন, যাতে প্রতিটি দেশের কথা বলার সুযোগ থাকে এবং প্রত্যেক সদস্যের অংশীদারত্ব নিশ্চিত হয়।
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কারও দ্রুত করার আহ্বান জানান মোদি। তিনি বলেন, নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার আর বিলম্বিত করা যায় না।
ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকা নিয়ে ২০০৯ সালে ব্রিকসের যাত্রা শুরু হয়। পরে মিসর, ইথিওপিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত এতে যুক্ত হয়। বর্তমানে জোটটির সদস্যরা বিশ্বের ৪০ শতাংশের বেশি জনসংখ্যা এবং প্রায় এক-চতুর্থাংশ বৈশ্বিক অর্থনীতির প্রতিনিধিত্ব করে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















