০৩:১৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি ইসলামী ব্যাংকে এস আলম-সংশ্লিষ্ট ৮১.৯২ শতাংশ শেয়ার ফ্রিজের নির্দেশ হাইকোর্টের ফুলবাড়ীর ১০৯ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৭২টিতেই নেই প্রধান শিক্ষক, নৈশপ্রহরী শূন্য ৮০টিতে

ইশকুল (পর্ব-৪৬)

  • Sarakhon Report
  • ০৮:০০:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ নভেম্বর ২০২৪
  • 128

আর্কাদি গাইদার

ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ

মা আমাকে এক রকম কাপড় দিয়ে টিউনিক আর ট্রাউজার্স বানিয়ে দিলেন। কাপড়টাকে বলা হত শয়তানের চামড়া।

নির্ঘাত কাপড়টা শয়তানের পিঠের চামড়া থেকে তৈরি হয়েছিল তা না হলে একদিন মঠের ফলবাগানে ফল চুরি করতে গিয়ে প্রকান্ড, জবুথবু চেহারার এক সন্ন্যাসী লাঠি হাতে আমাদের তাড়া করলে পাঁচিল টপকে হাঁচড়পাঁচড় করে পালাতে গিয়ে আমার ট্রাউজার্স’ যখন একটা বড় পেরেকে আটকে গেল তখন শত টানাটানিতেও কাপড়টা ছিাড়ল না কেন। আর এর ফলে সেদিন পেরেকে ট্রাউজার্স বেধে আমি ঝুলতে থাকলুম আর সন্ন্যাসীটা বেশ আশ মিটিয়ে আমার পিঠে সজোরে গোটা দুই লাঠির ঘা লাগাল।

আরও একটা নতুনত্ব ঘটল জীবনে। আমাদের ইশকুলের সঙ্গে একজন সামরিক অফিসার যুক্ত হলেন। আমাদের জুটল সত্যিকার রাইফেলের মতো দেখতে সব কাঠের রাইফেল। তাই নিয়ে আমাদের সামরিক কুচকাওয়াজ শুরু হল।

এক পা-ওয়ালা সেই সৈনিকটি আমাদের চিঠি এনে দেবার পর বাবার কাছ থেকে আর একটিও চিঠি পাই নি। আমার ছোট্ট বোনটা সব সময়ে বাবার চিঠির অপেক্ষায় থাকত। ফেকার বাবাকে তাঁর ডাকপিওনের ব্যাগ নিয়ে রাস্তা দিয়ে যেতে দেখলেই আমার ছোট বোনটি জানলা দিয়ে বাইরে মাথা গলিয়ে রিট্রিনে গলায় ডাকাডাকি শুরু করত:

‘সেগে’ই-কাকা, বাবা কিছু পাঠিয়েছে?’

আর ওঁর কাছ থেকে সেই একই উত্তর মিলত:

‘না, খুকি, আজ তো আসে নি। তবে কাল নিশ্চই আসবে, দেখো।’ কাল- কাল কাল। সেই কাল কিন্তু আসত না কিছুতেই।

জনপ্রিয় সংবাদ

‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ

ইশকুল (পর্ব-৪৬)

০৮:০০:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ নভেম্বর ২০২৪

আর্কাদি গাইদার

ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ

মা আমাকে এক রকম কাপড় দিয়ে টিউনিক আর ট্রাউজার্স বানিয়ে দিলেন। কাপড়টাকে বলা হত শয়তানের চামড়া।

নির্ঘাত কাপড়টা শয়তানের পিঠের চামড়া থেকে তৈরি হয়েছিল তা না হলে একদিন মঠের ফলবাগানে ফল চুরি করতে গিয়ে প্রকান্ড, জবুথবু চেহারার এক সন্ন্যাসী লাঠি হাতে আমাদের তাড়া করলে পাঁচিল টপকে হাঁচড়পাঁচড় করে পালাতে গিয়ে আমার ট্রাউজার্স’ যখন একটা বড় পেরেকে আটকে গেল তখন শত টানাটানিতেও কাপড়টা ছিাড়ল না কেন। আর এর ফলে সেদিন পেরেকে ট্রাউজার্স বেধে আমি ঝুলতে থাকলুম আর সন্ন্যাসীটা বেশ আশ মিটিয়ে আমার পিঠে সজোরে গোটা দুই লাঠির ঘা লাগাল।

আরও একটা নতুনত্ব ঘটল জীবনে। আমাদের ইশকুলের সঙ্গে একজন সামরিক অফিসার যুক্ত হলেন। আমাদের জুটল সত্যিকার রাইফেলের মতো দেখতে সব কাঠের রাইফেল। তাই নিয়ে আমাদের সামরিক কুচকাওয়াজ শুরু হল।

এক পা-ওয়ালা সেই সৈনিকটি আমাদের চিঠি এনে দেবার পর বাবার কাছ থেকে আর একটিও চিঠি পাই নি। আমার ছোট্ট বোনটা সব সময়ে বাবার চিঠির অপেক্ষায় থাকত। ফেকার বাবাকে তাঁর ডাকপিওনের ব্যাগ নিয়ে রাস্তা দিয়ে যেতে দেখলেই আমার ছোট বোনটি জানলা দিয়ে বাইরে মাথা গলিয়ে রিট্রিনে গলায় ডাকাডাকি শুরু করত:

‘সেগে’ই-কাকা, বাবা কিছু পাঠিয়েছে?’

আর ওঁর কাছ থেকে সেই একই উত্তর মিলত:

‘না, খুকি, আজ তো আসে নি। তবে কাল নিশ্চই আসবে, দেখো।’ কাল- কাল কাল। সেই কাল কিন্তু আসত না কিছুতেই।