০৯:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ভারতে পাচার হওয়া পাঁচ ওরাংওটাং শাবক ফেরাতে চায় ইন্দোনেশিয়া শিক্ষায় শীর্ষে সিঙ্গাপুর ও চীন, বৈশ্বিক গড় স্কোরে রেকর্ড পতন উত্তর কোরিয়ায় বিনোদনে জোর কিম জং উনের, বাড়ছে বিলাসী জীবনযাত্রা ইরানের হামলার পর এআই ডেটা সেন্টার পরিকল্পনায় বড় পরিবর্তন আনছে আমিরাত মোখা বিমানবন্দরে সৌদি হামলা, বাব আল-মানদাবে কৌশলগত দ্বীপ দখল হুতিদের ট্রাম্পকে সামনে রেখে মধ্যবর্তী নির্বাচনের বাজি, উদ্বিগ্ন রিপাবলিকানরাও মালয়েশিয়ায় আগাম নির্বাচনের ডাক উমনোর, ক্ষমতাসীন জোটে ফাটলের শঙ্কা চশমাতেই এআই, অনুবাদ ও ৩০৭ ইঞ্চির পর্দা—রায়নিওর নতুন চমক ৯/১১ হামলার ২৫ বছর: শোক, স্মৃতি আর প্রজন্মজুড়ে বয়ে চলা ক্ষত ঢাকার বাজারে বাড়ল আটা-ময়দা ও সুগন্ধি চালের দাম, তীব্র সয়াবিন তেল সংকট

ভারতে পাচার হওয়া পাঁচ ওরাংওটাং শাবক ফেরাতে চায় ইন্দোনেশিয়া

ভারতের ওড়িশা রাজ্যের বালেশ্বর জেলার একটি বনাঞ্চল থেকে উদ্ধার হওয়া পাঁচটি ওরাংওটাং শাবক ফিরিয়ে নিতে উদ্যোগ নিয়েছে ইন্দোনেশিয়া সরকার। গত ৮ সেপ্টেম্বর শাবকগুলো উদ্ধার করা হয়।

ইন্দোনেশিয়ার বনমন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ ও পররাষ্ট্র সহযোগিতা বিভাগের প্রধান রিস্তিয়ান্তো প্রিবাদি জানিয়েছেন, শাবকগুলো সুমাত্রা প্রজাতির ওরাংওটাং বলে প্রাথমিকভাবে সন্দেহ করা হচ্ছে। এদের বয়স আনুমানিক দেড় বছরের কম এবং শারীরিক অবস্থা ভালো বলে জানা গেছে।

কীভাবে শনাক্ত হলো পাচার

ওরাংওটাং কেবল ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা ও কালিমান্তান দ্বীপেই পাওয়া যায়। ফলে ভারতে এদের উপস্থিতি স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দেয় যে এগুলো একটি আন্তর্জাতিক বন্যপ্রাণী পাচার চক্রের মাধ্যমে পাচার হয়েছে। বর্তমানে শাবকগুলোকে ভুবনেশ্বরের নন্দনকানন প্রাণী উদ্যানে যত্নের জন্য রাখা হয়েছে।

প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া

ইন্দোনেশিয়ার বনমন্ত্রণালয় ভারতের সাইটিস কর্তৃপক্ষ, দুই দেশের কূটনৈতিক মিশন, বিআরআইএন গবেষণা সংস্থা এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার চেষ্টা করছে। প্রিবাদি জানিয়েছেন, প্রজাতি শনাক্তকরণ এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং বৈজ্ঞানিক কর্তৃপক্ষ ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে প্রজাতি ও জিনগত উৎস নিশ্চিত করবে।

দেশে ফেরার পর করণীয়

ইন্দোনেশিয়ায় ফেরত আনার পর শাবকগুলোকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা, কোয়ারেন্টিন এবং আচরণগত মূল্যায়নের মধ্য দিয়ে যেতে হবে, যার পর পুনর্বাসন ও বনে অবমুক্তকরণের সম্ভাবনা বিবেচনা করা হবে।

বেসরকারি সংস্থার সহায়তা

লিউজার ইকোসিস্টেম ফাউন্ডেশন, ইন্দোনেশিয়ান ওয়াইল্ডলাইফ নেটওয়ার্ক, সেন্টার ফর অরাংওটাং প্রোটেকশন এবং ইন্দোনেশিয়ান অরাংওটাং ফোরামসহ চারটি স্থানীয় সংগঠন প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

 

পাচারচক্রের কোন রুটে খালি মায়ের কোল?

বৈশ্বিক বন্যপ্রাণী পাচার সংকট

এই ঘটনা বিশ্বব্যাপী বিপন্ন প্রাণী পাচারের ক্রমবর্ধমান সমস্যাকেই সামনে নিয়ে এলো। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আন্তর্জাতিক সীমান্ত পেরিয়ে বিপন্ন প্রাণী পাচার ঠেকাতে আরও কঠোর নজরদারি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজন।

সাইটিস কাঠামোর ভূমিকা

বিপন্ন প্রজাতির আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণকারী সাইটিস চুক্তির আওতায় ওরাংওটাংয়ের যেকোনো ধরনের আন্তর্জাতিক স্থানান্তর কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। এই ধরনের ঘটনা সাইটিস কাঠামোর তত্ত্বাবধানে থাকা দেশগুলোর মধ্যে তথ্য বিনিময় ও যৌথ তদন্তের গুরুত্বকেই নতুন করে সামনে নিয়ে আসে, বিশেষত দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াজুড়ে সক্রিয় পাচার নেটওয়ার্কগুলো মোকাবিলায়।

দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় পাচার নেটওয়ার্ক

বন্যপ্রাণী পাচার নেটওয়ার্কগুলো সাধারণত একাধিক দেশের সীমান্ত ব্যবহার করে কাজ করে, যা তদন্ত ও প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া জটিল করে তোলে বলে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন। ওরাংওটাংয়ের মতো বিপন্ন প্রজাতির শাবক আন্তর্জাতিক কালোবাজারে বিপুল অর্থে বিক্রি হয় বলে জানা যায়, যা পাচারকারীদের জন্য এই ব্যবসাকে লাভজনক করে তুলেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, উৎস দেশ থেকে গন্তব্য দেশ পর্যন্ত পুরো সরবরাহ শৃঙ্খল চিহ্নিত করা ছাড়া এই ধরনের পাচার পুরোপুরি বন্ধ করা কঠিন, তাই আঞ্চলিক পর্যায়ে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছেন তারা। উদ্ধারকৃত শাবকগুলোর সুস্থভাবে দেশে ফেরা নিশ্চিত করতে দুই দেশের সরকারের মধ্যে দ্রুত ও স্বচ্ছ সমন্বয় অত্যন্ত জরুরি বলেও সংরক্ষণবাদীরা মন্তব্য করেছেন। ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনা প্রতিরোধে সীমান্ত এলাকায় বন্যপ্রাণী পরিবহনের ওপর কঠোর নজরদারি বাড়ানোর সুপারিশও করেছেন তারা। বিমানবন্দর ও স্থলবন্দরে পশু পাচার শনাক্তে প্রশিক্ষিত কর্মী নিয়োগের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারতে পাচার হওয়া পাঁচ ওরাংওটাং শাবক ফেরাতে চায় ইন্দোনেশিয়া

ভারতে পাচার হওয়া পাঁচ ওরাংওটাং শাবক ফেরাতে চায় ইন্দোনেশিয়া

০৯:০৪:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভারতের ওড়িশা রাজ্যের বালেশ্বর জেলার একটি বনাঞ্চল থেকে উদ্ধার হওয়া পাঁচটি ওরাংওটাং শাবক ফিরিয়ে নিতে উদ্যোগ নিয়েছে ইন্দোনেশিয়া সরকার। গত ৮ সেপ্টেম্বর শাবকগুলো উদ্ধার করা হয়।

ইন্দোনেশিয়ার বনমন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ ও পররাষ্ট্র সহযোগিতা বিভাগের প্রধান রিস্তিয়ান্তো প্রিবাদি জানিয়েছেন, শাবকগুলো সুমাত্রা প্রজাতির ওরাংওটাং বলে প্রাথমিকভাবে সন্দেহ করা হচ্ছে। এদের বয়স আনুমানিক দেড় বছরের কম এবং শারীরিক অবস্থা ভালো বলে জানা গেছে।

কীভাবে শনাক্ত হলো পাচার

ওরাংওটাং কেবল ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা ও কালিমান্তান দ্বীপেই পাওয়া যায়। ফলে ভারতে এদের উপস্থিতি স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দেয় যে এগুলো একটি আন্তর্জাতিক বন্যপ্রাণী পাচার চক্রের মাধ্যমে পাচার হয়েছে। বর্তমানে শাবকগুলোকে ভুবনেশ্বরের নন্দনকানন প্রাণী উদ্যানে যত্নের জন্য রাখা হয়েছে।

প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া

ইন্দোনেশিয়ার বনমন্ত্রণালয় ভারতের সাইটিস কর্তৃপক্ষ, দুই দেশের কূটনৈতিক মিশন, বিআরআইএন গবেষণা সংস্থা এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার চেষ্টা করছে। প্রিবাদি জানিয়েছেন, প্রজাতি শনাক্তকরণ এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং বৈজ্ঞানিক কর্তৃপক্ষ ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে প্রজাতি ও জিনগত উৎস নিশ্চিত করবে।

দেশে ফেরার পর করণীয়

ইন্দোনেশিয়ায় ফেরত আনার পর শাবকগুলোকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা, কোয়ারেন্টিন এবং আচরণগত মূল্যায়নের মধ্য দিয়ে যেতে হবে, যার পর পুনর্বাসন ও বনে অবমুক্তকরণের সম্ভাবনা বিবেচনা করা হবে।

বেসরকারি সংস্থার সহায়তা

লিউজার ইকোসিস্টেম ফাউন্ডেশন, ইন্দোনেশিয়ান ওয়াইল্ডলাইফ নেটওয়ার্ক, সেন্টার ফর অরাংওটাং প্রোটেকশন এবং ইন্দোনেশিয়ান অরাংওটাং ফোরামসহ চারটি স্থানীয় সংগঠন প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

 

পাচারচক্রের কোন রুটে খালি মায়ের কোল?

বৈশ্বিক বন্যপ্রাণী পাচার সংকট

এই ঘটনা বিশ্বব্যাপী বিপন্ন প্রাণী পাচারের ক্রমবর্ধমান সমস্যাকেই সামনে নিয়ে এলো। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আন্তর্জাতিক সীমান্ত পেরিয়ে বিপন্ন প্রাণী পাচার ঠেকাতে আরও কঠোর নজরদারি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজন।

সাইটিস কাঠামোর ভূমিকা

বিপন্ন প্রজাতির আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণকারী সাইটিস চুক্তির আওতায় ওরাংওটাংয়ের যেকোনো ধরনের আন্তর্জাতিক স্থানান্তর কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। এই ধরনের ঘটনা সাইটিস কাঠামোর তত্ত্বাবধানে থাকা দেশগুলোর মধ্যে তথ্য বিনিময় ও যৌথ তদন্তের গুরুত্বকেই নতুন করে সামনে নিয়ে আসে, বিশেষত দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াজুড়ে সক্রিয় পাচার নেটওয়ার্কগুলো মোকাবিলায়।

দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় পাচার নেটওয়ার্ক

বন্যপ্রাণী পাচার নেটওয়ার্কগুলো সাধারণত একাধিক দেশের সীমান্ত ব্যবহার করে কাজ করে, যা তদন্ত ও প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া জটিল করে তোলে বলে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন। ওরাংওটাংয়ের মতো বিপন্ন প্রজাতির শাবক আন্তর্জাতিক কালোবাজারে বিপুল অর্থে বিক্রি হয় বলে জানা যায়, যা পাচারকারীদের জন্য এই ব্যবসাকে লাভজনক করে তুলেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, উৎস দেশ থেকে গন্তব্য দেশ পর্যন্ত পুরো সরবরাহ শৃঙ্খল চিহ্নিত করা ছাড়া এই ধরনের পাচার পুরোপুরি বন্ধ করা কঠিন, তাই আঞ্চলিক পর্যায়ে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছেন তারা। উদ্ধারকৃত শাবকগুলোর সুস্থভাবে দেশে ফেরা নিশ্চিত করতে দুই দেশের সরকারের মধ্যে দ্রুত ও স্বচ্ছ সমন্বয় অত্যন্ত জরুরি বলেও সংরক্ষণবাদীরা মন্তব্য করেছেন। ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনা প্রতিরোধে সীমান্ত এলাকায় বন্যপ্রাণী পরিবহনের ওপর কঠোর নজরদারি বাড়ানোর সুপারিশও করেছেন তারা। বিমানবন্দর ও স্থলবন্দরে পশু পাচার শনাক্তে প্রশিক্ষিত কর্মী নিয়োগের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।