উত্তর কোরিয়ার নাগরিকদের জন্য রাষ্ট্র অনুমোদিত বিনোদনের সুযোগ বাড়াতে একের পর এক উদ্যোগ নিচ্ছেন দেশটির নেতা কিম জং উন। সমুদ্র সৈকত রিসোর্ট থেকে শুরু করে বিলাসবহুল শপিং মল, দেশজুড়ে গড়ে উঠছে নতুন বিনোদনকেন্দ্র।
২০২৫ সালের গ্রীষ্মে চালু হওয়া ওনসান কালমা উপকূলীয় পর্যটন অঞ্চলে বছরের দ্বিতীয়ার্ধেই তিন লাখের বেশি দেশীয় পর্যটক ভ্রমণ করেছেন। চীন সীমান্তের কাছে সামজিয়নে গত ডিসেম্বরে পাঁচটি বিলাসবহুল হোটেল চালু হয়েছে, পাশাপাশি সেখানে একটি স্কি রিসোর্টের নির্মাণকাজও
নগর কেন্দ্রেও বিনোদনের জোয়ার
পিয়ংইয়ংয়ে গত বছর চালু হওয়া রাংনাং আয়েগুক কুমগাং সা
অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট
উত্তর কোরিয়ার অর্থনীতি ২০২৫ সালে তিন দশমিক পাঁচ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে, যা টানা তৃতীয় বছরের মতো তিন শতাংশের ওপরে রইল। আমদানিতেও উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গেছে, ম্যাসাজ যন্ত্রপাতি আমদানি চল্লিশ গুণ এবং ট্রেডমিল আমদানি ছয়শ শতাংশের বেশি বেড়েছে।
আয়ের উৎস প্রশ্নবিদ্ধ
এই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পেছনে ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরি, ইউক্রেন যুদ্ধে সেনা পাঠানো বাবদ আয়, এবং কয়লা ও খনিজ রপ্তানির মতো বিতর্কিত উৎস রয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সেনা পাঠানো বাবদ প্রায় চোদ্দ দশমিক চার বিলিয়ন ডলার আয়ের হিসাব দিয়েছেন বিশ্লেষকরা।
বিশেষজ্ঞের পর্যবেক্ষণ
ভিয়েনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রুডিগার ফ্রাংক বলেছেন, ভোগ সময় কিনে দেয়, কিন্তু চিরকালের জন্য আনুগত্য কিনে দেয় না। তার এই মন্তব্য উত্তর কোরিয়ার এই বিনোদন-নির্ভর কৌশলের রাজনৈতিক সীমাবদ্ধতাকেই 
আঞ্চলিক প্রেক্ষাপট
উত্তর কোরিয়ার এই পরিবর্তন উপদ্বীপের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলছে বলে কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।
রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার হিসাব
বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করেন, ভোগ্যপণ্য ও বিনোদনের সুযোগ বাড়িয়ে কিম জং উন তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ক্রমবর্ধমান অসন্তোষ প্রশমনের চেষ্টা করছেন। তবে এই কৌশল দীর্ঘমেয়াদে কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করছে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখার সক্ষমতার ওপর, যা মূলত অস্বচ্ছ ও নিষেধাজ্ঞা-সংশ্লিষ্ট আয়ের উৎসের ওপর নির্ভরশীল।
তরুণ প্রজন্মের প্রত্যাশা
উত্তর কোরিয়ার তরুণ প্রজন্ম ক্রমেই বহির্বিশ্বের জীবনযাত্রা সম্পর্কে অবগত হয়ে উঠছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন, যা সরকারের ওপর ভোগ্যপণ্য ও বিনোদনের সুযোগ সম্প্রসারণের চাপ তৈরি করছে। তবে এই পরিবর্তন রাজনৈতিক স্বাধীনতা বা তথ্যপ্রবাহের ক্ষেত্রে কোনো শিথিলতা নিয়ে আসেনি বলে মানবাধিকার পর্যবেক্ষকরা উল্লেখ করেছেন। কিম জং উনের এই কৌশল মূলত অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং শাসনের প্রতি আনুগত্য সুসংহত করারই একটি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন কোরিয়া বিশেষজ্ঞরা, যদিও তা কতদিন কার্যকর থাকবে সে বিষয়ে তারা নিশ্চিত নন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















