০৭:৩২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়? ‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি ইসলামী ব্যাংকে এস আলম-সংশ্লিষ্ট ৮১.৯২ শতাংশ শেয়ার ফ্রিজের নির্দেশ হাইকোর্টের

ইশকুল (পর্ব-১০)

  • Sarakhon Report
  • ০৮:০০:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ অক্টোবর ২০২৪
  • 166
আর্কাদি গাইদার

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

ফাদার গেন্নাদি সেদিন আরও বললেন, ‘এই সমস্ত নীতিকথার বক্তব্য কী? প্রথম নীতিকথাটিতে এক অবাধ্য ছেলের কথা বলা হয়েছে। ছেলেটি বাপকে ছেড়ে বহুদিন এদিক-সেদিক ঘুরে বেড়াল, অবশেষে তাকে বাপের আশ্রয়ে ফিরে আসতে হল। তোমাদের যে-সব সহপাঠী জীবনের দুঃখকষ্ট সহ্য করায় অনভ্যস্ত হয়ে লুকিয়ে গৃহত্যাগ করেছে, স্বেচ্ছায় তারা যে-সর্বনাশের পথ বেছে নিয়েছে, সে- পথে চলতে গিয়ে তারা যে কত কষ্টে পড়বে সে কি আর বলতে? আমি তোমাদের আবার বলছি, তোমাদের মধ্যে কেউ যদি জান ঘরছাড়ারা কোথায় রয়েছে, তাহলে তাদের লিখে দাও তারা যেন ঘরে ফিরতে ভয় না পায়।
পিতৃপুরুষের বাস্তুভিটায় ফেরার সময় পার হয়ে যায় নি এখনও। মনে রেখো, প্রথম নীতিকথায় উড়নচণ্ডে ছেলে যখন ঘরে ফিরে এল, তার ধর্মভীরু, বাবা তাকে ধমক দিলেন না তখন, বরং তাকে চমৎকার সব জামাকাপড় পরতে দিলেন আর পরবের ছুটির দিনে লোকে যেমনটি করে তেমনই ভোজের আয়োজন করতে মোটাসোটা বাছুরটি জবাই করতে বললেন। তেমনই এই দুটি ঘরছাড়া ছেলের বাবা-মাও তারা ফিরে এলে তাদের সব কিছু ক্ষমা করে দেবেন আর দু-হাত বাড়িয়ে বুকে তুলে নেবেন তাদের।’
কথাগুলো কতখানি ঠিক সে-সম্বন্ধে আমার অবিশ্যি সন্দেহ ছিল। তুপিকভ সেই প্রথম শ্রেণীর ছাত্রটি ফের ঘরে ফিরে এলে তার বাবা-মা যে কী করবেন তা অবিশ্যি আমার জানা ছিল না। কিন্তু এ-বিষয়ে আমার বিন্দুমাত্র সন্দেহ ছিল না যে ছেলে ফিরে এলে রুটিওয়ালা প্লাগিন মোটেই মোটাসোটা বাহুর জবাই করতে বসবেন না, বরং নিজের পরনের বেল্ট খুলে কষে একচোট উত্তমমধ্যম লাগাবেন।
ফাদার গেয়াদি সেদিন আরও বলেছিলেন, ‘স্বাভাবিক গুণের বিকাশ সম্বন্ধে নীতিকথাটিতে বলা হয়েছে, কারো স্বাভাবিক গুণ কেউ যেন পাথর-চাপা দিয়ে না রাখে। তোমরাও এখানে নানা ধরনের বিদ্যা আহরণ করছ। স্কুলের পড়া শেষ করে প্রত্যেকে তোমরা নিজ নিজ গুণ, ইচ্ছে আর সামর্থ্য অনুযায়ী পেশা বেছে নেবে। ধরো, তোমাদের মধ্যে কেউ হবে মান্যগণ্য ব্যবসায়ী, কেউ ডাক্তার, আবার কেউ-বা সরকারী কর্মচারী।
তখন সকলেই তোমাদের খাতির করবে, প্রত্যেকে মনে- মনে বলবে: ‘হ্যাঁ, এই যোগ্য মানুষটি নিজ গুণ পাথর-চাপা দিয়ে রাখেন নি, বরং তাকে বাড়িয়ে তুলেছেন, আর তারই ফলে জীবনের সবকিছু সুখস্বাচ্ছন্দ্য এখন ভোগ করতে পারছেন। এ-সবই এ’র ন্যায্য পাওনা। কিন্তু’ এইবার ফাদার গেন্নাদি আকাশের দিকে দুই হাত তুলে বললেন, ‘কিন্তু, জিজ্ঞাসা করি, এই সব আর এদের মতো আরও অনেক ঘর-পালানের কী দশা হবে বলো তো? জীবনে যে-সুযোগসুবিধে এরা পেয়েছিল তা অবহেলায় পায়ে দলে জড়দেহ আর আত্মার পক্ষে সমান সর্বনাশা দুঃসাহসিক রোমাঞ্চের সন্ধানে এই যে এরা ঘর ছেড়ে পালিয়ে গেল, তাদের কী হবে?
জনপ্রিয় সংবাদ

রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়?

ইশকুল (পর্ব-১০)

০৮:০০:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ অক্টোবর ২০২৪
আর্কাদি গাইদার

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

ফাদার গেন্নাদি সেদিন আরও বললেন, ‘এই সমস্ত নীতিকথার বক্তব্য কী? প্রথম নীতিকথাটিতে এক অবাধ্য ছেলের কথা বলা হয়েছে। ছেলেটি বাপকে ছেড়ে বহুদিন এদিক-সেদিক ঘুরে বেড়াল, অবশেষে তাকে বাপের আশ্রয়ে ফিরে আসতে হল। তোমাদের যে-সব সহপাঠী জীবনের দুঃখকষ্ট সহ্য করায় অনভ্যস্ত হয়ে লুকিয়ে গৃহত্যাগ করেছে, স্বেচ্ছায় তারা যে-সর্বনাশের পথ বেছে নিয়েছে, সে- পথে চলতে গিয়ে তারা যে কত কষ্টে পড়বে সে কি আর বলতে? আমি তোমাদের আবার বলছি, তোমাদের মধ্যে কেউ যদি জান ঘরছাড়ারা কোথায় রয়েছে, তাহলে তাদের লিখে দাও তারা যেন ঘরে ফিরতে ভয় না পায়।
পিতৃপুরুষের বাস্তুভিটায় ফেরার সময় পার হয়ে যায় নি এখনও। মনে রেখো, প্রথম নীতিকথায় উড়নচণ্ডে ছেলে যখন ঘরে ফিরে এল, তার ধর্মভীরু, বাবা তাকে ধমক দিলেন না তখন, বরং তাকে চমৎকার সব জামাকাপড় পরতে দিলেন আর পরবের ছুটির দিনে লোকে যেমনটি করে তেমনই ভোজের আয়োজন করতে মোটাসোটা বাছুরটি জবাই করতে বললেন। তেমনই এই দুটি ঘরছাড়া ছেলের বাবা-মাও তারা ফিরে এলে তাদের সব কিছু ক্ষমা করে দেবেন আর দু-হাত বাড়িয়ে বুকে তুলে নেবেন তাদের।’
কথাগুলো কতখানি ঠিক সে-সম্বন্ধে আমার অবিশ্যি সন্দেহ ছিল। তুপিকভ সেই প্রথম শ্রেণীর ছাত্রটি ফের ঘরে ফিরে এলে তার বাবা-মা যে কী করবেন তা অবিশ্যি আমার জানা ছিল না। কিন্তু এ-বিষয়ে আমার বিন্দুমাত্র সন্দেহ ছিল না যে ছেলে ফিরে এলে রুটিওয়ালা প্লাগিন মোটেই মোটাসোটা বাহুর জবাই করতে বসবেন না, বরং নিজের পরনের বেল্ট খুলে কষে একচোট উত্তমমধ্যম লাগাবেন।
ফাদার গেয়াদি সেদিন আরও বলেছিলেন, ‘স্বাভাবিক গুণের বিকাশ সম্বন্ধে নীতিকথাটিতে বলা হয়েছে, কারো স্বাভাবিক গুণ কেউ যেন পাথর-চাপা দিয়ে না রাখে। তোমরাও এখানে নানা ধরনের বিদ্যা আহরণ করছ। স্কুলের পড়া শেষ করে প্রত্যেকে তোমরা নিজ নিজ গুণ, ইচ্ছে আর সামর্থ্য অনুযায়ী পেশা বেছে নেবে। ধরো, তোমাদের মধ্যে কেউ হবে মান্যগণ্য ব্যবসায়ী, কেউ ডাক্তার, আবার কেউ-বা সরকারী কর্মচারী।
তখন সকলেই তোমাদের খাতির করবে, প্রত্যেকে মনে- মনে বলবে: ‘হ্যাঁ, এই যোগ্য মানুষটি নিজ গুণ পাথর-চাপা দিয়ে রাখেন নি, বরং তাকে বাড়িয়ে তুলেছেন, আর তারই ফলে জীবনের সবকিছু সুখস্বাচ্ছন্দ্য এখন ভোগ করতে পারছেন। এ-সবই এ’র ন্যায্য পাওনা। কিন্তু’ এইবার ফাদার গেন্নাদি আকাশের দিকে দুই হাত তুলে বললেন, ‘কিন্তু, জিজ্ঞাসা করি, এই সব আর এদের মতো আরও অনেক ঘর-পালানের কী দশা হবে বলো তো? জীবনে যে-সুযোগসুবিধে এরা পেয়েছিল তা অবহেলায় পায়ে দলে জড়দেহ আর আত্মার পক্ষে সমান সর্বনাশা দুঃসাহসিক রোমাঞ্চের সন্ধানে এই যে এরা ঘর ছেড়ে পালিয়ে গেল, তাদের কী হবে?