০৫:২৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়? ‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি ইসলামী ব্যাংকে এস আলম-সংশ্লিষ্ট ৮১.৯২ শতাংশ শেয়ার ফ্রিজের নির্দেশ হাইকোর্টের

ইশকুল (পর্ব-৬০)

  • Sarakhon Report
  • ০৮:০০:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২৪
  • 143

আর্কাদি গাইদার

অষ্টম পরিচ্ছেদ

শহরেও সে-সময়ে অদ্ভুত সব পরিবর্তন ঘটছিল। লোকসংখ্যা দেখতে দেখতে বেড়ে দ্বিগুণ হয়ে গেল। দোকানগুলোর সামনে ক্রেতার লাইন পাড়া ছাড়িয়ে লম্বা হয়ে উঠতে লাগল। সর্বত্রই লোকে গোল হয়ে ভিড় জমিয়ে দাঁড়াত, প্রতিটি রাস্তার মোড়ে জমত জটলা। অলৌকিক শক্তিসম্পন্ন অবতারদের প্রতিমূর্তি কাঁধে বয়ে একটার পর একটা ধর্মীয় শোভাযাত্রার আনাগোনা শুরু হল। হঠাৎ-হঠাৎ নানারকম আজগবি সব গুজব রটতে লাগল।

কখনও বা শোনা গেল, প্রাচীন খ্রীস্টধর্ম প্রবক্তারা সেরেঝা-নদীর ওপর-মুখে যে-সব হ্রদ আছে তাদের পারের বনে চলে যাচ্ছেন। আবার কখনও শোনা গেল, নদীর ভাঁটায় যে-সব বেদে বাস করে তারা নাকি জাল, অচল রুল চালাচ্ছে, আর ওই সব জাল রুলে বাজার ছেয়ে যাওয়ায় নাকি জিনিসপত্র এত আক্রা হয়ে উঠেছে। আবার একদিন এক রীতিমতো ভয়ের খবর রটল যে তার সামনের শুক্রবার রাত্রে ইহুদি ঠ্যাঙানো হবে, কারণ ওদের গুপ্তচরগিরি আর বিশ্বাসঘাতকতার জন্যেই নাকি লড়াই শেষ হতে চাইছে না।

হঠাৎ দেখা গেল, শহরটা ভবঘুরেতে ভরে গেছে। কোথা থেকে যে এল ওরা, ঈশ্বর জানেন। কেবল শোনা যেতে লাগল, এখানে কে বা কারা যেন একটা তালা ভেঙেছে, ওখানে একটা ফ্ল্যাটে সি’দ কেটে চুরি হয়ে গেছে, এই সব। শহরে ছোট একটা কসাক-বাহিনী মোতায়েন হয়ে গেল। গোমড়া-মুখো, কপালের ওপর চুল- দোলানো কসাকরা ঘন হয়ে সার বেধে বিকট চিৎকার আর হপহপ শব্দ করতে করতে যখন একবার রাস্তা দিয়ে ঘোড়া ছুটিয়ে যাচ্ছিল, সহ্য করতে না-পেরে মা তখন জানলার কাছ থেকে সরে এসে বলেছিলেন:

‘বহুদিন ওগুলোর দেখা পাই নি… সেই উনিশ শো পাঁচ সালের পর থেকে। আবার নেত্য শুরু করেছে এখন।’

বাবার কাছ থেকে কোনো খবর পাওয়া যাচ্ছিল না। আমার মনে মনে একটা সন্দেহ ছিল যে বাবা বোধহয় নিজনি নভগরোদের কাছে সর্মোভোতে আছেন। অবিশ্যি এটা নেহাতই একটা অনুমান ছিল মাত্র। চলে যাবার আগে বাবা মাকে তাঁর ভাই নিকোলাই সম্বন্ধে নানা কথা জিজ্ঞেস করছিলেন। আর নিকোলাই-মামা সর্মোভোর একটা গাড়ি তৈরির কারখানায় কাজ করতেন। এই সব থেকেই আমার ওই ধারণার উৎপত্তি। এক দিন- তখন শীত পড়ে গেছে তিঙ্কা কিন ইশকুলে আমার কাছে এসে একটু আড়ালে যেতে বলল। ওর রহস্যজনক হাবভাবে আমার যত না কৌতূহল হল তার চেয়ে অবাকই হয়েছিলুম বেশি। নেহাতই উদাসভাবে ওর পিছু পিছু ফাঁকা দেখে একটা কোণে গিয়ে হাজির হলুম।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়?

ইশকুল (পর্ব-৬০)

০৮:০০:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২৪

আর্কাদি গাইদার

অষ্টম পরিচ্ছেদ

শহরেও সে-সময়ে অদ্ভুত সব পরিবর্তন ঘটছিল। লোকসংখ্যা দেখতে দেখতে বেড়ে দ্বিগুণ হয়ে গেল। দোকানগুলোর সামনে ক্রেতার লাইন পাড়া ছাড়িয়ে লম্বা হয়ে উঠতে লাগল। সর্বত্রই লোকে গোল হয়ে ভিড় জমিয়ে দাঁড়াত, প্রতিটি রাস্তার মোড়ে জমত জটলা। অলৌকিক শক্তিসম্পন্ন অবতারদের প্রতিমূর্তি কাঁধে বয়ে একটার পর একটা ধর্মীয় শোভাযাত্রার আনাগোনা শুরু হল। হঠাৎ-হঠাৎ নানারকম আজগবি সব গুজব রটতে লাগল।

কখনও বা শোনা গেল, প্রাচীন খ্রীস্টধর্ম প্রবক্তারা সেরেঝা-নদীর ওপর-মুখে যে-সব হ্রদ আছে তাদের পারের বনে চলে যাচ্ছেন। আবার কখনও শোনা গেল, নদীর ভাঁটায় যে-সব বেদে বাস করে তারা নাকি জাল, অচল রুল চালাচ্ছে, আর ওই সব জাল রুলে বাজার ছেয়ে যাওয়ায় নাকি জিনিসপত্র এত আক্রা হয়ে উঠেছে। আবার একদিন এক রীতিমতো ভয়ের খবর রটল যে তার সামনের শুক্রবার রাত্রে ইহুদি ঠ্যাঙানো হবে, কারণ ওদের গুপ্তচরগিরি আর বিশ্বাসঘাতকতার জন্যেই নাকি লড়াই শেষ হতে চাইছে না।

হঠাৎ দেখা গেল, শহরটা ভবঘুরেতে ভরে গেছে। কোথা থেকে যে এল ওরা, ঈশ্বর জানেন। কেবল শোনা যেতে লাগল, এখানে কে বা কারা যেন একটা তালা ভেঙেছে, ওখানে একটা ফ্ল্যাটে সি’দ কেটে চুরি হয়ে গেছে, এই সব। শহরে ছোট একটা কসাক-বাহিনী মোতায়েন হয়ে গেল। গোমড়া-মুখো, কপালের ওপর চুল- দোলানো কসাকরা ঘন হয়ে সার বেধে বিকট চিৎকার আর হপহপ শব্দ করতে করতে যখন একবার রাস্তা দিয়ে ঘোড়া ছুটিয়ে যাচ্ছিল, সহ্য করতে না-পেরে মা তখন জানলার কাছ থেকে সরে এসে বলেছিলেন:

‘বহুদিন ওগুলোর দেখা পাই নি… সেই উনিশ শো পাঁচ সালের পর থেকে। আবার নেত্য শুরু করেছে এখন।’

বাবার কাছ থেকে কোনো খবর পাওয়া যাচ্ছিল না। আমার মনে মনে একটা সন্দেহ ছিল যে বাবা বোধহয় নিজনি নভগরোদের কাছে সর্মোভোতে আছেন। অবিশ্যি এটা নেহাতই একটা অনুমান ছিল মাত্র। চলে যাবার আগে বাবা মাকে তাঁর ভাই নিকোলাই সম্বন্ধে নানা কথা জিজ্ঞেস করছিলেন। আর নিকোলাই-মামা সর্মোভোর একটা গাড়ি তৈরির কারখানায় কাজ করতেন। এই সব থেকেই আমার ওই ধারণার উৎপত্তি। এক দিন- তখন শীত পড়ে গেছে তিঙ্কা কিন ইশকুলে আমার কাছে এসে একটু আড়ালে যেতে বলল। ওর রহস্যজনক হাবভাবে আমার যত না কৌতূহল হল তার চেয়ে অবাকই হয়েছিলুম বেশি। নেহাতই উদাসভাবে ওর পিছু পিছু ফাঁকা দেখে একটা কোণে গিয়ে হাজির হলুম।