০৫:৪৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়? ‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি ইসলামী ব্যাংকে এস আলম-সংশ্লিষ্ট ৮১.৯২ শতাংশ শেয়ার ফ্রিজের নির্দেশ হাইকোর্টের

ইরানে স্টারলিংক ডিভাইস পাচারের দাবি, স্বীকারোক্তিতে নতুন বিতর্ক

ইরানে সরকারবিরোধী আন্দোলনকারীদের সহায়তা করতে গোপনে স্টারলিংক ইন্টারনেট ডিভাইস পাচার করা হয়েছিল বলে দাবি করেছেন ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট। তার এই মন্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে।

জেরুজালেমে এক আন্তর্জাতিক নীতিবিষয়ক সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে বেনেট বলেন, তার প্রধানমন্ত্রীত্বের সময় ইরানে বিপুল সংখ্যক স্টারলিংক রিসিভার সংগ্রহ ও পাচারের একটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এসব ডিভাইসের উদ্দেশ্য ছিল ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সচল রাখা, যাতে সরকারবিরোধী আন্দোলনকারীরা একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখতে পারেন।

প্রতিবাদকারীদের সহায়তার পরিকল্পনা

বেনেটের দাবি, এই প্রযুক্তিগত অবকাঠামো তৈরি করা হলে ইরানের বিভিন্ন অংশে আন্দোলনকারীরা আরও কার্যকরভাবে সংগঠিত হতে পারতেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পরবর্তী সময়ে পরিকল্পনাটি আর এগিয়ে নেওয়া হয়নি, ফলে আন্দোলনের সময় প্রত্যাশিত যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি।

Former PM Naftali Bennett reveals alleged Israel effort to boost Iran  internet access | The Jerusalem Post

তিনি বর্তমান ইসরায়েলি সরকারের সমালোচনা করে বলেন, পরিকল্পনাটি যথাযথভাবে বাস্তবায়িত না হওয়ায় এর সম্ভাব্য প্রভাবও দেখা যায়নি।

ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণ ও ইরানের অবস্থান

ইরান দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে বিদেশি শক্তিগুলো দেশটির নিরাপত্তা দুর্বল করতে বিভিন্ন প্রযুক্তিগত উপায় ব্যবহার করছে। স্টারলিংক নিয়ে অতীতেও ইরান অভিযোগ তুলেছিল যে এসব ডিভাইস অবৈধভাবে দেশে প্রবেশ করানো হচ্ছে।

যদিও স্টারলিংকের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ইরানে নেই, তবুও বিভিন্ন সময়ে দেশটিতে এর ব্যবহার নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক অস্থিরতা বা সংঘাতের সময় ইন্টারনেট সীমিত করে দেওয়ার ঘটনায় বিকল্প যোগাযোগব্যবস্থা হিসেবে স্টারলিংকের নাম সামনে আসে।

সংঘাতের সময় বিকল্প যোগাযোগের চেষ্টা

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরানে বিক্ষোভ ও নিরাপত্তা সংকটের সময় কর্তৃপক্ষ একাধিকবার জনসাধারণের ইন্টারনেট ব্যবহার সীমিত করেছে। এসব পরিস্থিতিতে কিছু মানুষ বিকল্প উপায়ে অনলাইন সংযোগ বজায় রাখার চেষ্টা করেছেন বলে জানা যায়।

Israel smuggled Starlink systems into Iran, former PM says | The Daily Star

বিশ্লেষকদের মতে, স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট প্রযুক্তি এখন শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, বরং রাজনৈতিক ও কৌশলগত প্রতিযোগিতারও একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদানে পরিণত হয়েছে।

ইরান সরকার নিয়ে কঠোর মন্তব্য

সম্মেলনে বেনেট ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থারও কড়া সমালোচনা করেন। তিনি দাবি করেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে আরও সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে ইরানের বর্তমান ক্ষমতাকাঠামোর বিরুদ্ধে চাপ তৈরি করা প্রয়োজন।

তার এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন অঞ্চলজুড়ে নিরাপত্তা, প্রযুক্তি ও ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা নতুন মাত্রা পেয়েছে। ফলে স্টারলিংক ডিভাইস পাচারের দাবি এবং তা ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক আগামী দিনগুলোতেও আলোচনায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়?

ইরানে স্টারলিংক ডিভাইস পাচারের দাবি, স্বীকারোক্তিতে নতুন বিতর্ক

০১:০০:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

ইরানে সরকারবিরোধী আন্দোলনকারীদের সহায়তা করতে গোপনে স্টারলিংক ইন্টারনেট ডিভাইস পাচার করা হয়েছিল বলে দাবি করেছেন ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট। তার এই মন্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে।

জেরুজালেমে এক আন্তর্জাতিক নীতিবিষয়ক সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে বেনেট বলেন, তার প্রধানমন্ত্রীত্বের সময় ইরানে বিপুল সংখ্যক স্টারলিংক রিসিভার সংগ্রহ ও পাচারের একটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এসব ডিভাইসের উদ্দেশ্য ছিল ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সচল রাখা, যাতে সরকারবিরোধী আন্দোলনকারীরা একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখতে পারেন।

প্রতিবাদকারীদের সহায়তার পরিকল্পনা

বেনেটের দাবি, এই প্রযুক্তিগত অবকাঠামো তৈরি করা হলে ইরানের বিভিন্ন অংশে আন্দোলনকারীরা আরও কার্যকরভাবে সংগঠিত হতে পারতেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পরবর্তী সময়ে পরিকল্পনাটি আর এগিয়ে নেওয়া হয়নি, ফলে আন্দোলনের সময় প্রত্যাশিত যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি।

Former PM Naftali Bennett reveals alleged Israel effort to boost Iran  internet access | The Jerusalem Post

তিনি বর্তমান ইসরায়েলি সরকারের সমালোচনা করে বলেন, পরিকল্পনাটি যথাযথভাবে বাস্তবায়িত না হওয়ায় এর সম্ভাব্য প্রভাবও দেখা যায়নি।

ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণ ও ইরানের অবস্থান

ইরান দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে বিদেশি শক্তিগুলো দেশটির নিরাপত্তা দুর্বল করতে বিভিন্ন প্রযুক্তিগত উপায় ব্যবহার করছে। স্টারলিংক নিয়ে অতীতেও ইরান অভিযোগ তুলেছিল যে এসব ডিভাইস অবৈধভাবে দেশে প্রবেশ করানো হচ্ছে।

যদিও স্টারলিংকের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ইরানে নেই, তবুও বিভিন্ন সময়ে দেশটিতে এর ব্যবহার নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক অস্থিরতা বা সংঘাতের সময় ইন্টারনেট সীমিত করে দেওয়ার ঘটনায় বিকল্প যোগাযোগব্যবস্থা হিসেবে স্টারলিংকের নাম সামনে আসে।

সংঘাতের সময় বিকল্প যোগাযোগের চেষ্টা

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরানে বিক্ষোভ ও নিরাপত্তা সংকটের সময় কর্তৃপক্ষ একাধিকবার জনসাধারণের ইন্টারনেট ব্যবহার সীমিত করেছে। এসব পরিস্থিতিতে কিছু মানুষ বিকল্প উপায়ে অনলাইন সংযোগ বজায় রাখার চেষ্টা করেছেন বলে জানা যায়।

Israel smuggled Starlink systems into Iran, former PM says | The Daily Star

বিশ্লেষকদের মতে, স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট প্রযুক্তি এখন শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, বরং রাজনৈতিক ও কৌশলগত প্রতিযোগিতারও একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদানে পরিণত হয়েছে।

ইরান সরকার নিয়ে কঠোর মন্তব্য

সম্মেলনে বেনেট ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থারও কড়া সমালোচনা করেন। তিনি দাবি করেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে আরও সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে ইরানের বর্তমান ক্ষমতাকাঠামোর বিরুদ্ধে চাপ তৈরি করা প্রয়োজন।

তার এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন অঞ্চলজুড়ে নিরাপত্তা, প্রযুক্তি ও ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা নতুন মাত্রা পেয়েছে। ফলে স্টারলিংক ডিভাইস পাচারের দাবি এবং তা ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক আগামী দিনগুলোতেও আলোচনায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।