০৭:৫৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়? ‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি ইসলামী ব্যাংকে এস আলম-সংশ্লিষ্ট ৮১.৯২ শতাংশ শেয়ার ফ্রিজের নির্দেশ হাইকোর্টের

এসঅ্যান্ডপি’র সতর্কবার্তা: বাংলাদেশের ঋণমানের পূর্বাভাস ‘নেতিবাচক’

বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি সার্বভৌম ঋণমানের পূর্বাভাস ‘স্থিতিশীল’ থেকে ‘নেতিবাচক’ করেছে আন্তর্জাতিক ঋণমান নির্ধারণকারী সংস্থা এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল রেটিংস। দেশের ব্যাংকিং খাতের দীর্ঘস্থায়ী দুর্বলতা, সরকারের সীমিত আর্থিক সক্ষমতা, জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা এবং বাড়তে থাকা বাণিজ্যঝুঁকিকে এর প্রধান কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে।

সোমবার প্রকাশিত এক মূল্যায়ন প্রতিবেদনে সংস্থাটি বলেছে, আর্থিক খাতের ভারসাম্যহীনতা, সরকারের রাজস্ব আদায়ের সীমাবদ্ধতা এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির অনিশ্চয়তা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারকে দীর্ঘায়িত করতে পারে। একই সঙ্গে আগামী কয়েক বছরে সামষ্টিক অর্থনীতিতে ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

অর্থনীতিতে কাঠামোগত চাপ

এসঅ্যান্ডপি’র মূল্যায়নে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে মাথাপিছু আয় কম থাকা, দুর্বল রাজস্ব সংগ্রহ ব্যবস্থা, ঋণ পরিশোধের বাড়তি ব্যয় এবং প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক নানা সীমাবদ্ধতা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়েছে।

দেশের বৈদেশিক স্থিতিশীলতা অনেকটাই নির্ভর করবে প্রবাসী আয়, তৈরি পোশাক রপ্তানির ধারাবাহিক পুনরুদ্ধার এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের আর্থিক সহায়তা অব্যাহত থাকার ওপর।

প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৫ শতাংশে সীমিত থাকার পূর্বাভাস

আগামী তিন বছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি গড়ে প্রায় ৪ দশমিক ৫ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে এসঅ্যান্ডপি। ঐতিহাসিক প্রবৃদ্ধির তুলনায় এই হার কম।

ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ কমানো ও পুনর্গঠনের চলমান উদ্যোগ, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক সংকটের অবশিষ্ট প্রভাব এবং জ্বালানি সরবরাহ ও বৈশ্বিক তৈরি পোশাকের চাহিদা নিয়ে অনিশ্চয়তাকে এর পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে।

উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানি সরবরাহের সীমাবদ্ধতা মানুষের ক্রয়ক্ষমতার ওপর চাপ তৈরি করছে। ফলে দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা স্বাভাবিক গতিতে ফিরতে পারছে না। শ্রমের সহজলভ্যতার কারণে তৈরি পোশাক খাতে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা থাকলেও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রপ্তানি প্রবৃদ্ধির গতি ছিল ধীর।

বৈদেশিক বাণিজ্যে বাড়ছে চাপ

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যনীতির পরিবর্তনকেও বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করেছে সংস্থাটি। যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কনীতির কারণে বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশের পণ্যে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের বিষয়টি রপ্তানিনির্ভর অর্থনীতির সামনে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

এসঅ্যান্ডপি’র মতে, আগামী ১২ থেকে ১৮ মাসে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক সংঘাত, বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামের অস্থিরতা এবং দেশের ব্যাংকিং খাতের কাঠামোগত চাপ বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির গতি ও বৈদেশিক তারল্য পরিস্থিতিকে আরও দুর্বল করতে পারে।

ঋণমান আরও কমার ঝুঁকি

আগামী দুই থেকে তিন বছরে বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি যদি সমপর্যায়ের অন্যান্য দেশের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়, তাহলে ঋণমান আরও কমানোর ঝুঁকি রয়েছে। একইভাবে চলতি হিসাবে ঘাটতি বাড়লে বা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে গেলে পরিস্থিতি আরও চাপের মুখে পড়তে পারে।

এর আগে মে মাসে আরেক আন্তর্জাতিক ঋণমান নির্ধারণকারী সংস্থা ফিচ রেটিংসও বাংলাদেশের সার্বভৌম ঋণমানের পূর্বাভাস ‘স্থিতিশীল’ থেকে ‘নেতিবাচক’ করেছিল। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ঝুঁকি ও আঞ্চলিক অনিশ্চয়তাকে তখন গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল।

এসঅ্যান্ডপি’র সর্বশেষ মূল্যায়ন বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ব্যাংকিং খাতের সংস্কার, রাজস্ব আদায় বাড়ানো, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বৈদেশিক বাণিজ্যে স্থিতিশীলতা ফেরানোর গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিল।

জনপ্রিয় সংবাদ

রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়?

এসঅ্যান্ডপি’র সতর্কবার্তা: বাংলাদেশের ঋণমানের পূর্বাভাস ‘নেতিবাচক’

০৮:০৩:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি সার্বভৌম ঋণমানের পূর্বাভাস ‘স্থিতিশীল’ থেকে ‘নেতিবাচক’ করেছে আন্তর্জাতিক ঋণমান নির্ধারণকারী সংস্থা এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল রেটিংস। দেশের ব্যাংকিং খাতের দীর্ঘস্থায়ী দুর্বলতা, সরকারের সীমিত আর্থিক সক্ষমতা, জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা এবং বাড়তে থাকা বাণিজ্যঝুঁকিকে এর প্রধান কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে।

সোমবার প্রকাশিত এক মূল্যায়ন প্রতিবেদনে সংস্থাটি বলেছে, আর্থিক খাতের ভারসাম্যহীনতা, সরকারের রাজস্ব আদায়ের সীমাবদ্ধতা এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির অনিশ্চয়তা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারকে দীর্ঘায়িত করতে পারে। একই সঙ্গে আগামী কয়েক বছরে সামষ্টিক অর্থনীতিতে ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

অর্থনীতিতে কাঠামোগত চাপ

এসঅ্যান্ডপি’র মূল্যায়নে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে মাথাপিছু আয় কম থাকা, দুর্বল রাজস্ব সংগ্রহ ব্যবস্থা, ঋণ পরিশোধের বাড়তি ব্যয় এবং প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক নানা সীমাবদ্ধতা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়েছে।

দেশের বৈদেশিক স্থিতিশীলতা অনেকটাই নির্ভর করবে প্রবাসী আয়, তৈরি পোশাক রপ্তানির ধারাবাহিক পুনরুদ্ধার এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের আর্থিক সহায়তা অব্যাহত থাকার ওপর।

প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৫ শতাংশে সীমিত থাকার পূর্বাভাস

আগামী তিন বছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি গড়ে প্রায় ৪ দশমিক ৫ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে এসঅ্যান্ডপি। ঐতিহাসিক প্রবৃদ্ধির তুলনায় এই হার কম।

ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ কমানো ও পুনর্গঠনের চলমান উদ্যোগ, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক সংকটের অবশিষ্ট প্রভাব এবং জ্বালানি সরবরাহ ও বৈশ্বিক তৈরি পোশাকের চাহিদা নিয়ে অনিশ্চয়তাকে এর পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে।

উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানি সরবরাহের সীমাবদ্ধতা মানুষের ক্রয়ক্ষমতার ওপর চাপ তৈরি করছে। ফলে দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা স্বাভাবিক গতিতে ফিরতে পারছে না। শ্রমের সহজলভ্যতার কারণে তৈরি পোশাক খাতে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা থাকলেও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রপ্তানি প্রবৃদ্ধির গতি ছিল ধীর।

বৈদেশিক বাণিজ্যে বাড়ছে চাপ

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যনীতির পরিবর্তনকেও বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করেছে সংস্থাটি। যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কনীতির কারণে বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশের পণ্যে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের বিষয়টি রপ্তানিনির্ভর অর্থনীতির সামনে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

এসঅ্যান্ডপি’র মতে, আগামী ১২ থেকে ১৮ মাসে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক সংঘাত, বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামের অস্থিরতা এবং দেশের ব্যাংকিং খাতের কাঠামোগত চাপ বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির গতি ও বৈদেশিক তারল্য পরিস্থিতিকে আরও দুর্বল করতে পারে।

ঋণমান আরও কমার ঝুঁকি

আগামী দুই থেকে তিন বছরে বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি যদি সমপর্যায়ের অন্যান্য দেশের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়, তাহলে ঋণমান আরও কমানোর ঝুঁকি রয়েছে। একইভাবে চলতি হিসাবে ঘাটতি বাড়লে বা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে গেলে পরিস্থিতি আরও চাপের মুখে পড়তে পারে।

এর আগে মে মাসে আরেক আন্তর্জাতিক ঋণমান নির্ধারণকারী সংস্থা ফিচ রেটিংসও বাংলাদেশের সার্বভৌম ঋণমানের পূর্বাভাস ‘স্থিতিশীল’ থেকে ‘নেতিবাচক’ করেছিল। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ঝুঁকি ও আঞ্চলিক অনিশ্চয়তাকে তখন গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল।

এসঅ্যান্ডপি’র সর্বশেষ মূল্যায়ন বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ব্যাংকিং খাতের সংস্কার, রাজস্ব আদায় বাড়ানো, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বৈদেশিক বাণিজ্যে স্থিতিশীলতা ফেরানোর গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিল।