০৬:৫১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়? ‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি ইসলামী ব্যাংকে এস আলম-সংশ্লিষ্ট ৮১.৯২ শতাংশ শেয়ার ফ্রিজের নির্দেশ হাইকোর্টের

এশিয়ায় ‘সুপার এল নিনো’ শঙ্কা: জ্বালানি সংকটের মাঝে খরা, বন্যা ও খাদ্যঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কা

এশিয়ার ওপর একসঙ্গে চাপ তৈরি করছে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতজনিত জ্বালানি সংকট এবং সম্ভাব্য শক্তিশালী এল নিনো। আবহাওয়াবিদরা সতর্ক করছেন, এই পরিস্থিতি বিদ্যুৎ চাহিদা বাড়ানো থেকে শুরু করে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়া, কৃষিতে ক্ষতি এবং খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে ফেলার মতো বহুমাত্রিক প্রভাব ফেলতে পারে। সারাক্ষণ রিপোর্ট

এল নিনো একটি প্রাকৃতিক জলবায়ু ঘটনা, যা বিশ্বজুড়ে বাতাসের প্রবাহ, বায়ুচাপ এবং বৃষ্টিপাতের ধরণ বদলে দেয়। জাতিসংঘের আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, মে থেকে জুলাইয়ের মধ্যেই এটির বিকাশ ঘটতে পারে। প্রাথমিক ইঙ্গিত বলছে, এবারের ঘটনাটি বেশ শক্তিশালী হতে পারে—যদিও বিজ্ঞানীরা আনুষ্ঠানিকভাবে ‘সুপার এল নিনো’ শব্দটি ব্যবহার করেন না।

আবহাওয়ার ধরণ বদলের প্রভাব

এল নিনো সাধারণত বৃষ্টিপাতের স্বাভাবিক ধারা বদলে দেয়। যেমন, ইন্দোনেশিয়ায় যে বৃষ্টি হওয়ার কথা, তা সাগরের দিকে সরে যায়। ফলে সেখানে খরা ও বনভূমিতে আগুনের ঝুঁকি বেড়ে যায়। অতীতে ১৯৯৭-৯৮ সালের এল নিনোতে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়ে বিশাল এলাকা পুড়ে গিয়েছিল এবং ব্যাপক দূষণ ছড়িয়েছিল।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতিও সেই সময়ের মতো শক্তিশালী হতে পারে, যদিও এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। কিছু অঞ্চলে বৃষ্টিপাত কমে যেতে পারে, আবার কোথাও অতিবৃষ্টি ও বন্যার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

Super El Nino' Raises Fears For Asia Reeling From Middle East Conflict -  Barron's

জ্বালানি খাতে চাপ বাড়ার আশঙ্কা

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে জ্বালানি সরবরাহ ইতোমধ্যেই সংকুচিত। হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে তেল ও গ্যাস পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় এশিয়ার বহু দেশ সরবরাহ সংকটে পড়েছে। এই অবস্থায় তাপমাত্রা বাড়লে বিদ্যুতের চাহিদা আরও বাড়বে, বিশেষ করে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের জন্য।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানি সরবরাহ কমে গেলে রেশনিং, চাহিদা নিয়ন্ত্রণ এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রম কমে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, যা সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

জলবিদ্যুৎ ও কৃষিতে ঝুঁকি

এল নিনোর ফলে খরা দেখা দিলে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাপকভাবে কমে যেতে পারে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অনেক দেশই জলবিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল। অতীতে চীনের সিচুয়ান প্রদেশে তীব্র গরমে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন অর্ধেকেরও বেশি কমে গিয়েছিল, যার প্রভাব পড়েছিল শিল্প ও গৃহস্থালিতে।

একইসঙ্গে কৃষি খাতও বড় ঝুঁকিতে পড়তে পারে। সার ও জ্বালানির দাম বাড়ায় উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। যদি ফসলের দাম সেই অনুপাতে না বাড়ে, তাহলে কৃষকের লাভ কমে যাবে, ফলে সার ব্যবহার কমে যেতে পারে এবং উৎপাদনও কমে যেতে পারে। এতে খাদ্যদ্রব্যের দাম বাড়বে এবং খাদ্য নিরাপত্তা আরও দুর্বল হবে।

El Niño is back: It's time to worry – POLITICO

বন্যা ও অতিবৃষ্টির সম্ভাবনা

এল নিনো শুধু খরা নয়, কিছু অঞ্চলে অতিবৃষ্টি ও বন্যার কারণও হতে পারে। বিশেষ করে দক্ষিণ চীনের ধান উৎপাদনে এর প্রভাব পড়তে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তাপপ্রবাহ ও আকস্মিক ভারী বৃষ্টির ঘটনা আরও ঘন ঘন ঘটছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

প্রস্তুতির ওপর জোর

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের চরম আবহাওয়া মোকাবিলায় জ্বালানি ব্যবস্থাকে আরও বৈচিত্র্যময় ও টেকসই করতে হবে। সৌর ও বায়ু শক্তির মতো বিকল্প ব্যবস্থার পাশাপাশি শক্তি সঞ্চয় প্রযুক্তি ব্যবহার করলে ভবিষ্যৎ ঝুঁকি মোকাবিলা সহজ হবে।

এই প্রেক্ষাপটে স্পষ্ট হচ্ছে, এল নিনোর সম্ভাব্য প্রভাব শুধু আবহাওয়ায় সীমাবদ্ধ নয়—এটি অর্থনীতি, জ্বালানি, কৃষি এবং খাদ্য নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোকে একসঙ্গে চাপে ফেলতে পারে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়?

এশিয়ায় ‘সুপার এল নিনো’ শঙ্কা: জ্বালানি সংকটের মাঝে খরা, বন্যা ও খাদ্যঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কা

১১:৩৭:০৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬

এশিয়ার ওপর একসঙ্গে চাপ তৈরি করছে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতজনিত জ্বালানি সংকট এবং সম্ভাব্য শক্তিশালী এল নিনো। আবহাওয়াবিদরা সতর্ক করছেন, এই পরিস্থিতি বিদ্যুৎ চাহিদা বাড়ানো থেকে শুরু করে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়া, কৃষিতে ক্ষতি এবং খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে ফেলার মতো বহুমাত্রিক প্রভাব ফেলতে পারে। সারাক্ষণ রিপোর্ট

এল নিনো একটি প্রাকৃতিক জলবায়ু ঘটনা, যা বিশ্বজুড়ে বাতাসের প্রবাহ, বায়ুচাপ এবং বৃষ্টিপাতের ধরণ বদলে দেয়। জাতিসংঘের আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, মে থেকে জুলাইয়ের মধ্যেই এটির বিকাশ ঘটতে পারে। প্রাথমিক ইঙ্গিত বলছে, এবারের ঘটনাটি বেশ শক্তিশালী হতে পারে—যদিও বিজ্ঞানীরা আনুষ্ঠানিকভাবে ‘সুপার এল নিনো’ শব্দটি ব্যবহার করেন না।

আবহাওয়ার ধরণ বদলের প্রভাব

এল নিনো সাধারণত বৃষ্টিপাতের স্বাভাবিক ধারা বদলে দেয়। যেমন, ইন্দোনেশিয়ায় যে বৃষ্টি হওয়ার কথা, তা সাগরের দিকে সরে যায়। ফলে সেখানে খরা ও বনভূমিতে আগুনের ঝুঁকি বেড়ে যায়। অতীতে ১৯৯৭-৯৮ সালের এল নিনোতে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়ে বিশাল এলাকা পুড়ে গিয়েছিল এবং ব্যাপক দূষণ ছড়িয়েছিল।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতিও সেই সময়ের মতো শক্তিশালী হতে পারে, যদিও এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। কিছু অঞ্চলে বৃষ্টিপাত কমে যেতে পারে, আবার কোথাও অতিবৃষ্টি ও বন্যার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

Super El Nino' Raises Fears For Asia Reeling From Middle East Conflict -  Barron's

জ্বালানি খাতে চাপ বাড়ার আশঙ্কা

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে জ্বালানি সরবরাহ ইতোমধ্যেই সংকুচিত। হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে তেল ও গ্যাস পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় এশিয়ার বহু দেশ সরবরাহ সংকটে পড়েছে। এই অবস্থায় তাপমাত্রা বাড়লে বিদ্যুতের চাহিদা আরও বাড়বে, বিশেষ করে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের জন্য।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানি সরবরাহ কমে গেলে রেশনিং, চাহিদা নিয়ন্ত্রণ এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রম কমে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, যা সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

জলবিদ্যুৎ ও কৃষিতে ঝুঁকি

এল নিনোর ফলে খরা দেখা দিলে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাপকভাবে কমে যেতে পারে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অনেক দেশই জলবিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল। অতীতে চীনের সিচুয়ান প্রদেশে তীব্র গরমে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন অর্ধেকেরও বেশি কমে গিয়েছিল, যার প্রভাব পড়েছিল শিল্প ও গৃহস্থালিতে।

একইসঙ্গে কৃষি খাতও বড় ঝুঁকিতে পড়তে পারে। সার ও জ্বালানির দাম বাড়ায় উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। যদি ফসলের দাম সেই অনুপাতে না বাড়ে, তাহলে কৃষকের লাভ কমে যাবে, ফলে সার ব্যবহার কমে যেতে পারে এবং উৎপাদনও কমে যেতে পারে। এতে খাদ্যদ্রব্যের দাম বাড়বে এবং খাদ্য নিরাপত্তা আরও দুর্বল হবে।

El Niño is back: It's time to worry – POLITICO

বন্যা ও অতিবৃষ্টির সম্ভাবনা

এল নিনো শুধু খরা নয়, কিছু অঞ্চলে অতিবৃষ্টি ও বন্যার কারণও হতে পারে। বিশেষ করে দক্ষিণ চীনের ধান উৎপাদনে এর প্রভাব পড়তে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তাপপ্রবাহ ও আকস্মিক ভারী বৃষ্টির ঘটনা আরও ঘন ঘন ঘটছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

প্রস্তুতির ওপর জোর

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের চরম আবহাওয়া মোকাবিলায় জ্বালানি ব্যবস্থাকে আরও বৈচিত্র্যময় ও টেকসই করতে হবে। সৌর ও বায়ু শক্তির মতো বিকল্প ব্যবস্থার পাশাপাশি শক্তি সঞ্চয় প্রযুক্তি ব্যবহার করলে ভবিষ্যৎ ঝুঁকি মোকাবিলা সহজ হবে।

এই প্রেক্ষাপটে স্পষ্ট হচ্ছে, এল নিনোর সম্ভাব্য প্রভাব শুধু আবহাওয়ায় সীমাবদ্ধ নয়—এটি অর্থনীতি, জ্বালানি, কৃষি এবং খাদ্য নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোকে একসঙ্গে চাপে ফেলতে পারে।