০২:৫২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি ইসলামী ব্যাংকে এস আলম-সংশ্লিষ্ট ৮১.৯২ শতাংশ শেয়ার ফ্রিজের নির্দেশ হাইকোর্টের ফুলবাড়ীর ১০৯ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৭২টিতেই নেই প্রধান শিক্ষক, নৈশপ্রহরী শূন্য ৮০টিতে

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি চুক্তি ঘিরে বিভ্রান্তি, যুদ্ধের অবসান এখনও অনিশ্চিত

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাতের অবসান ঘটাতে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি নিয়ে নতুন করে জটিলতা তৈরি হয়েছে। উভয় পক্ষের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য, ফাঁস হওয়া খসড়া নথি এবং আঞ্চলিক নেতাদের মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে। ফলে যুদ্ধ দ্রুত শেষ হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

চুক্তি নিয়ে পাল্টাপাল্টি দাবি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইরানের সমালোচনা করে বলেন, ইরানিদের সঙ্গে “সৎ বিশ্বাসে সমঝোতা করা কঠিন”। তিনি দাবি করেন, চুক্তির বিষয়ে অগ্রগতি থাকলেও এখনও বিভিন্ন বাধা রয়ে গেছে।

অন্যদিকে ইরানের ঘনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, কোনো চূড়ান্ত চুক্তির শর্ত এখনো নির্ধারিত হয়নি। এমনকি একটি কথিত চূড়ান্ত খসড়াও প্রকাশ করা হয়েছে, যা পরে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করা হয়।

এর মধ্যে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সামাজিক মাধ্যমে দাবি করেন যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শান্তি চুক্তির চূড়ান্ত পাঠে সম্মতি হয়েছে। তবে তিনি এ বিষয়ে কোনো বিস্তারিত তথ্য দেননি।

আলোচনা কতদূর এগিয়েছে

ওয়াশিংটন ও তেহরান—কোনো পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার কথা নিশ্চিত করেনি। তবে এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা জানান, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সমঝোতা হওয়ার সম্ভাবনা ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, তথাকথিত “ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক” বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে দুই পক্ষ আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে। তবে তিনি চুক্তি চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু নিয়ে জল্পনা না করার আহ্বান জানান।

হরমুজ প্রণালি বড় বাধা

আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালি। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরান কার্যত এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে নৌ চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হবে। অন্যদিকে ইরান ইঙ্গিত দিয়েছে, প্রণালিটির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ ছাড়তে তারা প্রস্তুত নয়। এই ইস্যুতে দুই দেশের অবস্থানের পার্থক্য এখনো বড় বাধা হিসেবে রয়ে গেছে।

Israel and Lebanon agree to 45-day extension of ceasefire, U.S. State Department says | PBS News

খসড়া চুক্তি নিয়ে মতবিরোধ

ইরানের একটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত কথিত খসড়া অনুযায়ী, চুক্তি হলে লেবাননসহ বিভিন্ন ফ্রন্টে সংঘাত বন্ধ হবে, ইরানের স্থগিত থাকা ২৪ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ মুক্ত করা হবে এবং তেল ও পেট্রোরসায়ন পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হবে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেছেন। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, চুক্তির অংশ হিসেবে ইরানের পারমাণবিক উপকরণ ধ্বংস করতে হবে, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণের আগে কোনো অর্থ ছাড়া হবে না এবং হরমুজ প্রণালি সব জাহাজের জন্য উন্মুক্ত রাখতে হবে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের সশস্ত্র মিত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থনও বন্ধ করতে হবে।

লেবানন ও ইসরায়েল প্রসঙ্গ

চুক্তি আলোচনায় লেবাননের ভবিষ্যৎও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখতে তিনি ও ট্রাম্প একই অবস্থানে রয়েছেন।

অন্যদিকে হিজবুল্লাহর জ্যেষ্ঠ নেতা হাসান ফাদলাল্লাহ বলেছেন, তেহরান কোনো চুক্তি করলে সেখানে লেবাননের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার ওপর জোর দেবে বলে তাদের বিশ্বাস।

এদিকে দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি সামরিক উপস্থিতি অব্যাহত রয়েছে এবং নতুন করে বিমান হামলার খবরও পাওয়া গেছে। ফলে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি হলেও আঞ্চলিক উত্তেজনা পুরোপুরি প্রশমিত হবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি চুক্তি ঘিরে বিভ্রান্তি, যুদ্ধের অবসান এখনও অনিশ্চিত

০৭:১৭:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাতের অবসান ঘটাতে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি নিয়ে নতুন করে জটিলতা তৈরি হয়েছে। উভয় পক্ষের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য, ফাঁস হওয়া খসড়া নথি এবং আঞ্চলিক নেতাদের মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে। ফলে যুদ্ধ দ্রুত শেষ হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

চুক্তি নিয়ে পাল্টাপাল্টি দাবি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইরানের সমালোচনা করে বলেন, ইরানিদের সঙ্গে “সৎ বিশ্বাসে সমঝোতা করা কঠিন”। তিনি দাবি করেন, চুক্তির বিষয়ে অগ্রগতি থাকলেও এখনও বিভিন্ন বাধা রয়ে গেছে।

অন্যদিকে ইরানের ঘনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, কোনো চূড়ান্ত চুক্তির শর্ত এখনো নির্ধারিত হয়নি। এমনকি একটি কথিত চূড়ান্ত খসড়াও প্রকাশ করা হয়েছে, যা পরে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করা হয়।

এর মধ্যে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সামাজিক মাধ্যমে দাবি করেন যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শান্তি চুক্তির চূড়ান্ত পাঠে সম্মতি হয়েছে। তবে তিনি এ বিষয়ে কোনো বিস্তারিত তথ্য দেননি।

আলোচনা কতদূর এগিয়েছে

ওয়াশিংটন ও তেহরান—কোনো পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার কথা নিশ্চিত করেনি। তবে এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা জানান, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সমঝোতা হওয়ার সম্ভাবনা ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, তথাকথিত “ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক” বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে দুই পক্ষ আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে। তবে তিনি চুক্তি চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু নিয়ে জল্পনা না করার আহ্বান জানান।

হরমুজ প্রণালি বড় বাধা

আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালি। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরান কার্যত এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে নৌ চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হবে। অন্যদিকে ইরান ইঙ্গিত দিয়েছে, প্রণালিটির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ ছাড়তে তারা প্রস্তুত নয়। এই ইস্যুতে দুই দেশের অবস্থানের পার্থক্য এখনো বড় বাধা হিসেবে রয়ে গেছে।

Israel and Lebanon agree to 45-day extension of ceasefire, U.S. State Department says | PBS News

খসড়া চুক্তি নিয়ে মতবিরোধ

ইরানের একটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত কথিত খসড়া অনুযায়ী, চুক্তি হলে লেবাননসহ বিভিন্ন ফ্রন্টে সংঘাত বন্ধ হবে, ইরানের স্থগিত থাকা ২৪ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ মুক্ত করা হবে এবং তেল ও পেট্রোরসায়ন পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হবে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেছেন। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, চুক্তির অংশ হিসেবে ইরানের পারমাণবিক উপকরণ ধ্বংস করতে হবে, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণের আগে কোনো অর্থ ছাড়া হবে না এবং হরমুজ প্রণালি সব জাহাজের জন্য উন্মুক্ত রাখতে হবে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের সশস্ত্র মিত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থনও বন্ধ করতে হবে।

লেবানন ও ইসরায়েল প্রসঙ্গ

চুক্তি আলোচনায় লেবাননের ভবিষ্যৎও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখতে তিনি ও ট্রাম্প একই অবস্থানে রয়েছেন।

অন্যদিকে হিজবুল্লাহর জ্যেষ্ঠ নেতা হাসান ফাদলাল্লাহ বলেছেন, তেহরান কোনো চুক্তি করলে সেখানে লেবাননের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার ওপর জোর দেবে বলে তাদের বিশ্বাস।

এদিকে দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি সামরিক উপস্থিতি অব্যাহত রয়েছে এবং নতুন করে বিমান হামলার খবরও পাওয়া গেছে। ফলে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি হলেও আঞ্চলিক উত্তেজনা পুরোপুরি প্রশমিত হবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।