০৭:২৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়? ‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি ইসলামী ব্যাংকে এস আলম-সংশ্লিষ্ট ৮১.৯২ শতাংশ শেয়ার ফ্রিজের নির্দেশ হাইকোর্টের

ইরানের হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে ১৬ মার্কিন ঘাটি ধ্বংস

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বড় ধাক্কা খেয়েছে। নতুন এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া সংঘর্ষে অন্তত ১৬টি মার্কিন সামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার ফলে কিছু ঘাঁটি প্রায় অকার্যকর হয়ে পড়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আটটি দেশে ছড়িয়ে থাকা এসব স্থাপনা অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মোট সামরিক উপস্থিতির বড় অংশ। ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়নের সঙ্গে যুক্ত এক সূত্র জানায়, কোথাও সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে ঘাঁটি বন্ধ করার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, আবার কোথাও কৌশলগত গুরুত্ব বিবেচনায় মেরামতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।

কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত

স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ইরান মূলত যুক্তরাষ্ট্রের উন্নত রাডার ব্যবস্থা, যোগাযোগ নেটওয়ার্ক এবং মোতায়েন করা যুদ্ধবিমানকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এসব সরঞ্জাম অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং দ্রুত প্রতিস্থাপন করা কঠিন, ফলে ক্ষতির প্রভাব দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে।

Exclusive: Satellite images reveal accelerating US military presence in  Middle East; Chinese expert says it is difficult for Washington to  replicate 'Venezuela model' in Iran - Global Times

এক কংগ্রেস সহকারী বলেন, এই লক্ষ্য নির্বাচন ছিল অত্যন্ত হিসাব করে করা। বিশেষ করে রাডার ব্যবস্থা অঞ্চলটিতে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে সীমিত এবং ব্যয়বহুল সম্পদ হওয়ায় এগুলোকে আঘাত করা হয়েছে।

বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি

সংঘর্ষের আর্থিক প্রভাবও বড় আকার ধারণ করেছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এ পর্যন্ত এই সংঘাতে প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে।

এর মধ্যে শুধু যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর মেরামতেই প্রায় ২০০ মিলিয়ন ডলার খরচ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের পাশাপাশি অর্থনৈতিক চাপও বাড়ছে।

A hardened aircraft shelter at Ali Al Salem Air Base, damaged during  Operation Desert Storm bombing attacks. - NARA & DVIDS Public Domain  Archive Public Domain Search

বিভিন্ন ঘাঁটিতে আঘাত

স্বতন্ত্র মূল্যায়নে আরও জানা গেছে, কুয়েতের আলী আল সালেম বিমানঘাঁটি, কাতারের আল উদেইদ ঘাঁটির রানওয়ে এবং উত্তর ইরাকের একটি সামরিক ঘাঁটির অস্ত্রাগারও হামলার শিকার হয়েছে। এসব আঘাত সামরিক কার্যক্রমে তাৎক্ষণিক বিঘ্ন তৈরি করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলাগুলো শুধু তাৎক্ষণিক ক্ষতি নয়, বরং অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি সামরিক কৌশলকেও চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠন সময়সাপেক্ষ হয়ে উঠতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামনে এখন বড় প্রশ্ন—ক্ষতিগ্রস্ত ঘাঁটিগুলো দ্রুত পুনরুদ্ধার করে আগের সক্ষমতায় ফেরা সম্ভব হবে, নাকি মধ্যপ্রাচ্যে তাদের সামরিক উপস্থিতির ধরনই বদলে যেতে পারে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়?

ইরানের হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে ১৬ মার্কিন ঘাটি ধ্বংস

০৩:৪৬:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বড় ধাক্কা খেয়েছে। নতুন এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া সংঘর্ষে অন্তত ১৬টি মার্কিন সামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার ফলে কিছু ঘাঁটি প্রায় অকার্যকর হয়ে পড়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আটটি দেশে ছড়িয়ে থাকা এসব স্থাপনা অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মোট সামরিক উপস্থিতির বড় অংশ। ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়নের সঙ্গে যুক্ত এক সূত্র জানায়, কোথাও সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে ঘাঁটি বন্ধ করার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, আবার কোথাও কৌশলগত গুরুত্ব বিবেচনায় মেরামতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।

কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত

স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ইরান মূলত যুক্তরাষ্ট্রের উন্নত রাডার ব্যবস্থা, যোগাযোগ নেটওয়ার্ক এবং মোতায়েন করা যুদ্ধবিমানকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এসব সরঞ্জাম অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং দ্রুত প্রতিস্থাপন করা কঠিন, ফলে ক্ষতির প্রভাব দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে।

Exclusive: Satellite images reveal accelerating US military presence in  Middle East; Chinese expert says it is difficult for Washington to  replicate 'Venezuela model' in Iran - Global Times

এক কংগ্রেস সহকারী বলেন, এই লক্ষ্য নির্বাচন ছিল অত্যন্ত হিসাব করে করা। বিশেষ করে রাডার ব্যবস্থা অঞ্চলটিতে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে সীমিত এবং ব্যয়বহুল সম্পদ হওয়ায় এগুলোকে আঘাত করা হয়েছে।

বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি

সংঘর্ষের আর্থিক প্রভাবও বড় আকার ধারণ করেছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এ পর্যন্ত এই সংঘাতে প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে।

এর মধ্যে শুধু যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর মেরামতেই প্রায় ২০০ মিলিয়ন ডলার খরচ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের পাশাপাশি অর্থনৈতিক চাপও বাড়ছে।

A hardened aircraft shelter at Ali Al Salem Air Base, damaged during  Operation Desert Storm bombing attacks. - NARA & DVIDS Public Domain  Archive Public Domain Search

বিভিন্ন ঘাঁটিতে আঘাত

স্বতন্ত্র মূল্যায়নে আরও জানা গেছে, কুয়েতের আলী আল সালেম বিমানঘাঁটি, কাতারের আল উদেইদ ঘাঁটির রানওয়ে এবং উত্তর ইরাকের একটি সামরিক ঘাঁটির অস্ত্রাগারও হামলার শিকার হয়েছে। এসব আঘাত সামরিক কার্যক্রমে তাৎক্ষণিক বিঘ্ন তৈরি করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলাগুলো শুধু তাৎক্ষণিক ক্ষতি নয়, বরং অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি সামরিক কৌশলকেও চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠন সময়সাপেক্ষ হয়ে উঠতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামনে এখন বড় প্রশ্ন—ক্ষতিগ্রস্ত ঘাঁটিগুলো দ্রুত পুনরুদ্ধার করে আগের সক্ষমতায় ফেরা সম্ভব হবে, নাকি মধ্যপ্রাচ্যে তাদের সামরিক উপস্থিতির ধরনই বদলে যেতে পারে।